প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সীমান্ত সুরক্ষায় নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির নতুন ২ টিওবিা
আনোয়ার হোছাইন,, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি: ||
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নবনির্মিত দুটি ট্যাকটিক্যাল অপারেটিং বেস (টিওবি) উদ্বোধন করা হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, চোরাচালান দমন, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং আভিযানিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ‘আরচ্ছতলা টিলা’ ও ‘হাতুরানী টিলা’ এলাকায় এসব টিওবি স্থাপন করা হয়েছে।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২ টায় কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন, বিএসপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্মিত টিওবি দুটি উদ্বোধন করেন।বিজিবি সূত্র জানায়, ঘুমধুম সীমান্তের এ এলাকায় আগে দায়িত্বপূর্ণ বিওপিগুলো সীমান্ত থেকে তুলনামূলক দূরে থাকায় সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি, আধিপত্য বজায় রাখা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও অন্যান্য আভিযানিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। সীমান্তের কাছাকাছি নতুন টিওবি স্থাপনের ফলে এসব চ্যালেঞ্জ অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছে বিজিবি।রিজিয়ন সদর দপ্তর, কক্সবাজার ও সেক্টর সদর দপ্তর, রামুর দিকনির্দেশনায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) টিওবি দুটির নির্মাণকাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করে। উদ্বোধনের পর রিজিয়ন কমান্ডার সেখানে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও অপারেশনাল কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।বিজিবির সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন দুটি টিওবির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি ও নজরদারি আরও জোরদার হবে। বিশেষ করে সীমান্তের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত টহল পরিচালনা এবং চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে এসব টিওবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় টিওবি স্থাপনের ফলে বিজিবির টহল ও নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সক্ষমতা বাড়বে।রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের সীমান্তে সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় বিজিবিকে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।বিজিবি সূত্র আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করে আসছে। নতুন দুটি টিওবি চালুর ফলে এসব কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও আস্থা আরও বাড়বে বলে আশা করছে বিজিবি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেক্টর সদর দপ্তর, রামুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার-উল-আলম, এসজিপি, বিজিবিএম, পিবিজিএম এবং কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি ছাড়াও বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত