প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
লামা প্রতিনিধি: ||
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফি আদায় এবং বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের গত ১০ বছরের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে অডিট করা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বহিরাগত শিক্ষার্থীকে বোর্ড ফি দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী ও হাজিরা-সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।এ ছাড়া প্রশংসাপত্র ও সনদপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে নেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি এডমিট কার্ড, ব্যবহারিক পরীক্ষা, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, ভর্তি, উপস্থিতি ফরম এবং নবম-দশম শ্রেণির কোচিংয়ের নামেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সম্পদ নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালে একটি ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া, ২০২০ ও ২০২৬ সালে পুরোনো টিন বিক্রি, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য ও পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া এবং ২০২৬ সালে বিদ্যালয়ের ১৩ বস্তা পুরোনো বই গায়েব করার ঘটনা ঘটেছে।অভিযোগকারীদের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। গত ৫ আগস্টের পর থেকে কমিটির কোনো সভা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের মাঠ ও সামগ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়ের গত ১০ বছরের ব্যাংক হিসাব, আয়-ব্যয়, আদায়কৃত ফি, সম্পদ বিক্রির তথ্য, বোর্ড-সংক্রান্ত লেনদেন এবং পরিচালনা কমিটির কার্যবিবরণী নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, একটি অভিযোগ হয়েছে। তা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ব্যাংক হিসাব, আয়-ব্যয়ের বিবরণী ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত