প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
‘আমার পাঁচ বছরের ছেলেটাও মায়ের সঙ্গে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিল, আমি এখন কাকে সান্ত্বনা দেব’
বিশেষ প্রতিবেদক ||
‘আমার পাঁচ বছরের ছেলেটাও মায়ের সঙ্গে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিল। এখন আমি কাকে সান্ত্বনা দেব?’ স্ত্রী ও একমাত্র শিশুসন্তানকে হারিয়ে এভাবেই বুকভাঙা আহাজারি করছিলেন নুর আলম। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে তাঁর স্ত্রী ফারিয়া কবীর (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ফায়িজান আহম্মেদের। আগুন থেকে বাঁচতে মা-ছেলে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি কেউই।একসঙ্গে বেড়াতে গিয়ে মা-ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায়। যে পরিবারে ছিল ভ্রমণের আনন্দ আর একসঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন, সেই পরিবারেই এখন নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা নুর আলমের কাছে যেন সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়েছে।নুর আলম চুয়াডাঙ্গায় ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। চাকরির সুবাদে গত আট বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় বসবাস করছিলেন।নুর আলম বলেন, ‘গত ১৪ অক্টোবর বেড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা কক্সবাজারে যায়। সেখানে আমার স্ত্রী ও পাঁচ বছরের ছেলে ছিল। আমি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করি। তাদের কাছ থেকে শুনেছি, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমার স্ত্রী ও ছেলে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিল। এখন আমি কাকে সান্ত্বনা দেব?’শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগলে প্রাণ হারান ফারিয়া ও তাঁর শিশুসন্তান। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর নিজেদের রক্ষায় টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই আশ্রয়ও তাঁদের বাঁচাতে পারেনি।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৪ অক্টোবর কক্সবাজারে যান ফারিয়া ও তাঁর ছেলে। ফারিয়ার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তবে তাঁরা চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় বসবাস করতেন।স্ত্রী-সন্তানকে হারানোর এই শোক কীভাবে সামলাবেন, সেই উত্তর নেই নুর আলমের কাছে। তাঁর বুকভাঙা প্রশ্ন-‘এখন আমি কাকে সান্ত্বনা দেব?
সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত