জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

ইনানী টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড

আগুন থেকে বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয়, সেখানেই প্রাণ গেল ৪ জনের



আগুন থেকে বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয়, সেখানেই প্রাণ গেল ৪ জনের

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয় ‍নিয়ে সেখানেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে— ঢাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। পরিচয় শনাক্ত হওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও এক শিশু।

ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রিসোর্টের টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তারা টয়লেটে ঢুকে পানি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে আগুনের খবর পেয়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। চারজন ব্যক্তি মারা গেছেন তিনতলার দুটি শৌচাগারে।

অপরদিকে রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে কোনো লাইসেন্স গ্রহণ করেনি। গত জুন মাসে ফায়ার সার্ভিসের একজন পরিদর্শক রিসোর্টটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন এবং এ বিষয়ে নোটিশও দিয়েছিলেন। এরপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।


মহাপরিচালক জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাবশত অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলটি সংশ্লিষ্ট ফায়ার স্টেশন থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আগুন নেভানোর কাজ শেষ হলেও এরই মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কোনো কারণ উল্লেখ করা ঠিক হবে না। অনুমানের ভিত্তিতে কোনো বক্তব্য দিলে তা তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে রিসোর্টটির নিচতলায় রেস্টুরেন্ট থাকা এবং স্থাপনাটি কাঠের তৈরি হওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ধরন নিয়ে ধারণা করা সম্ভব। প্রকৃতপক্ষে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


আগুন থেকে বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয়, সেখানেই প্রাণ গেল ৪ জনের

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয় ‍নিয়ে সেখানেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে— ঢাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। পরিচয় শনাক্ত হওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও এক শিশু।

ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রিসোর্টের টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তারা টয়লেটে ঢুকে পানি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে আগুনের খবর পেয়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। চারজন ব্যক্তি মারা গেছেন তিনতলার দুটি শৌচাগারে।

অপরদিকে রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে কোনো লাইসেন্স গ্রহণ করেনি। গত জুন মাসে ফায়ার সার্ভিসের একজন পরিদর্শক রিসোর্টটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন এবং এ বিষয়ে নোটিশও দিয়েছিলেন। এরপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।


মহাপরিচালক জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাবশত অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলটি সংশ্লিষ্ট ফায়ার স্টেশন থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আগুন নেভানোর কাজ শেষ হলেও এরই মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কোনো কারণ উল্লেখ করা ঠিক হবে না। অনুমানের ভিত্তিতে কোনো বক্তব্য দিলে তা তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে রিসোর্টটির নিচতলায় রেস্টুরেন্ট থাকা এবং স্থাপনাটি কাঠের তৈরি হওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ধরন নিয়ে ধারণা করা সম্ভব। প্রকৃতপক্ষে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত