প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুড়িগঙ্গার তীরে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য ১৫ দিনে অপসারণের নির্দেশ হাইকোর্টের
বিশেষ প্রতিবেদক ||
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে জমে থাকা প্লাস্টিকসহ সব ধরনের বর্জ্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাজধানীর লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ইসলামবাগ এলাকার নদীতীর থেকে এসব বর্জ্য অপসারণ করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের পর চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ বন্ধে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে হাইকোর্ট বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশনায় বুড়িগঙ্গার তীরে প্লাস্টিকসহ যেকোনো ধরনের বর্জ্য ফেলে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়।তবে আদালতের ওই নির্দেশনা থাকার পরও নদীর তীরে বর্জ্য জমে থাকার বিষয়টি সম্প্রতি গণমাধ্যমে উঠে আসে। গত ১৯ আগস্ট ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ইসলামবাগ এলাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে শত শত প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য পড়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুনপ্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন এসব বর্জ্য নদীর তীরে পড়ে থাকলে একপর্যায়ে তা পানিতে মিশে বুড়িগঙ্গার দূষণ আরও বাড়াতে পারে এবং আদালতের আগের নির্দেশনা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এইচআরপিবির পক্ষে গত ৩০ আগস্ট হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত বর্জ্য অপসারণের এ নির্দেশ দেন।আবেদনকারী হলেন এইচআরপিবির পক্ষে মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী। মামলায় নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা জেলা প্রশাসকসহ মোট ১৩ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, বুড়িগঙ্গার পানি দূষণের কারণে ঢাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এইচআরপিবির দায়ের করা মামলায় নদীর পানি দূষণ বন্ধে হাইকোর্ট এর আগে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে শত শত প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত নদীর পানিতে পড়ে দূষণ আরও বাড়াবে।আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট নাছরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) খান জিয়াউর রহমান।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত