প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
দোহাজারী–চৌকিদার ফাঁড়ি সড়ক প্রশস্তকরণে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ
মোঃ আয়ুব মিয়াজী,, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ||
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় দোহাজারী বাজার থেকে চৌকিদার ফাঁড়ি হয়ে লালুটিয়া–ভোমাংহাট সড়কের ৪ হাজার ৯৪০ মিটার বা প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশ প্রশস্তকরণ ও পুনর্বাসনে ৫ কোটি ৫১ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৪ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে সড়কটির সংশ্লিষ্ট অংশ ১৮ ফুট প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু হতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে। এতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে সাঙ্গু নদীর ওপর চৌকিদার ফাঁড়ি সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে জারি করা চিঠিতে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প দুটির প্রাক্কলন অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।অনুমোদিত প্রাক্কলন অনুযায়ী, সড়কের ৬০০ মিটার থেকে ৩ হাজার মিটার পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ মিটার অংশের প্রশস্তকরণ ও পুনর্বাসনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫৩৮ টাকা। এ কাজের জন্য নির্ধারিত সময় ১৮০ দিন। অন্যদিকে, ৩ হাজার মিটার থেকে ৫ হাজার ৫৪০ মিটার পর্যন্ত ২ হাজার ৫৪০ মিটার অংশের কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৭৬ হাজার ৩০৭ টাকা। এ অংশের কাজও ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ জানান, দোহাজারী বাজার থেকে চৌকিদার ফাঁড়ি পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৫৪০ মিটার। এর মধ্যে প্রথম ৬০০ মিটার ইতোমধ্যে ১৮ ফুট প্রশস্ত করা আছে। বাকি অংশও ১৮ ফুট প্রশস্ত করা হবে।তিনি বলেন, “আজকে আমাদের কাজের এস্টিমেট অনুমোদন হয়েছে। এরপর দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। অনুমোদনের পর দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করতে আনুমানিক এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হবে। এরপর দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।উপজেলা প্রকৌশলী আরও জানান, প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নেই। বর্তমানে বিদ্যমান সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করার কাজই এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত। অন্যান্য কাজের জন্য পৃথকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে।প্রকল্প দুটির প্রাক্কলিত ব্যয়ে পার্থক্যের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশে আগে থেকেই নির্মিত হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সড়কের পরিমাণে তারতম্য রয়েছে। কোথাও সড়কের দুই পাশে চার ফুট করে মোট আট ফুট এবং কোথাও দুই ফুট করে মোট চার ফুট অংশে এইচবিবি রয়েছে।তার ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কের শুরুর দিকে আগে থেকে এইচবিবি করা অংশ বেশি থাকায় সেখানে ব্যয় তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, শেষের দিকে এইচবিবি করা অংশ কম থাকায় সেখানে নতুন করে কাজের পরিমাণ বেশি এবং প্রাক্কলিত ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি হয়েছে।সড়কটি প্রশস্ত ও সংস্কার করা হলে দোহাজারী বাজার থেকে চৌকিদার ফাঁড়ি হয়ে লালুটিয়া–ভোমাংহাটগামী যানবাহন চলাচলে উন্নতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন এখনো দরপত্র ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত