প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
লোহাগাড়ায় ৭৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে হরিলুট, বরাদ্দের একাংশে লাগেনি কাজের ছোঁয়া
মোহাম্মদ মিজান, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) ||
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাগজের কলমে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প শেষ দেখানোর পাঁয়তারা করা হলেও বাস্তবে সড়কের জামালের জমির নিকট হতে জিয়াবুলের বাড়ি পর্যন্ত বড় অংশের কাজ একেবারেই করা হয়নি।আর যেটুকু কাজ করা হয়েছে, তাতেও চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি টাকা হরিলুটের উৎসব চলছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।সরকারি নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ প্রকল্পের আওতায় লোহাগাড়া উপজেলার জন্য এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্যাকেজ নং- W66DDM HBB-01 এর অধীনে আমিরাবাদ ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দীনের ব্রিকফিল্ডের বিপরীত পাশ হতে হাছির পাড়া জামাল হোসেনের পুকুর পর্যন্ত এবং বাম দিকে জামালের জমির নিকট হতে জিয়াবুলের বাড়ি পর্যন্ত মোট ৮০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করণের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই নির্দিষ্ট বরাদ্দে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭ লাখ ৩ হাজার টাকা।স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সড়কটি সংস্কারের জন্য এত বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ হলেও তার কোনো সুফল তারা পাচ্ছেন না। ৮০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কের একটি সুনির্দিষ্ট অংশ ( জামালের জমির নিকট হতে জিয়াউলের বাড়ি পর্যন্ত)কাজ একদমই স্পর্শ করা হয়নি। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো টাকাটাই হরিলুট করা হয়েছে। সড়কের যে অংশে ( শাইরের পাড়া গিয়াস উদ্দীনের ব্রিকফিল্ডের বিপরীত পাশ হতে হাছির পাড়া জামাল হোসেনের পুকুর পর্যন্ত কাজ হয়েছে, সেখানেও ইট ও বালুর গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় আজ সড়কের বেহাল দশা।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট চক্র এই নয়ছয় কাজ শেষ করেছে।সরেজমিনে ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা আশা করেছিলাম দীর্ঘ ২০/৩০ বছরের পরিত্যক্ত রাস্তাটি নতুন করে কাজ হলে আমাদের যাতায়াতের কষ্ট কমবে। কিন্তুু বাজেটের এই সড়কটির কোন কাজের ছোঁয়াই লাগেনি৷ যা হয়েছে কাজের নামে চরম ফাঁকিবাজি হয়েছে। ইতি মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে ও গর্ত তৈরি হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আমাদের সড়কটি চাই।স্হানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদল নেতা এসএস দেলোয়ারের কাছে প্রতিবেদক সড়কের বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, এলাকার সড়কের নতুন করে যখন কাজ হচ্ছিলো তখন একজন গ্রামের বাসিন্দা হিসাবে উপস্থিত ছিলাম৷ যে সড়কটি হওয়ার কথা কিন্তুু হয়নি বলে জানাচ্ছেন এই ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই৷ আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, এই সড়ক সংস্কার বিষয়ে তার কোন কিছু জানা নেই৷ তাই বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না বলে প্রতিবেদকে জানান৷ সড়ক সংস্কারণ বিষয় জানতে কন্ট্রাক্টর মোহাম্মদ শফিকের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি মুঠোফোনে প্রতিবেদক কে জানায়, নির্দিষ্ট সীমানা পর্যন্ত কাজ করেছি৷ আপনার এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে হলে (পিআইও) নাহিদ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করুন৷ যার অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ( পিআইও) মোহাম্মদ নাহিদ আহমেদ প্রতিবেদক কে বলেন, এতোদিন পরে কেনো এই সড়ক নিয়ে আপনারা তদন্ত করছেন, এই তথ্য আপনাদের কে দিয়েছে বলে উল্টো প্রশ্ন করে। পরে বরাদ্দের যে সড়কের কথা আপনি বলছেন তা ১বছর আগেই করা হয়েছে যার ছবি, ভিডিও তার কাছে জমা আছে বলে জানান । এসময়ে তিনি আরো বলেন, আমি নিজেই এই সড়কের বিল পরিশোধ করছি। প্রতিবেদক যখন তার উত্তরে১বছর আগে তো নই, স্হানীয়রা জানিয়েছে সড়কটি ৪/৫মাস আগেই করেছে । তখন ঐ কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে বলে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন, মুখের দুই সাইডে দুইটা থাপ্পড় মারি৷ এক পর্যায়ে তিনি কাজ যে হয়েছে তার তথ্য ৪/৫ দিন পর দিবেন বলে জানান৷ যার রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে৷এই বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বায়েজিদ বিন আখন্দ (ইউএনও)'র সাথে বৃহস্পতিবার বেলা ১১:৩০ মিনিটের সময়ে সরাসরি তার অফিস কার্যালয়ে গেলে দেখা মিলেনি৷ যার কারণে বক্তব্য যুক্ত করা সম্ভব হয়নি৷
সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত