জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

লামা উপজেলা শিক্ষা অফিস

বেতন বাড়াতে ঘুষ, শিক্ষকদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ



বেতন বাড়াতে ঘুষ, শিক্ষকদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের নামে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস সহ শিক্ষা অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সহকারী শিক্ষক।

অভিযোগ অনুযায়ী, লামা উপজেলার ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ জন সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০০ থেকে টাকা করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জনপ্রতি ৪০০ টাকা হিসাবে ৫০০ শিক্ষকের কাছ থেকে মোট ২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কয়েকটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রথমে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে বলা হয়। পরে কেউ ৫০০ টাকা দিতে রাজি না হলে জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে জমা দেওয়ার কথা জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস, হিসাব সহকারী রতন বড়ুয়া, উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জাহেদুল ইসলাম, হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর কামরুল হাসান এবং অফিস সহকারী হারাধন এ টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

একজন শিক্ষক বলেন, পে ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদ যদি সরকারি দাপ্তরিক কাজ হয়, তাহলে এর জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে কেন? কোনো সরকারি ফি থাকলে তার লিখিত নির্দেশনা দেখানো হোক। আর নিয়মের বাইরে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত।

আরেক শিক্ষক বলেন, আমরা নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। চাকরিসংক্রান্ত প্রাপ্য সুবিধা পেতে গিয়ে যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

অন্য এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে কোথায় জমা হয়েছে, কে নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোন বিধির আওতায় নেওয়া হয়েছে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চাই।

এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, পে-ফিক্সেশনের ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কেউ বিকাশের মাধ্যমে, আবার কেউ সরাসরি টাকা দিয়েছেন। তবে এসব অর্থের প্রকৃত প্রাপক, আদায়ের উদ্দেশ্য এবং কোনো সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জাহেদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

অভিযোগের বিষয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর কামরুল হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি নিজেকে কামরুল হাসান নন বলে পরিচয় দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পরিণয় চাকমা বলেন, শিক্ষকদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কোন ধরনের টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের জন্য এ ধরনের অর্থ আদায়ের কোনো বিধান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


বেতন বাড়াতে ঘুষ, শিক্ষকদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের নামে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস সহ শিক্ষা অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সহকারী শিক্ষক।

অভিযোগ অনুযায়ী, লামা উপজেলার ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ জন সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০০ থেকে টাকা করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জনপ্রতি ৪০০ টাকা হিসাবে ৫০০ শিক্ষকের কাছ থেকে মোট ২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কয়েকটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রথমে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে বলা হয়। পরে কেউ ৫০০ টাকা দিতে রাজি না হলে জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে জমা দেওয়ার কথা জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস, হিসাব সহকারী রতন বড়ুয়া, উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জাহেদুল ইসলাম, হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর কামরুল হাসান এবং অফিস সহকারী হারাধন এ টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

একজন শিক্ষক বলেন, পে ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদ যদি সরকারি দাপ্তরিক কাজ হয়, তাহলে এর জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে কেন? কোনো সরকারি ফি থাকলে তার লিখিত নির্দেশনা দেখানো হোক। আর নিয়মের বাইরে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত।

আরেক শিক্ষক বলেন, আমরা নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। চাকরিসংক্রান্ত প্রাপ্য সুবিধা পেতে গিয়ে যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

অন্য এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে কোথায় জমা হয়েছে, কে নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোন বিধির আওতায় নেওয়া হয়েছে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চাই।

এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, পে-ফিক্সেশনের ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কেউ বিকাশের মাধ্যমে, আবার কেউ সরাসরি টাকা দিয়েছেন। তবে এসব অর্থের প্রকৃত প্রাপক, আদায়ের উদ্দেশ্য এবং কোনো সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জাহেদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

অভিযোগের বিষয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর কামরুল হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি নিজেকে কামরুল হাসান নন বলে পরিচয় দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পরিণয় চাকমা বলেন, শিক্ষকদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কোন ধরনের টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পে-ফিক্সেশন ও সার্ভিস বুক হালনাগাদের জন্য এ ধরনের অর্থ আদায়ের কোনো বিধান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত