প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কয়রায় চাকরি ছেড়ে জুয়ার মাস্টার এজেন্ট, অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: ||
খুলনার কয়রা উপজেলায় ব্র্যাকের চাকরি ছেড়ে অনলাইন জুয়ার মাস্টার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার লেনদেনের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে তিনি একাধিক স্থানে জমি কিনেছেন এবং পুরোনো ঘরের জায়গায় নির্মাণ করেছেন পাকা ভবন।আব্দুস সামাদ কয়রা উপজেলার উত্তর মদিনাবাদ ফুলতলা গ্রামের মজিবার রহমান গাজীর ছেলে। তিনি একসময় ব্র্যাকে চাকরি করলেও পরে অনলাইন জুয়ার একটি প্ল্যাটফর্মের মাস্টার এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন।সম্প্রতি জুয়ার অর্থ লেনদেন নিয়ে আব্দুস সামাদের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে তাঁকে একজন জুয়ার গ্রাহকের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কয়েক বছর আগেও সামাদের পরিবারের বাড়িতে টিনের ঘর ছিল। বর্তমানে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় জমি কেনার খবরও তাঁরা পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, এসব সম্পদের সঙ্গে জুয়ার ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থের সম্পর্ক রয়েছে। আব্দুস সামাদ তাঁর ০১৯৩৯৬০৭১৪৫ ফোন নাম্বার হতে জুয়ায় লেনদেন ও যোগাযোগ করেন বলে জানা গেছে।ফুলতলা বাজারের চায়ের দোকানদার নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, তিনি জুয়ার মাস্টার এজেন্ট ছিলেন। আমার দোকানে বসেও লেনদেন করতো।তবে বর্তমানে তিনি ওই কাজ করছেন কি না, তা আমার জানা নেই।অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সামাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমি মাস্টার এজেন্ট ছিলাম, তবে এখন আর কাজ করি না। আমার যা আয় করার, তা করেছি। এখন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।এলাকার কয়েকজন তরুণ অভিযোগ করেন, তাঁর এজেন্টদের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় যুক্ত হয়ে তাঁরা টাকা হারিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কেউ কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বর্তমানে আব্দুস সামাদ কোনো নিয়মিত চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। তবে তিনি জুয়ার এজেন্ট হিসেবে এখনও যুক্ত আছেন বলে তাঁরা জানান।এদিকে, আব্দুস সামাদকে এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই দফায় আটক করেছিল বলে স্থানীয় কয়েকজন বলেন। তবে তাঁদের অভিযোগ, পরে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল । কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, ডিআইজি ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে থানার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “জুয়া ও মাদকের কোনো স্থান নেই। যারা জুয়া বা মাদকের সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমি এক মাস হলো কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি। আসার পর জুয়ার ঘটনায় চারটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে এবং এ অভিযান চলমান থাকবে।স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে শুধু ছোট এজেন্ট নয়, এর সঙ্গে যুক্ত মাস্টার এজেন্ট ও অর্থের লেনদেনের নেটওয়ার্কও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত