জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংকট: ৫০ শয্যার বিপরীতে রোগী ৮৭, বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা



লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংকট: ৫০ শয্যার বিপরীতে রোগী ৮৭, বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা

বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংকট, জনবল ঘাটতি, ভবনের ছাদে ফাটল ও দীর্ঘদিন অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৭ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যা না পেয়ে শিশু, নারী ও বয়স্কদের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা, ভবন সংস্কার, জনবল বৃদ্ধি ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এতে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নিচতলার ছাদ থেকেও ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়ছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিবেশ ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


রোগীর চাপে হিমশিম চিকিৎসকরা

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সোলাইমান আহমেদ বলেন, রোগীর চাপের কারণে শয্যা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা প্রদান ও ওষুধ সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।


৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো

হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন। হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে অনুযায়ী কর্মচারী বাড়ানো হয়নি। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।


দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সংকট আরও জটিলতা তৈরি করছে।


চিঠি দিয়েও মিলছে না সমাধান

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করে যাচ্ছি, কোনো ফলাফল পাচ্ছি না।


স্থানীয়দের দাবি, লামা ছাড়াও আশপাশের দুর্গম এলাকার মানুষ এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তাই রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি ভবন সংস্কার, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অ্যাম্বুলেন্স সেবা দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


শয্যা সংকট, জনবল ঘাটতি, ভবনের সমস্যা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকার কারণে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংকট: ৫০ শয্যার বিপরীতে রোগী ৮৭, বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংকট, জনবল ঘাটতি, ভবনের ছাদে ফাটল ও দীর্ঘদিন অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৭ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যা না পেয়ে শিশু, নারী ও বয়স্কদের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা, ভবন সংস্কার, জনবল বৃদ্ধি ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এতে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নিচতলার ছাদ থেকেও ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়ছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিবেশ ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


রোগীর চাপে হিমশিম চিকিৎসকরা

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সোলাইমান আহমেদ বলেন, রোগীর চাপের কারণে শয্যা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা প্রদান ও ওষুধ সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।


৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো

হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন। হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে অনুযায়ী কর্মচারী বাড়ানো হয়নি। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।


দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সংকট আরও জটিলতা তৈরি করছে।


চিঠি দিয়েও মিলছে না সমাধান

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করে যাচ্ছি, কোনো ফলাফল পাচ্ছি না।


স্থানীয়দের দাবি, লামা ছাড়াও আশপাশের দুর্গম এলাকার মানুষ এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তাই রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি ভবন সংস্কার, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অ্যাম্বুলেন্স সেবা দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


শয্যা সংকট, জনবল ঘাটতি, ভবনের সমস্যা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকার কারণে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত