প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষার্থী পাঠানো ও ইনভেস্টর ভিসার আড়ালে আব্দুল জলিলের অর্থ পাচার !
বিশেষ প্রতিবেদক ||
স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি ব্যবসা ও বিদেশে ইনভেস্টর ভিসা প্রক্রিয়ায় সহায়তার আড়ালে বিদেশে অবস্থানরত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে মো. আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। তিনি শেখ হাসিনা ফাউন্ডেশনের সভাপতি, কুমিল্লা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহকারী এবং কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন।অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী পাঠানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে দুবাই, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যে ইনভেস্টর ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কার্যক্রম নিয়েও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুর-১১ ও বনানী এবং কুমিল্লায় পরিচালিত তিনটি অফিসের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেন আব্দুল জলিল। এ কাজে এইমস এবং জিএসআই—গ্লোবাল স্টাডি অ্যান্ড ইমিগ্রেশন নামের দুটি প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হয় বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং টিউশন ফি-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে বলে।আব্দুল জলিলের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও টিউশন ফি-সংক্রান্ত লেনদেনও এ কার্যক্রমের অংশ। অভিযোগকারীদের দাবি, এই ব্যবসায়িক কাঠামোর আড়ালে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল জলিল তার আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। তবে অন্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষক, এখন কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত নই।’বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অর্থ পাচারের অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি। এ সময় তিনি দম্ভ করে বলেন, ‘আমার কাছে সব সাংবাদিক আসে। আমি তাদের বিজ্ঞাপন দিই। আপনি চাইলে দেখতে পারেন।’
সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত