জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

উদ্ধার ৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার চোরাই মালামাল

নাটকীয় আত্মগোপনের অবসান, পুলিশের অভিযানে



নাটকীয় আত্মগোপনের অবসান, পুলিশের অভিযানে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুরির ঘটনা আড়াল করতে নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগে মোঃ রেদুয়ানুল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লোহাগাড়া থানা পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা যায় গত (৯সেপ্টম্বর) রাত ১১টা ১০ মিনিটে লোহাগাড়া থানাধীন আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের ১ম তলায় অবস্থিত ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ নামক দোকান বন্ধ করে দোকানের মালিক বাবলু পাল প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যান। পরদিন রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে দোকানে ফিরে এসে দেখতে পান, দোকানের স্লাইডিং গ্লাসের দরজার তালা খোলা এবং ভেতরে থাকা মূল্যবান ক্যামেরা ও সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল ৩টি SONY α7III ক্যামেরা, ১টি SONY α7C ক্যামেরা, বিভিন্ন মডেলের ৮টি ক্যামেরা লেন্স, ২টি ক্যামেরার ব্যাটারি ও ১টি চার্জার। চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৮,৮৩,৫০০/- টাকা।

অন্যদিকে, গত ১২ সেপ্টেম্বর রেশমী আক্তার নামে এক নারী থানায় অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী মোঃ রেদুয়ানুল হক কে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে।

অভিযোগ দুটি পাওয়ার পর লোহাগাড়া থানা পুলিশ পৃথকভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে আমিরাবাদ বাজারস্থ মোস্তফা সিটি মার্কেটের ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ দোকানসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরির ঘটনার সঙ্গে মোঃ রেদুয়ানুল হকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এতে কথিত অপহরণের অভিযোগের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টিও পুলিশের নজরে আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ( ২অক্টোবর)লোহাগাড়া থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে লোহাগাড়া থানাধীন পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা, আওয়ার পাড়া এলাকা থেকে মোঃ রেদুয়ানুল হককে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বসতঘর থেকে চুরি যাওয়া সকল মালামাল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত মোঃ রেদুয়ানুল হক চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। পাশাপাশি চুরির ঘটনাকে আড়াল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিজেই আত্মগোপনে থেকে তার স্ত্রীকে দিয়ে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করানোর বিষয়টিও স্বীকার করে।

ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)মোঃ মাসুদ আলম এর সাথে সময়ের প্রয়াস প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি চুরি করে নিজেই সাজায় আত্মগোপনের নাটক। পরে তার স্রী থানায় অপহরণের একটি অভিযোগ দায়ের করলে আমরা তাকে উদ্ধারের কাজ চালায় ঘটনার রহস্য বের করার জন্য । গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আত্মগোপন থেকে আটক করা হলে সবকিছু তিনি স্বীকার করেন। এবং চুরি হওয়া প্রায়ও ৯লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়। পরে আসামি রেদুয়ানুল হককে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


নাটকীয় আত্মগোপনের অবসান, পুলিশের অভিযানে

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুরির ঘটনা আড়াল করতে নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগে মোঃ রেদুয়ানুল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লোহাগাড়া থানা পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা যায় গত (৯সেপ্টম্বর) রাত ১১টা ১০ মিনিটে লোহাগাড়া থানাধীন আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের ১ম তলায় অবস্থিত ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ নামক দোকান বন্ধ করে দোকানের মালিক বাবলু পাল প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যান। পরদিন রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে দোকানে ফিরে এসে দেখতে পান, দোকানের স্লাইডিং গ্লাসের দরজার তালা খোলা এবং ভেতরে থাকা মূল্যবান ক্যামেরা ও সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল ৩টি SONY α7III ক্যামেরা, ১টি SONY α7C ক্যামেরা, বিভিন্ন মডেলের ৮টি ক্যামেরা লেন্স, ২টি ক্যামেরার ব্যাটারি ও ১টি চার্জার। চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৮,৮৩,৫০০/- টাকা।

অন্যদিকে, গত ১২ সেপ্টেম্বর রেশমী আক্তার নামে এক নারী থানায় অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী মোঃ রেদুয়ানুল হক কে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে।

অভিযোগ দুটি পাওয়ার পর লোহাগাড়া থানা পুলিশ পৃথকভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে আমিরাবাদ বাজারস্থ মোস্তফা সিটি মার্কেটের ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ দোকানসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরির ঘটনার সঙ্গে মোঃ রেদুয়ানুল হকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এতে কথিত অপহরণের অভিযোগের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টিও পুলিশের নজরে আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ( ২অক্টোবর)লোহাগাড়া থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে লোহাগাড়া থানাধীন পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা, আওয়ার পাড়া এলাকা থেকে মোঃ রেদুয়ানুল হককে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বসতঘর থেকে চুরি যাওয়া সকল মালামাল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত মোঃ রেদুয়ানুল হক চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। পাশাপাশি চুরির ঘটনাকে আড়াল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিজেই আত্মগোপনে থেকে তার স্ত্রীকে দিয়ে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করানোর বিষয়টিও স্বীকার করে।

ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)মোঃ মাসুদ আলম এর সাথে সময়ের প্রয়াস প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি চুরি করে নিজেই সাজায় আত্মগোপনের নাটক। পরে তার স্রী থানায় অপহরণের একটি অভিযোগ দায়ের করলে আমরা তাকে উদ্ধারের কাজ চালায় ঘটনার রহস্য বের করার জন্য । গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আত্মগোপন থেকে আটক করা হলে সবকিছু তিনি স্বীকার করেন। এবং চুরি হওয়া প্রায়ও ৯লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়। পরে আসামি রেদুয়ানুল হককে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত