জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

আর্কাইভ দেখুন

কক্সবাজার রামুতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

কক্সবাজার রামুতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

কক্সবাজারের রামুতে ট্রেনে কাটা পড়ে মো. আবদুল্লাহ (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত আবদুল্লাহ ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল ছবুর ড্রাইভারের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে তিনি ট্রেনের নিচে কাটা পড়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


নৈশভোজে মুরগির মাংস বেশি খাওয়ায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নৈশভোজে মুরগির মাংস বেশি খাওয়ায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নৈশভোজে মুরগির মাংসের টুকরা বেশি খাওয়া নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে তর্কের জেরে একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে অন্যজনের বিরুদ্ধে। ভারতের কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।নিহত ব্যক্তির নাম সীতারাম। তিনি উত্তর প্রদেশের পিলিভিত জেলার কবিরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। সীতারাম মুদালাগি এলাকার প্রিয়া স্টিল কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং চাকরিসূত্রে মুদালাগির হুনাশ্যাল পিজি গ্রামে থাকতেন।অভিযুক্ত অরুণ কুমারও একই গ্রামের বাসিন্দা এবং সীতারামের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।জানা গেছে, দুই বন্ধু একসঙ্গে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। এ সময় একজন অন্যজনের তুলনায় বেশি মুরগির মাংসের টুকরা খাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তর্ক উত্তপ্ত বাগ্‌বিতণ্ডায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অরুণ কুমার একটি ছুরি বের করে সীতারামের বুকে আঘাত করেন।পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন অরুণ। আহত সীতারামকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, একটি ভবন থেকে পড়ে সীতারাম আহত হয়েছেন।তবে তার বক্তব্যে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে অরুণ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সীতারামকে ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করেন অরুণ কুমার। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সীতারামের মৃত্যু হয়।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে নারী-শিশুসহ আহত ৮

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে নারী-শিশুসহ আহত ৮

মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর সংযোগ ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে যাওয়ার ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুর্ঘটনাকবলিত ‘নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেস’ বাসের নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, মাগুরা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকাগামী ‘নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেস’ বাসটি মাওয়া ঢালে পৌঁছালে অতিরিক্ত ও বেপরোয়া গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বাসটি সড়কের পাশের রেলিংয়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে মহাসড়কে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের ভেতর থেকে আটকে পড়া আহতদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।


ত্রিশালে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৪

ত্রিশালে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৪

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন।সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কের ঠাকুরবাড়ি মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে।দুর্ঘটনায় আহত চারজন হলেন : ফয়জুল (৩৪), রুবেল (৩০), হৃদয় (২২) ও নাবিল (২২)। তাদের মধ্যে ফয়জুল ও রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ত্রিশালের দিকে যাচ্ছিল। সিএনজিটি ঠাকুরবাড়ি মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা ফয়জুল ও রুবেলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহাম্মদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’এদিকে দুর্ঘটনার পর সড়কটিতে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি: উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী

গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি: উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে তিনি এ তথ্য জানান।এর আগে, রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে। এ সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন।গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।এ ঘটনায় পরদিন দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।


মেট্রোরেল ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা, সিঁড়ি নামলেই ছিনতাইয়ের ফাঁদ

মেট্রোরেল ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা, সিঁড়ি নামলেই ছিনতাইয়ের ফাঁদ

/ মেট্রোরেল ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ /ভেতরে দুর্বল নজরদারিসিঁড়ি নামলেই ছিনতাইয়ের ফাঁদ* জনবল ঘাটতির কারণে তিন শিফটে পূর্ণাঙ্গ নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না* সিঁড়ি থেকে ফুটপাত পর্যন্ত অংশটি অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হয়ে উঠছে* যাত্রী বের হওয়ার পথ সংকুচিত হচ্ছে এবং অপরাধের পর পালানোর সুযোগ বাড়ছেমেট্রোরেলের প্ল্যাটফর্মে ঢোকার মুখে নিয়মিত তল্লাশির নিয়ম থাকলেও আদতে ভেতরে প্রবেশের প্রতিটি ধাপেই চোখে পড়ে শিথিল চিত্র। প্রবেশপথের আর্চওয়ে বিকল, লাগেজ পরীক্ষার আধুনিক সরঞ্জামের সংকট আর পুলিশের চরম জনবল ঘাটতিতে প্রবেশপথ, টিকিট কাউন্টার ও প্ল্যাটফর্ম—কোথাওই নিয়মিত তল্লাশি ও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু ভেতরে এই দুর্বল নজরদারির ধাক্কা সামলে ট্রেন থেকে নেমে একজন যাত্রী যখন স্টেশনের সিঁড়ি দিয়ে নিচের সড়কে পৌঁছাচ্ছেন, তখন তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে নতুন ও সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি—ছিনতাই, পকেটমারি এবং অবৈধ যানবাহনের চরম বিশৃঙ্খলা।সাম্প্রতিক কয়েকটি অপরাধমূলক ঘটনা এবং মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তাকাঠামোর নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আধুনিক গণপরিবহনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং স্টেশনের বাইরের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে একটি বড় ধরনের 'নিরাপত্তা শূন্যতা' তৈরি হয়েছে। একদিকে স্টেশনের অভ্যন্তরে পুলিশ সদস্যের ঘাটতি ও নড়বড়ে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, অন্যদিকে স্টেশনের নিচে নেমেই হকারদের ফুটপাত দখল, রিকশা-অটোরিকশার স্থায়ী জটলা এবং ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারী চক্রের উপস্থিতি। ফলে রাজধানীবাসীর স্বস্তির বাহনটি ব্যবহারের সময় প্ল্যাটফর্ম থেকে সড়ক পর্যন্ত পুরো পথেই তৈরি হচ্ছে অজানা আতঙ্ক।মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনী কতটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে, তা স্পষ্ট হয় সম্প্রতি মতিঝিল স্টেশনের নিচের ঘটনার মধ্য দিয়ে। গত জুলাই মাসে ব্যস্ত এই স্টেশনের নিচের ফুটপাতে ছাতার ভেতর রাখা একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। স্টেশনের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য বিষয়টি প্রথম আঁচ করতে পেরে এমআরটি পুলিশ ও স্টেশন কন্ট্রোলারকে জানালে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। ঘটনাটি ট্রেনের ভেতরে না ঘটলেও এটি এমন এক স্থানে ঘটেছিল, যা ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ওঠানামা করেন। ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ছিনতাই ছিল না, বরং তা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে স্টেশনের নিচের সড়ক ও ফুটপাতের সার্বিক নিরাপত্তা বলয় কতটা নড়বড়ে।অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিরাপত্তাব্যবস্থার এই গলদের নেপথ্যে রয়েছে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনীয় জনবলের চরম অভাব। ১৬টি স্টেশনের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত এমআরটি (মেট্রোরেল) পুলিশ এখনো পূর্ণাঙ্গ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি। পুলিশি হিসাব অনুযায়ী, দিনে তিন শিফটে দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম ৪৮০ জন পুলিশ সদস্য প্রয়োজন। অথচ বাস্তবে এই মঞ্জুরিকৃত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন অনেক কম সদস্য। মতিঝিল বা উত্তরার মতো তুলনামূলক ব্যস্ত স্টেশনগুলোতে প্রতি শিফটে ৯ থেকে ১০ জন সদস্যকে দেখা গেলেও অন্য অধিকাংশ স্টেশনে কর্মরত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা এর চেয়েও কম।শুধু জনবল ঘাটতি নয়, প্রযুক্তির দিকেও রয়েছে বড় ধরনের স্থবিরতা। সচিবালয় ও উত্তরা উত্তর স্টেশনের মতো স্পর্শকাতর স্থানে থাকা আটটি আর্চওয়ের মধ্যে অন্তত চারটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে এই পথগুলো দিয়ে যাত্রীরা প্রবেশের সময় কোনো ধাতব বস্তু বহন করছেন কি না, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্তের সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনের প্রবেশমুখে আধুনিক লাগেজ স্ক্যানার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কাগজ-কলমেই আটকে আছে।স্টেশনের অভ্যন্তরের এই ঘাটতি কাটিয়ে যখন যাত্রীরা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন, তখন দ্বিতীয় ধাপে নিরাপত্তা সংকট আরও ঘনীভূত হয়। সাধারণত ট্রেন থেকে নামার পর যাত্রীরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে মোবাইল বের করেন, গন্তব্যের পথ দেখেন অথবা রিকশা খুঁজতে থাকেন। ঠিক এই মুহূর্তটিতেই পথচারীদের জটলাকে কাজে লাগায় পেশাদার অপরাধী চক্র।পল্লবী, মিরপুর-১০, ফার্মগেট এবং মতিঝিল স্টেশনের নিচে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের সিঁড়ি যেখানে এসে ঠেকেছে, ঠিক সেই ফুটপাতেই বসেছে হকার ও ভ্রাম্যমাণ দোকান। কোথাও আবার সিঁড়ির মুখেই গড়ে উঠেছে অঘোষিত রিকশা ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড। ফলে স্বাভাবিক চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে কৃত্রিম জটলার সৃষ্টি হচ্ছে। এই কৃত্রিম জটলাই ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। অপরাধীরা খুব অল্প সময়ে যাত্রীর হাতে থাকা ফোন, গলার চেইন বা পকেটের মানিব্যাগ টান মেরে নিমিষেই ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে পারছে। জটলা ও অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে ভুক্তভোগী কিংবা উপস্থিত পথচারীদের পক্ষে অপরাধীকে ধাওয়া দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।এটি কেবলই একটি সাময়িক আশঙ্কা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে একাধিক সুনির্দিষ্ট ঘটনা। এর আগে পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের ফুটপাত থেকে এক যুবকের দামী আইফোন ছিনতাইয়ের ঘটনার পর র‍্যাব দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে চারটি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, অপরাধীরা অটোরিকশায় ঘুরে ঘুরে মূলত ট্রেন থেকে নেমে আসা যাত্রীদের টার্গেট করত।একইভাবে ইতিপূর্বে মেট্রোরেল স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এক ছিনতাইকারী পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁরা আগে গণপরিবহনের নারীদের ব্যাগ বা মোবাইল টান মারতেন। কিন্তু মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর যাত্রীদের একটি বড় অংশ তুলনামূলক শিথিল ও অসতর্ক থাকেন বলে চক্রটি তাঁদের কৌশল বদলে সরাসরি মেট্রোস্টেশনের সিঁড়ির নিচে অবস্থান নেওয়া শুরু করে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটির মূল জট লেগে আছে দায়িত্বের বহুধা বিভক্তিতে। মেট্রোরেল কাঠামোর ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এমআরটি পুলিশ। স্টেশনের নিচের সড়ক ও আশপাশের মূল এলাকার দায়িত্বে ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ)। আবার ফুটপাতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ও চলাচলের পথ সুগম করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের, আর যানবাহনের শৃঙ্খলার দায় ট্রাফিক বিভাগের।আইনশৃঙ্খলা ও সেবা সংস্থাগুলোর এই নানামুখী কাঠামোর কারণে একজন যাত্রী স্টেশনের সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়ার পর ঠিক কার নজরদারিতে আছেন, তা স্পষ্ট নয়। এক সংস্থার সঙ্গে অন্য সংস্থার নিয়মিত সমন্বয় না থাকায় অপরাধীরা স্টেশনের সীমানা ও সড়কের মধ্যবর্তী এই ফাঁকা জায়গাকে নিজেদের নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে বেছে নিচ্ছে।নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে স্টেশনের ভেতরে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সচল করার পাশাপাশি অবিলম্বে পর্যাপ্ত এমআরটি পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। একই সঙ্গে সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে স্টেশনের নিচের ফুটপাত হকারমুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে অটোরিকশা বা যানবাহনের জটলা তৈরি বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। যাত্রীর নিরাপত্তা কেবল ট্রেনের ভেতরের গণ্ডিতে আটকে থাকলে চলবে না; স্টেশনের বাইরে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত সেই সুরক্ষাবলয় সম্প্রসারিত করতে হবে।


লামায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

লামায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে বান্দরবানের লামায় ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে।সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় লামা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উদ্বোধনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন।অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও কর্ম নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি-সাহিত্যিক অধ্যাপক মো. তমিজউদ্দীন।প্রবন্ধ উপস্থাপনায় তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে নতুন যুগের সূচনা করেছেন। তাঁর কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সংগীত বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। নজরুল তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রেম, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা দিয়েছেন। অন্যায়, নিপীড়ন, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার।তিনি আরও বলেন, নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে আছে। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সাম্য ও নৈতিকতা গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। এজন্য লামায় একটি আধুনিক ও মানসম্মত পাঠাগার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে। সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে তরুণদের নৈতিকতা ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তারা মন্তব্য করেন।লামা নুনারবিল মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহিদ সারোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা থোয়াইনু অং চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক লামা পৌরসভার মেয়র মো. আমির হোসেন, ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী লামা উপজেলা আমির কাজী মো. ইব্রাহীম, এনসিপি নেতা মো. নাজমুল হাসান, ছাত্রদল নেতা তুহিন, সাকিবুল ইসলাম মারুফ ও এমদাদুল হক মিলন।অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।নজরুল বর্ষ উপলক্ষে লামা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজকরা জানান।


মোবাইলে প*র্নো/গ্রাফি রাখার অভিযোগে যুবককে ১৪ দিনের কারাদণ্ড

মোবাইলে প*র্নো/গ্রাফি রাখার অভিযোগে যুবককে ১৪ দিনের কারাদণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফিক ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের অভিযোগে হামিদুর রহমান (২৪) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্প-২২ উনচিপ্রাংয়ের এপিবিএন চেকপোস্টে তল্লাশির সময় তার মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফিক ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, উনচিপ্রাং এপিবিএন ক্যাম্পের এসআই মো. শাহীনুর ইসলাম ও চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা সদস্যরা তল্লাশি চালানোর সময় হামিদুর রহমানের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন। এতে পর্নোগ্রাফিক ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেলে তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়।পরে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে ক্যাম্প-২২-এর সিআইসি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রনি আলম নূরের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট বসে।মোবাইল কোর্টে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৪ ও ৮ ধারায় হামিদুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত হামিদুর রহমান মোহাম্মদ সুলতানের ছেলে। তার এফসিএন নম্বর ৪০৪২০৭।আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরে হামিদুর রহমানকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


পেকুয়ায় পানিতে ডুবে ২ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

পেকুয়ায় পানিতে ডুবে ২ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

কক্সবাজারের পেকুয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে আদিল (২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের নতুন ঘোনা ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।নিহত শিশু আদিল ওই এলাকার লবণ চাষী মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। তার মায়ের নাম হাদিসা বেগম।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে পরিবারের অগোচরে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।উজানটিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, শিশুটির পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।নিহতের স্বজন মোহাম্মদ রোবেল বলেন, পরিবারের অগোচরে শিশুটি পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আদিলের এমন মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


২২ লাখের ভবন ৩ বছরেই ভাঙা, বিক্রি মাত্র ১ লাখে!

২২ লাখের ভবন ৩ বছরেই ভাঙা, বিক্রি মাত্র ১ লাখে!

নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকারি অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্যবহার উপযোগী বিদ্যালয় ভবন মাত্র তিন বছরের মাথায় ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জাইকার অর্থায়নে নির্মিত ওই ভবনটি ভেঙে এর ইট, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পুরোনো একটি আধাপাকা ভবনও ভেঙে ফেলা হয়েছে।অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো—ভবন দুটি ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এমনকি যে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো ভবন দুটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সেই নতুন ভবনের অনুমোদনও এসেছে ভবন ভাঙার পরে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থে নির্মিত ব্যবহারযোগ্য একটি ভবন এত অল্প সময়ে কেন ভাঙা হলো এবং বিক্রি করা নির্মাণসামগ্রীর অর্থ কোথায় গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একতলা দুটি ভবন ও দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) এবং জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে।২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। নির্মাণের পর সেখানে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও চলছিল। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র তিন বছর পর চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। একই সময়ে বিদ্যালয়ের পুরোনো একটি আধাপাকা ভবনও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।সরেজমিনে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জাইকার অর্থায়নে নির্মিত একতলা ভবনটির কোনো অস্তিত্ব নেই। ভবনের বীমের কিছু অংশ খনন করে তুলে নেওয়া হয়েছে। সেখানে এখন গর্ত পড়ে আছে। পুরোনো আধাপাকা ভবনটিরও কোনো চিহ্ন নেই।ভবন দুটির ইট, রড, দরজা-জানালা কিংবা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীও বিদ্যালয় চত্বরে দেখা যায়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের অন্য ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।এক লাখ টাকায় বিক্রি!প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের দাবি, বিদ্যালয়ে জায়গার সংকট থাকায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো ভবন দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভবন দুটির ইট, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী দরদাতার মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে ওই টাকা বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি। বিক্রির অর্থ জমা দেওয়ার নথিও দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে শ্রমিক দিয়ে ভবন দুটি ভাঙার কাজ চলে। ভবন ভাঙার সময় মাইকিং করা হয়েছিল বলেও তারা জানান। তবে ভবন ভাঙার আগে সরকারি অনুমোদন বা নিলামসংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা কিছু জানতেন না।তাদের প্রশ্ন, প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ভবন মাত্র তিন বছরেই কেন ভেঙে ফেলতে হলো? ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি ভবনের নির্মাণসামগ্রী বিক্রির এক লাখ টাকা কোথায় গেল, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ বলেন, তিনি দেড় থেকে দুই মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। ভবন ভাঙা ও নির্মাণসামগ্রী বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশও তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ভবন ভাঙা ও বিক্রির বিষয়টির দায়দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের।বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোতালেব হোসেন বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের জায়গা মাপজোক নিয়ে সভা হয়েছিল। তবে পুরোনো ভবন ভাঙা, নির্মাণসামগ্রী কত টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষকই বলতে পারবেন।অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে জায়গার সংকট রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আগের একতলা ভবন ও পুরোনো আধাপাকা ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের অনুমোদন পাওয়া গেছে। গত ২৬ আগস্ট নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।তবে ভবন ভাঙার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি—এ কথা স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক।তার ভাষ্য, নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে সময় স্বল্পতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ভবন ভাঙার অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে মাইকিং করে দরদাতার মাধ্যমে ভবন দুটির নির্মাণসামগ্রী প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে রেজুলেশন কিংবা নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অর্থ বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়ার কোনো নথি তিনি দেখাতে পারেননি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবন ভাঙার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়ার আগেই পুরোনো ভবন দুটি ভেঙে ফেলা হয়।পরে ২৩ আগস্ট নতুন ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর তিন দিন পর ২৬ আগস্ট সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বলেন, ২০২৩ সালে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল। ভবনটি ভেঙে ফেলার বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।তিনি বলেন, সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া বলেন, নারী শিক্ষা প্রসারের বিষয়টি বিবেচনায় উপজেলা পরিষদের সুপারিশে জাইকার অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভবনটি ভেঙে বিক্রি করার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রধান শিক্ষক ভবনটি ভেঙে বিক্রি করেছেন। ভবন ভাঙার আগে উপজেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।উঠছে নানা প্রশ্ন সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি ব্যবহার উপযোগী ভবন মাত্র তিন বছরের মাথায় ভেঙে ফেলা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানানো এবং নতুন ভবনের অনুমোদনের আগেই পুরোনো ভবন অপসারণের ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি কেন ভাঙা হলো, ভবনটি আদৌ ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছিল কি না, কার অনুমোদনে ভাঙা হলো, নির্মাণসামগ্রী কী প্রক্রিয়ায় বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রির অর্থ বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা হয়েছে কি না এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।তাদের মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি ভবন মাত্র তিন বছর পর ভেঙে ফেলার ঘটনায় শুধু দায় নির্ধারণ নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


লোহাগাড়ায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক

লোহাগাড়ায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পেয়ারা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নির্জন বাড়িতে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির আটক করে থানা পুলিশ। (৩০ আগষ্ট) শনিবার বিকেলে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াহিদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে সূত্রে জানা যায়৷ অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বদিউল আলম (৫৫)। তিনি ওই এলাকার মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ, শনিবার দুপুরে শিশুটি প্রতিদিনের মতো বাড়ির উঠানে সমবয়সী অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় বদিউল আলম পেয়ারা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটির সঙ্গে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ পরিবারের।বিষয়টি অন্য এক শিশুর নজরে এলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও প্রায় ১৫ দিন আগে চরম্বা ইউনিয়নের পদ্মশিকল এলাকায় বদিউল আলমের বিরুদ্ধে আরেক শিশুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। তবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সে সময় বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে তারা জানান।লোহাগাড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বদিউল আলমকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণ মামলায় তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে আজ৷ শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনায় দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


ঘটনা কক্সবাজার আসামী হবিগঞ্জ

ঘটনা কক্সবাজার আসামী হবিগঞ্জ

কক্সবাজার শহরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রামুর খামার ব্যবসায়ী মুবিনকে আসামি করা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনাস্থল, বাদী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং মুবিনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট কক্সবাজার শহরে ছুরিকাঘাতে আহত হন ওসমান নামের এক স্থানীয় যুবক। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে কক্সবাজার শহরের হোটেল শামসপ্লাজার পেছনের একটি গলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।তবে এ ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওই এলাকায় ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তাদের হোটেলের পেছনে এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নন। আশপাশের কয়েকটি দোকানের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।এজাহারে উল্লেখ করা স্থানেই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ওসমান ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার ঘটনা সত্য। তবে কোথায় এবং কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে, এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন বলে স্পষ্ট জানান।অন্যদিকে, হামলাকারীকে শনাক্ত না করার পরও মামলায় ব্যবসায়ী মুবিনের নাম কীভাবে এলো,এমন প্রশ্নের জবাবে বাদীপক্ষের দাবি, কয়েকজন রিকশাচালক তাদেরকে মুবিনের নাম জানিয়েছেন।তবে ওই রিকশাচালক কারা, তারা কীভাবে মুবিনকে শনাক্ত করলেন কিংবা আহত ওসমানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্তও করা হয়নি। ভুক্তভোগী ও বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তারাও মুবিনকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তাদের সাথে পুর্বেও কোন লেনদেন বা কোন বিরোধ ছিল না। মামলায় আসামি হওয়া ব্যবসায়ী মুবিনের দাবি, ঘটনার দিন ১৩ আগস্ট তিনি কক্সবাজারেই ছিলেন না। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি ঢাকা ও হবিগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। তারপরও তাকে রহস্যজনক ভাবে আসামী করা হয়েছে বলে জানান তিনি।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, মুবিন বর্তমানে মামলার আসামি হিসেবে রয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাকে চূড়ান্তভাবে প্রকৃত আসামি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সে বাদ যাবে।জানা গেছে, মামলায় আসামি হওয়া মুবিন রামু উপজেলার গোয়ালিয়া এলাকার একজন খামার ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।একজন যুবক ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার ঘটনা সত্য হলেও হামলাকারী শনাক্তকরণ, ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শী এবং ব্যবসায়ী মুবিনকে মামলায় আসামি করার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে সাধারণ মানুষের।অনেকেই বলছেন, প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ন্যায়বিচার পাবেন কি না, নাকি নির্দোষ কেউ মামলায় আসামি হয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেভাবেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।


লোহাগাড়ায় ৭৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে হরিলুট, বরাদ্দের একাংশে লাগেনি কাজের ছোঁয়া

লোহাগাড়ায় ৭৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে হরিলুট, বরাদ্দের একাংশে লাগেনি কাজের ছোঁয়া

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাগজের কলমে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প শেষ দেখানোর পাঁয়তারা করা হলেও বাস্তবে সড়কের জামালের জমির নিকট হতে জিয়াবুলের বাড়ি পর্যন্ত বড় অংশের কাজ একেবারেই করা হয়নি।আর যেটুকু কাজ করা হয়েছে, তাতেও চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি টাকা হরিলুটের উৎসব চলছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।সরকারি নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ প্রকল্পের আওতায় লোহাগাড়া উপজেলার জন্য এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্যাকেজ নং- W66DDM HBB-01 এর অধীনে আমিরাবাদ ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দীনের ব্রিকফিল্ডের বিপরীত পাশ হতে হাছির পাড়া জামাল হোসেনের পুকুর পর্যন্ত এবং বাম দিকে জামালের জমির নিকট হতে জিয়াবুলের বাড়ি পর্যন্ত মোট ৮০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করণের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই নির্দিষ্ট বরাদ্দে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭ লাখ ৩ হাজার টাকা।স্থানীয়  এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সড়কটি সংস্কারের জন্য এত বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ হলেও তার কোনো সুফল তারা পাচ্ছেন না। ৮০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কের একটি সুনির্দিষ্ট অংশ ( জামালের জমির নিকট হতে জিয়াউলের বাড়ি পর্যন্ত)কাজ একদমই স্পর্শ করা হয়নি। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো টাকাটাই হরিলুট করা হয়েছে। সড়কের যে  অংশে ( শাইরের পাড়া গিয়াস উদ্দীনের ব্রিকফিল্ডের বিপরীত পাশ হতে হাছির পাড়া জামাল হোসেনের পুকুর পর্যন্ত কাজ  হয়েছে, সেখানেও ইট ও বালুর গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় আজ সড়কের বেহাল দশা।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট চক্র এই নয়ছয় কাজ শেষ করেছে।সরেজমিনে ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা আশা করেছিলাম দীর্ঘ ২০/৩০ বছরের পরিত্যক্ত রাস্তাটি নতুন করে কাজ হলে আমাদের যাতায়াতের কষ্ট কমবে। কিন্তুু বাজেটের এই সড়কটির কোন কাজের ছোঁয়াই লাগেনি৷ যা হয়েছে কাজের নামে চরম ফাঁকিবাজি হয়েছে। ইতি মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে ও গর্ত তৈরি হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আমাদের সড়কটি চাই।স্হানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদল নেতা এসএস দেলোয়ারের কাছে প্রতিবেদক সড়কের বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, এলাকার সড়কের নতুন করে যখন কাজ হচ্ছিলো তখন একজন গ্রামের বাসিন্দা হিসাবে উপস্থিত ছিলাম৷ যে সড়কটি হওয়ার কথা কিন্তুু হয়নি বলে জানাচ্ছেন এই ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই৷ আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, এই সড়ক সংস্কার বিষয়ে তার কোন কিছু জানা নেই৷ তাই বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না বলে প্রতিবেদকে জানান৷ সড়ক সংস্কারণ বিষয় জানতে কন্ট্রাক্টর মোহাম্মদ শফিকের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি মুঠোফোনে প্রতিবেদক কে জানায়, নির্দিষ্ট সীমানা পর্যন্ত কাজ করেছি৷ আপনার এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে হলে (পিআইও) নাহিদ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করুন৷ যার অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ( পিআইও) মোহাম্মদ নাহিদ আহমেদ  প্রতিবেদক কে বলেন, এতোদিন পরে কেনো এই সড়ক নিয়ে আপনারা তদন্ত করছেন, এই তথ্য আপনাদের কে দিয়েছে বলে উল্টো প্রশ্ন করে। পরে বরাদ্দের যে সড়কের কথা আপনি বলছেন তা ১বছর আগেই করা হয়েছে যার ছবি, ভিডিও তার কাছে জমা আছে বলে জানান । এসময়ে তিনি আরো বলেন, আমি নিজেই এই সড়কের বিল পরিশোধ করছি।  প্রতিবেদক যখন তার উত্তরে১বছর আগে তো নই, স্হানীয়রা জানিয়েছে সড়কটি ৪/৫মাস আগেই করেছে । তখন ঐ কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে বলে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন, মুখের দুই সাইডে দুইটা থাপ্পড় মারি৷  এক পর্যায়ে তিনি কাজ যে হয়েছে তার তথ্য ৪/৫ দিন পর  দিবেন বলে জানান৷ যার রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে৷এই বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বায়েজিদ বিন আখন্দ (ইউএনও)'র সাথে বৃহস্পতিবার বেলা ১১:৩০ মিনিটের সময়ে সরাসরি তার অফিস কার্যালয়ে গেলে দেখা মিলেনি৷ যার কারণে বক্তব্য যুক্ত করা সম্ভব হয়নি৷


কুড়িগ্রামে ৮০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে ৮০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের আগমনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রোববার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম থানার একটি দল আগমনী বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মো. আবু লাইচ শামসুদোহা শাওন (২৬) নামের ওই যুবককে ৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার শাওন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর হরিকেশ এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।পুলিশ জানায়, কুড়িগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আগমনী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় শাওনের কাছ থেকে ৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।কুড়িগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুড়িগ্রাম থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেছে পুলিশ।


তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং, কুড়িগ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত

তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং, কুড়িগ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। দিনের বেলায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ করছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়ির বাইরে কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন। রাতে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর ঘুমাতে গেলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা।লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষ যখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় তীব্র গরমে কষ্ট পাচ্ছেন, তখন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা থাকা ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা এই দুর্ভোগ কতটা উপলব্ধি করছেন। আবার বিদ্যুৎ বিল বাড়লেও সেবার মান না বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।পড়াশোনায় ব্যাঘাতঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যার সময় পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুৎ ছাড়া ঘরের ভেতরে বসে পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ পড়ার সময় বাতাসের জন্য বাইরে গিয়ে বসছেন।অভিভাবকদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।ক্ষতির মুখে ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পবিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ছোট ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পেও। জেলার বড় শিল্পকারখানা তুলনামূলক কম হলেও বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। দোকান, ওয়ার্কশপ, ক্ষুদ্র কারখানা ও বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানে কাজের সময় কমে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকলে ব্যবসার পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়।চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগলোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়ে বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।জরুরি হস্তক্ষেপ দাবিকুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দরিদ্র জেলা। বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে এখানকার মানুষকে জীবনযাপন করতে হয়। এর মধ্যে তীব্র গরমের সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।সুনির্দিষ্ট রুটিনের দাবিবিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, অনিয়ম ও অপচয় বন্ধ এবং বিদ্যুৎ বিতরণে সমন্বিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তিনি।একই সঙ্গে লোডশেডিং হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য সুনির্দিষ্ট ও পূর্বঘোষিত সময়সূচি প্রকাশের দাবি উঠেছে। এতে জরুরি কাজ, ব্যবসা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কিছুটা পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।নেসকোর বক্তব্য পাওয়া যায়নিএ বিষয়ে , নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।কুড়িগ্রামবাসীর দাবি, তীব্র গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তাদের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে না দেখে এর স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।


নজরুল বর্ষ উপলক্ষে পেকুয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে পেকুয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী আয়োজিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে পেকুয়ায় প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।সোমবার (৩১ আগস্ট) পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন সোহেল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ এবং উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ ঘোষসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা।আয়োজকরা জানান, নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি শুধু কবি নন, তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর লেখনীতে শোষিত মানুষের অধিকার, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কবিতা, গান ও জীবনাদর্শ শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, সাহস ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা গড়ে তুলতে পারে।‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবির সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশেরও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আমি আশা করি, আজকের এই আয়োজন শুধু একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং নজরুলের আদর্শ ও মানবিক চেতনাকে শিক্ষার্থীদের জীবন ও চিন্তাধারায় ধারণ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


বিএমটিএর নতুন কমিটিতে রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কুড়িগ্রামের আরিফুল

বিএমটিএর নতুন কমিটিতে রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কুড়িগ্রামের আরিফুল

ময়লার স্তূপ থেকেই বিদ্যুৎ-গ্যাস তৈরির সম্ভাবনা

ময়লার স্তূপ থেকেই বিদ্যুৎ-গ্যাস তৈরির সম্ভাবনা

বান্দরবানের পাহাড়ের মাটি কক্সবাজারে!

বান্দরবানের পাহাড়ের মাটি কক্সবাজারে!

লোহাগাড়ায় ৭৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে হরিলুট, বরাদ্দের একাংশে লাগেনি কাজের ছোঁয়া

লোহাগাড়ায় ৭৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে হরিলুট, বরাদ্দের একাংশে লাগেনি কাজের ছোঁয়া

পেকুয়ায় সবুজায়নের বার্তা নিয়ে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন

পেকুয়ায় সবুজায়নের বার্তা নিয়ে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন

ত্রিশালে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ত্রিশালে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

বিচারের কথা বলে নারীকে হোটেলে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

বিচারের কথা বলে নারীকে হোটেলে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ত্রিশালে আল-হক ফাউন্ডেশনের ৩টি সুপেয় পানির টিউবওয়েল স্থাপন

ত্রিশালে আল-হক ফাউন্ডেশনের ৩টি সুপেয় পানির টিউবওয়েল স্থাপন

ঈগল বাসের ধাক্কায় রক্তাক্ত কলেজছাত্র, শঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে

ঈগল বাসের ধাক্কায় রক্তাক্ত কলেজছাত্র, শঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে

তন্ত্র-মন্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীদের কোটি কোটি টাকা হাতাচ্ছে ‘জিনের বাদশারা’

তন্ত্র-মন্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীদের কোটি কোটি টাকা হাতাচ্ছে ‘জিনের বাদশারা’

কক্সবাজার রামুতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

কক্সবাজার রামুতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

নৈশভোজে মুরগির মাংস বেশি খাওয়ায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নৈশভোজে মুরগির মাংস বেশি খাওয়ায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে নারী-শিশুসহ আহত ৮

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে নারী-শিশুসহ আহত ৮

ত্রিশালে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৪

ত্রিশালে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৪

গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি: উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী

গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি: উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী

মেট্রোরেল ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা, সিঁড়ি নামলেই ছিনতাইয়ের ফাঁদ

মেট্রোরেল ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা, সিঁড়ি নামলেই ছিনতাইয়ের ফাঁদ

লামায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

লামায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোবাইলে প*র্নো/গ্রাফি রাখার অভিযোগে যুবককে ১৪ দিনের কারাদণ্ড

মোবাইলে প*র্নো/গ্রাফি রাখার অভিযোগে যুবককে ১৪ দিনের কারাদণ্ড

পেকুয়ায় পানিতে ডুবে ২ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

পেকুয়ায় পানিতে ডুবে ২ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

২২ লাখের ভবন ৩ বছরেই ভাঙা, বিক্রি মাত্র ১ লাখে!

২২ লাখের ভবন ৩ বছরেই ভাঙা, বিক্রি মাত্র ১ লাখে!