জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

আলীকদম উপজেলা

মোবাইল কল করতে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হয়, ২০ হাজার মানুষের নেই নেটওয়ার্ক



মোবাইল কল করতে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হয়, ২০ হাজার মানুষের নেই নেটওয়ার্ক

ডিজিটাল সেবার বিস্তারের এই সময়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতেও পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হয় বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। প্রায় ২০ হাজার মানুষের এই ইউনিয়নে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ সরবরাহও সীমিত।

২০১৪ সালে গঠিত কুরুকপাতা ইউনিয়নের আয়তন ৭০২ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। ১৪২টি পাড়ায় বসবাস করেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। বিশাল আয়তনের এই পাহাড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা অত্যন্ত সীমিত।

স্থানীয় বাসিন্দা মানপাত ম্রুং জানান, নেটওয়ার্ক না থাকায় জরুরি যোগাযোগও কঠিন হয়ে পড়ে। বিপদে পড়লে দ্রুত স্বজন কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না।

ব্যবসায়ী শফিউল আলম বলেন, ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় অনলাইনভিত্তিক সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না। প্রয়োজনীয় কাজের জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই বেশি খরচ হয়।

সরকারি বিভিন্ন সেবা ধীরে ধীরে অনলাইননির্ভর হলেও কুরুকপাতার বাস্তবতা ভিন্ন। জন্মনিবন্ধন, ভাতা আবেদনসহ বিভিন্ন কাজের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়ে যেতে হয়। দুর্গম পাহাড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সাধারণ প্রশাসনিক কাজও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যাত্রায় পরিণত হয়।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাতেও রয়েছে বড় ঘাটতি। ইউনিয়নে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের দূরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। দুর্গম যোগাযোগের কারণে নিয়মিত যাতায়াতও কঠিন। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উপজেলা সদরে নিতে হয়, আর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম জানান, কুরুকপাতায় টেলিটকের একটি টাওয়ার স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। টাওয়ার স্থাপন করা গেলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধার বড় বাধা দূর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাতপুং ম্রো বলেন, নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও প্রশাসনিক অবকাঠামোর ঘাটতি দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্গমতার কারণে কুরুকপাতার মানুষকে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও বিদ্যুতের পাশাপাশি স্থায়ী ডিজিটাল সেন্টার, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কার্যালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


মোবাইল কল করতে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হয়, ২০ হাজার মানুষের নেই নেটওয়ার্ক

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ডিজিটাল সেবার বিস্তারের এই সময়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতেও পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হয় বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। প্রায় ২০ হাজার মানুষের এই ইউনিয়নে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ সরবরাহও সীমিত।

২০১৪ সালে গঠিত কুরুকপাতা ইউনিয়নের আয়তন ৭০২ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। ১৪২টি পাড়ায় বসবাস করেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। বিশাল আয়তনের এই পাহাড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা অত্যন্ত সীমিত।

স্থানীয় বাসিন্দা মানপাত ম্রুং জানান, নেটওয়ার্ক না থাকায় জরুরি যোগাযোগও কঠিন হয়ে পড়ে। বিপদে পড়লে দ্রুত স্বজন কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না।

ব্যবসায়ী শফিউল আলম বলেন, ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় অনলাইনভিত্তিক সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না। প্রয়োজনীয় কাজের জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই বেশি খরচ হয়।

সরকারি বিভিন্ন সেবা ধীরে ধীরে অনলাইননির্ভর হলেও কুরুকপাতার বাস্তবতা ভিন্ন। জন্মনিবন্ধন, ভাতা আবেদনসহ বিভিন্ন কাজের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়ে যেতে হয়। দুর্গম পাহাড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সাধারণ প্রশাসনিক কাজও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যাত্রায় পরিণত হয়।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাতেও রয়েছে বড় ঘাটতি। ইউনিয়নে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের দূরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। দুর্গম যোগাযোগের কারণে নিয়মিত যাতায়াতও কঠিন। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উপজেলা সদরে নিতে হয়, আর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম জানান, কুরুকপাতায় টেলিটকের একটি টাওয়ার স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। টাওয়ার স্থাপন করা গেলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধার বড় বাধা দূর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাতপুং ম্রো বলেন, নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও প্রশাসনিক অবকাঠামোর ঘাটতি দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্গমতার কারণে কুরুকপাতার মানুষকে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও বিদ্যুতের পাশাপাশি স্থায়ী ডিজিটাল সেন্টার, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কার্যালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত