কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভিসহ একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। পরিবারের নয়জন সদস্য ওই রিসোর্টে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- মালিহা, মিলা, সাবরিন ও শিশু ফাইজান আহমেদ। জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিজ তেহামী (ডাকনাম জাইফ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাবিলা, মালিহা এবং আলভী পরস্পরের কাজিন। বাকিদের মধ্যে ফারিহা কবির নাফিজের বড় বোন এবং ফাইজান ভাগ্নে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পান তারা। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে জানিয়ে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফেসবুকে এক পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেন, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ৬ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তিনি আরও লেখেন, এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমরা পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মোট ১০ জন পর্যটক মারা গিয়েছেন, গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও কয়েকজন। আমি গুরুতর আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে প্রশাসন কর্তৃক সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা আজ শনিবার মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার অকালমৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আরও বলা হয়, এক শোকবার্তায় তারা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তারা এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেন।
এর আগে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রেসটো অ্যান্ড রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে।
জানা গেছে, রিসোর্টটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভিসহ একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। পরিবারের নয়জন সদস্য ওই রিসোর্টে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- মালিহা, মিলা, সাবরিন ও শিশু ফাইজান আহমেদ। জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিজ তেহামী (ডাকনাম জাইফ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাবিলা, মালিহা এবং আলভী পরস্পরের কাজিন। বাকিদের মধ্যে ফারিহা কবির নাফিজের বড় বোন এবং ফাইজান ভাগ্নে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পান তারা। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে জানিয়ে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফেসবুকে এক পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেন, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ৬ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তিনি আরও লেখেন, এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমরা পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মোট ১০ জন পর্যটক মারা গিয়েছেন, গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও কয়েকজন। আমি গুরুতর আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে প্রশাসন কর্তৃক সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা আজ শনিবার মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার অকালমৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আরও বলা হয়, এক শোকবার্তায় তারা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তারা এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেন।
এর আগে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রেসটো অ্যান্ড রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে।
জানা গেছে, রিসোর্টটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন