প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মৃত ব্যক্তির টিপসই জাল করে জমি দখলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪
বিশেষ প্রতিবেদক ||
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মৃত ব্যক্তির টিপসই জাল করে বণ্টননামা দলিল তৈরির মাধ্যমে ১০ শতক বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলার বাদীকে পুলিশের সামনে হত্যার হুমকি এবং জামিনে বের হয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকার আহম্মদ মিঞার ছেলে মো. ওমর ফারুক, আবু তাহের লিটন, আবদুল কাদেরের ছেলে মাসুদ পারভেজ শাহেদ এবং আবদুল নবির ছেলে মো. নাঈম উদ্দিন।সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার রাতে সোনাইছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল দলিল সৃজনের মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’মামলার এজাহার ও চট্টগ্রাম জেলা সিআইডির অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে বাদী নুরুল ইসলামের বাবা মৃত আবদুল হকের টিপসই জাল করে একটি বণ্টননামা দলিল তৈরি করেন। ওই দলিলে কুমিরা মৌজার ১০ শতক বসতভিটার জমি আসামিদের নামে দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে ওই দলিলের ভিত্তিতে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭৯৪৮ নম্বরের বণ্টননামা দলিলটি তৈরি করা হয়। এতে জমির মালিক মৃত আবদুল হককে চতুর্থ পক্ষ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে তিনি ওই সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না এবং দলিলে কোনো স্বাক্ষর বা টিপসই দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সিআইডির অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলিলে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে আবদুল হকের পাসপোর্টে থাকা স্বাক্ষরেরও গুরুতর অমিল পাওয়া গেছে। তার সম্মতি ছাড়া দলিলটি তৈরি করা হয়েছে বলেও অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, দলিলটি তৈরির পর দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। পরে ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আবদুল হক মারা যাওয়ার পর ওই দলিল প্রকাশ্যে এনে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়। দলিলের তৃতীয় সাক্ষী মো. সাইফুলকে ওয়ারিশি আপস-বণ্টনের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। আর দ্বিতীয় সাক্ষী মাসুদ পারভেজ শাহেদের নাম দলিলে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার না করে ‘মো. শাহেদ’ লেখা হয়। এতে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের দেওয়া একটি জবাবেও দলিলটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দাখিল করা ওই জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বণ্টননামা দলিলে আবদুল হকের কোনো স্বাক্ষর বা সম্মতি ছিল না।মামলাটির বিস্তারিত অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করে চট্টগ্রাম জেলা সিআইডি। গত ২৭ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর ৩১ আগস্ট আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।মামলার বাদী নুরুল ইসলামের অভিযোগ, চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জামিনে বের হয়ে তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তারা।নুরুল ইসলাম বলেন, জাল দলিলের মাধ্যমে পারিবারিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা নিয়ে মামলা করার পর থেকেই তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আসামিরা জামিনে বের হলে তার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত