নাইক্ষ্যংছড়িতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রস্তুত বিজিবি-পুলিশ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। উপজেলার তিনটি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও দুই প্লাটুন বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের সার্বজনীন হরি মন্দির, তুমব্রু বাজার শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির ও দক্ষিণ বাইশারী শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।দুর্গাপূজা উপলক্ষে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির, পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স তাঁর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নাইক্ষ্যংছড়ি কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও দক্ষিণ বাইশারী শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।১১ বিজিবি জানায়, গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত দুটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত দুই প্লাটুন বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির পিএসসি ইঞ্জিনিয়ার্স বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পূজার নিরাপত্তায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধের পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক।নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা লক্ষ্মণ কান্তি দে বলেন, পূজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতেও প্রশাসন সহায়তা করছে। প্রশাসনের এ সহযোগিতায় তাঁরা সন্তুষ্ট। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, উপজেলার তিনটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং সচেতনতার মাধ্যমে দুর্গাপূজাকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এ চেতনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা স্থানীয়দের।