“শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই,
আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন?
এ জমি লইব কিনে।’”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই বিঘা জমি কবিতার উপেনের সেই অসহায় আর্তনাদ আজ যেন অন্য এক বাস্তবতায় ফিরে এসেছে। পার্থক্য শুধু এই—আজ প্রশ্ন কোনো এক উপেনের দুই বিঘা জমি নিয়ে নয়; প্রশ্ন দেশের হাজার হাজার কৃষক সমবায়ী, প্রাথমিক কৃষক সমবায় সমিতি (কেএসএস) এবং উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের (ইউসিসিএ) অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে।
১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠনের সময়ে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি (আইআরডিপি) ও দ্বি-স্তর সমবায় ব্যবস্থার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল কৃষককে সংগঠিত করা, সঞ্চয় ও পুঁজি গঠন, কৃষিঋণ, সেচ, আধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ এবং শেষ পর্যন্ত কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। কেএসএস ও ইউসিসিএ ছিল সেই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
কিন্তু ৫৪ বছর পর আমাদের প্রশ্ন—আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?
একসময় দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই কৃষক সমবায়ের সাংগঠনিক উপস্থিতি ছিল। আজ বহু প্রাথমিক সমবায় নিষ্ক্রিয় বা বিলুপ্ত। অথচ ১৯৭২ সালের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষের বাংলাদেশ আজ প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশ। কৃষি, বাজার, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির পরিধি বহুগুণ বেড়েছে; কিন্তু কৃষক সমবায়ের সাংগঠনিক ভিত্তি কেন সংকুচিত হলো?
দায় নেবে কে?
আরও বড় প্রশ্ন ইউসিসিএকে ঘিরে। ইউসিসিএ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১-এর অধীনে নিবন্ধিত একটি সমবায়ী প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) একটি পৃথক সরকারি প্রতিষ্ঠান, যার নিজস্ব আইন—বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০১৮। সরকারের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক আইন ও বিধিমালার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—সমবায় আইনে নিবন্ধিত একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, আয়, জনবল ও কার্যক্রম বিআরডিবির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কোন আইন, বিধি বা ক্ষমতাবলে ব্যবহার বা নিয়ন্ত্রণ করবেন?
উন্নয়ন সহযোগিতা এক বিষয়; আর একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরেক বিষয়। দুইটির সীমারেখা স্পষ্ট না হলে সমবায়ের স্বায়ত্তশাসন কোথায় থাকবে?
আজ ইউসিসিএর বহু কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে না পারা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু আর্থিক সংকট নয়—এটি পুরো সমবায় ব্যবস্থার অসুস্থতার লক্ষণ। অথচ ইউসিসিএকে নিজস্ব আয় সৃষ্টি, বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন, গুদাম, হিমাগার, কৃষিযন্ত্র সেবা কিংবা অন্যান্য লাভজনক উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই যেন তাকে নির্ভরশীল ও দুর্বল রাখার প্রবণতাই বেশি দৃশ্যমান।
কৃষকের ঋণ ব্যবস্থাতেও একই প্রশ্ন। যুগের প্রয়োজন যেখানে একক কৃষকভিত্তিক ঋণ ও উদ্যোক্তা অর্থায়ন, সেখানে এখনও গুচ্ছভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কেন? কৃষককে সমবায়ের মাধ্যমে সংগঠিত করে ব্যক্তিগত উৎপাদন, ব্যবসা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হলে সমবায় আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সমবায় অধিদপ্তরের কাছেও প্রশ্ন আছে। নতুন কৃষক সমবায় গঠনের ক্ষেত্রে কেন এত প্রতিবন্ধকতা? যে দেশে কৃষকসংখ্যা ও কৃষির পরিধি বেড়েছে, সেখানে প্রাথমিক সমবায়ের সংখ্যা বাড়ার পরিবর্তে কমে যাওয়ার কারণ কী?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার কাজ একেবারে নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে বিশ্বব্যাংক, দেশি-বিদেশি গবেষক ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সমবায় ও আইআরডিপি নিয়ে গবেষণা করেছে। গবেষণায় প্রশাসনিক জটিলতা, স্থানীয় প্রভাবশালীদের আধিপত্য, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, সরকারি নির্ভরতা এবং সমবায়কে প্রকৃত অর্থে স্বনির্ভর না করতে পারার মতো সমস্যা উঠে এসেছে।
এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও সমবায় অধিদপ্তর “কৃষি সমবায় সমিতির উন্নয়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের কৌশল নির্ধারণ” শীর্ষক গবেষণার জন্য গবেষণা দল গঠন করেছে। অর্থাৎ সমস্যাটি যে বাস্তব ও প্রাতিষ্ঠানিক—সরকারও তা স্বীকার করছে।
তাহলে এখন প্রয়োজন নতুন করে দায় চাপানো নয়; প্রয়োজন কারণ নির্ণয়, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং সংস্কার।
বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে আমি মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছি—সমগ্র দেশের ইউসিসিএ ও প্রাথমিক কৃষক সমবায় সমিতির সংকট, সমস্যার কারণ এবং উত্তরণের করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক। বিআরডিবি, সমবায় অধিদপ্তর, ইউসিসিএ, সমবায়ী প্রতিনিধি, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে এই কমিটি মাঠে গিয়ে বাস্তবতা দেখুক।
কারণ সমবায় কোনো ফাইলের বিষয় নয়; এটি কোটি মানুষের অর্থনৈতিক সংগঠন।
আমি বহুবার সংশ্লিষ্টদের কাছে সমবায়ীদের এই আকুতি তুলে ধরেছি। কিন্তু একজন সমবায়ী হিসেবে, ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে, মাঠের মানুষের এই মহাসংকট নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বসার আমন্ত্রণটুকুও আজ পর্যন্ত পাইনি। কখনও কখনও মনে হয়—সমবায় আটকে আছে এক আমলাতান্ত্রিক গোলকধাঁধায়।
আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—সমবায়কে কি শুধু কাগজে-কলমে বাঁচিয়ে রাখা হবে, নাকি কৃষকের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা হবে?
উপেনের মতো যেন আগামী দিনে ইউসিসিএও বলতে না হয়—“শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।”
এখনই সময়—ইউসিসিএকে বাঁচানোর, কেএসএসকে পুনর্গঠনের এবং কৃষক সমবায়কে সত্যিকার অর্থে স্বাবলম্বী করার।
লেখক - সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশন

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
“শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই,
আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন?
এ জমি লইব কিনে।’”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই বিঘা জমি কবিতার উপেনের সেই অসহায় আর্তনাদ আজ যেন অন্য এক বাস্তবতায় ফিরে এসেছে। পার্থক্য শুধু এই—আজ প্রশ্ন কোনো এক উপেনের দুই বিঘা জমি নিয়ে নয়; প্রশ্ন দেশের হাজার হাজার কৃষক সমবায়ী, প্রাথমিক কৃষক সমবায় সমিতি (কেএসএস) এবং উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের (ইউসিসিএ) অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে।
১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠনের সময়ে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি (আইআরডিপি) ও দ্বি-স্তর সমবায় ব্যবস্থার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল কৃষককে সংগঠিত করা, সঞ্চয় ও পুঁজি গঠন, কৃষিঋণ, সেচ, আধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ এবং শেষ পর্যন্ত কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। কেএসএস ও ইউসিসিএ ছিল সেই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
কিন্তু ৫৪ বছর পর আমাদের প্রশ্ন—আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?
একসময় দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই কৃষক সমবায়ের সাংগঠনিক উপস্থিতি ছিল। আজ বহু প্রাথমিক সমবায় নিষ্ক্রিয় বা বিলুপ্ত। অথচ ১৯৭২ সালের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষের বাংলাদেশ আজ প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশ। কৃষি, বাজার, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির পরিধি বহুগুণ বেড়েছে; কিন্তু কৃষক সমবায়ের সাংগঠনিক ভিত্তি কেন সংকুচিত হলো?
দায় নেবে কে?
আরও বড় প্রশ্ন ইউসিসিএকে ঘিরে। ইউসিসিএ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১-এর অধীনে নিবন্ধিত একটি সমবায়ী প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) একটি পৃথক সরকারি প্রতিষ্ঠান, যার নিজস্ব আইন—বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০১৮। সরকারের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক আইন ও বিধিমালার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—সমবায় আইনে নিবন্ধিত একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, আয়, জনবল ও কার্যক্রম বিআরডিবির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কোন আইন, বিধি বা ক্ষমতাবলে ব্যবহার বা নিয়ন্ত্রণ করবেন?
উন্নয়ন সহযোগিতা এক বিষয়; আর একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরেক বিষয়। দুইটির সীমারেখা স্পষ্ট না হলে সমবায়ের স্বায়ত্তশাসন কোথায় থাকবে?
আজ ইউসিসিএর বহু কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে না পারা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু আর্থিক সংকট নয়—এটি পুরো সমবায় ব্যবস্থার অসুস্থতার লক্ষণ। অথচ ইউসিসিএকে নিজস্ব আয় সৃষ্টি, বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন, গুদাম, হিমাগার, কৃষিযন্ত্র সেবা কিংবা অন্যান্য লাভজনক উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই যেন তাকে নির্ভরশীল ও দুর্বল রাখার প্রবণতাই বেশি দৃশ্যমান।
কৃষকের ঋণ ব্যবস্থাতেও একই প্রশ্ন। যুগের প্রয়োজন যেখানে একক কৃষকভিত্তিক ঋণ ও উদ্যোক্তা অর্থায়ন, সেখানে এখনও গুচ্ছভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কেন? কৃষককে সমবায়ের মাধ্যমে সংগঠিত করে ব্যক্তিগত উৎপাদন, ব্যবসা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হলে সমবায় আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সমবায় অধিদপ্তরের কাছেও প্রশ্ন আছে। নতুন কৃষক সমবায় গঠনের ক্ষেত্রে কেন এত প্রতিবন্ধকতা? যে দেশে কৃষকসংখ্যা ও কৃষির পরিধি বেড়েছে, সেখানে প্রাথমিক সমবায়ের সংখ্যা বাড়ার পরিবর্তে কমে যাওয়ার কারণ কী?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার কাজ একেবারে নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে বিশ্বব্যাংক, দেশি-বিদেশি গবেষক ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সমবায় ও আইআরডিপি নিয়ে গবেষণা করেছে। গবেষণায় প্রশাসনিক জটিলতা, স্থানীয় প্রভাবশালীদের আধিপত্য, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, সরকারি নির্ভরতা এবং সমবায়কে প্রকৃত অর্থে স্বনির্ভর না করতে পারার মতো সমস্যা উঠে এসেছে।
এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও সমবায় অধিদপ্তর “কৃষি সমবায় সমিতির উন্নয়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের কৌশল নির্ধারণ” শীর্ষক গবেষণার জন্য গবেষণা দল গঠন করেছে। অর্থাৎ সমস্যাটি যে বাস্তব ও প্রাতিষ্ঠানিক—সরকারও তা স্বীকার করছে।
তাহলে এখন প্রয়োজন নতুন করে দায় চাপানো নয়; প্রয়োজন কারণ নির্ণয়, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং সংস্কার।
বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে আমি মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছি—সমগ্র দেশের ইউসিসিএ ও প্রাথমিক কৃষক সমবায় সমিতির সংকট, সমস্যার কারণ এবং উত্তরণের করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক। বিআরডিবি, সমবায় অধিদপ্তর, ইউসিসিএ, সমবায়ী প্রতিনিধি, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে এই কমিটি মাঠে গিয়ে বাস্তবতা দেখুক।
কারণ সমবায় কোনো ফাইলের বিষয় নয়; এটি কোটি মানুষের অর্থনৈতিক সংগঠন।
আমি বহুবার সংশ্লিষ্টদের কাছে সমবায়ীদের এই আকুতি তুলে ধরেছি। কিন্তু একজন সমবায়ী হিসেবে, ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে, মাঠের মানুষের এই মহাসংকট নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বসার আমন্ত্রণটুকুও আজ পর্যন্ত পাইনি। কখনও কখনও মনে হয়—সমবায় আটকে আছে এক আমলাতান্ত্রিক গোলকধাঁধায়।
আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—সমবায়কে কি শুধু কাগজে-কলমে বাঁচিয়ে রাখা হবে, নাকি কৃষকের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা হবে?
উপেনের মতো যেন আগামী দিনে ইউসিসিএও বলতে না হয়—“শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।”
এখনই সময়—ইউসিসিএকে বাঁচানোর, কেএসএসকে পুনর্গঠনের এবং কৃষক সমবায়কে সত্যিকার অর্থে স্বাবলম্বী করার।
লেখক - সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশন

আপনার মতামত লিখুন