আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দলীয় মনোনয়ন ও সমর্থনকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে তৎপরতা। পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এমন তরুণ ভোটারদের পছন্দ যাদের সবসময় মাঠে ময়দানে কাছে পাওয়া যাবে।
শিলখালী ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারে তৎপর রয়েছেন।
তবে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। কে পাচ্ছেন দলের সমর্থন, কার সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী এবং শেষ পর্যন্ত দল কাকে বেছে নেয় এসব বিষয় নিয়েই এখন শিলখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় সিদ্ধান্তও প্রার্থী বাছাইয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার, পাড়া-মহল্লা ও সামাজিক পরিসরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিভিন্ন বৈঠকেও ঘুরেফিরে আসছে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম।
শিলখালী ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইন, বিএনপি নেতা আলা উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আবু ছিদ্দিক রনি, জেলা শ্রমিক দলের সহ-সম্পাদক এম.এ কাইয়ুম ইসতিয়াক এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ফরহাদ। সম্ভাব্য এসব প্রার্থীকে ঘিরে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলখালী ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখানোয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি দলীয় মনোনয়ন ঘিরে তৈরি হচ্ছে কঠিন সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত দল অভিজ্ঞ কোনো নেতাকে সামনে আনে, নাকি অপেক্ষাকৃত নতুন কোনো মুখকে মনোনয়ন দেয় তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে।
ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ বলেন, শিলখালী ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করে আসছেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্ত। দল যাকে যোগ্য মনে করবে, আমরা সবাই তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আবু ছিদ্দিক রনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দল ও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। শিলখালী ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। তবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই আমি মেনে নেব।
জেলা শ্রমিক দলের সহ-সম্পাদক এম.এ কাইয়ুম ইসতিয়াক বলেন, শিলখালী ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছি। আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার চেষ্টা করব। তবে বিএনপি একটি বড় ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল। দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
সব মিলিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে শিলখালী ইউনিয়নের রাজনৈতিক মাঠ ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দলীয় মনোনয়ন ও সমর্থনকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে তৎপরতা। পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এমন তরুণ ভোটারদের পছন্দ যাদের সবসময় মাঠে ময়দানে কাছে পাওয়া যাবে।
শিলখালী ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারে তৎপর রয়েছেন।
তবে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। কে পাচ্ছেন দলের সমর্থন, কার সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী এবং শেষ পর্যন্ত দল কাকে বেছে নেয় এসব বিষয় নিয়েই এখন শিলখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় সিদ্ধান্তও প্রার্থী বাছাইয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার, পাড়া-মহল্লা ও সামাজিক পরিসরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিভিন্ন বৈঠকেও ঘুরেফিরে আসছে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম।
শিলখালী ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইন, বিএনপি নেতা আলা উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আবু ছিদ্দিক রনি, জেলা শ্রমিক দলের সহ-সম্পাদক এম.এ কাইয়ুম ইসতিয়াক এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ফরহাদ। সম্ভাব্য এসব প্রার্থীকে ঘিরে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলখালী ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখানোয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি দলীয় মনোনয়ন ঘিরে তৈরি হচ্ছে কঠিন সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত দল অভিজ্ঞ কোনো নেতাকে সামনে আনে, নাকি অপেক্ষাকৃত নতুন কোনো মুখকে মনোনয়ন দেয় তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে।
ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ বলেন, শিলখালী ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করে আসছেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্ত। দল যাকে যোগ্য মনে করবে, আমরা সবাই তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আবু ছিদ্দিক রনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দল ও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। শিলখালী ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। তবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই আমি মেনে নেব।
জেলা শ্রমিক দলের সহ-সম্পাদক এম.এ কাইয়ুম ইসতিয়াক বলেন, শিলখালী ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছি। আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার চেষ্টা করব। তবে বিএনপি একটি বড় ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল। দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
সব মিলিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে শিলখালী ইউনিয়নের রাজনৈতিক মাঠ ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন