জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

শিক্ষাঙ্গন

অর্ধেকের বেশি মুসলিম শিক্ষার্থী, তবু এক যুগ ধরে নেই ইসলাম ধর্মের শিক্ষক

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে মুসলিম শিক্ষার্থীরা। উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৈক্ষ্যং মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মংপাখই হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মের শিক্ষক নেই বলে জানা গেছে।এর মধ্যে বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১৩১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮১ জনই মুসলিম। অর্থাৎ বিদ্যালয়টির প্রায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হলেও সেখানে এক যুগের বেশি সময় ধরে কোনো মুসলিম বা ইসলাম ধর্মের শিক্ষক স্থায়ীভাবে কর্মরত নেই। ফলে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।সরেজমিনে বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকসহ বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের সবাই মারমা সম্প্রদায়ের। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টিতে কোনো মুসলিম শিক্ষক স্থায়ীভাবে কর্মরত নেই। সংশ্লিষ্টরা জানান, মাঝে মধ্যে প্রেষণে কোনো মুসলিম শিক্ষক এলেও কয়েক মাসের মধ্যে তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুইচিং মারমা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ায় তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে একজন শিক্ষক প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির সমাধান না হওয়ায় শিক্ষক হিসেবেও তাঁরা বিব্রত। দ্রুত একজন স্থায়ী ইসলাম ধর্মের শিক্ষক দেওয়ার দাবি জানান তিনি।বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মের নিয়মিত ক্লাস হয় না। নিজেদের পড়াশোনা এবং বাড়িতে অভিভাবকদের সহায়তায় তাদের বিষয়টি পড়তে হয়। শিক্ষক না থাকায় অনেক বিষয় বুঝতে সমস্যা হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও তাদের সমস্যায় পড়তে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল কাদের বলেন, একটি বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ার পরও সেখানে এক যুগের বেশি সময় ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, শুধু বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, উপজেলায় এমন আরও কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় বিষয়ভিত্তিক ও ধর্মীয় শিক্ষক নিশ্চিত করা হলে একদিকে যেমন শিক্ষার মান বাড়বে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতিও দূর হবে

অর্ধেকের বেশি মুসলিম শিক্ষার্থী, তবু এক যুগ ধরে নেই ইসলাম ধর্মের শিক্ষক