রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নকশা অনুমোদনসংক্রান্ত কাজে অর্থ না দিলে ফাইলের অগ্রগতি থমকে যায়। এমনকি বৈধ সেবা পেতে নিজের পেশাগত পরিচয় দিয়েও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সরকারের সাবেক এক অতিরিক্ত সচিব। অন্যদিকে, ছুটি মঞ্জুর হওয়ার আগেই বিদেশযাত্রা এবং কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় তদন্তের পর তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইলিয়াস নিজেই। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
রাজউকের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেবাপ্রার্থীদের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, ভবনের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত সেবা পেতে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। নির্ধারিত সেবা পেতে বিলম্ব, ফাইল আটকে রাখা এবং অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইলিয়াস হোসেন ঘুষ, দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের সাবেক এক অতিরিক্ত সচিব অভিযোগ করেন, রাজউকে একটি বৈধ কাজের সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, এতে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে হয়রানি আরও বেড়ে যায়। অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস হোসেন তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং সেবাসংক্রান্ত আলোচনার সময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন।
প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য, চাকরিজীবনে এমন বেপরোয়া আচরণের অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি। ইলিয়াসের চাকরির বয়স সাত-আট বছর হলেও তাঁর আচরণে কাউকে পরোয়া না করার মনোভাব প্রকাশ পায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই সাবেক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। তাঁর মতে, অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কিছুটা শাস্তি হতে পারে, কিন্তু সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি থেকে মুক্তি নিশ্চিত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে ভবনের নকশাসংক্রান্ত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিন কিস্তিতে মোট ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, টাকা দেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত কাজ পাননি তিনি। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে লোকজনের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইলিয়াস হোসেনের চাকরিজীবনে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনাও রয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্টে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করার জন্য তিন বছরের বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আবেদন করেন তিনি। কিন্তু ছুটি মঞ্জুর হওয়ার আগেই মালয়েশিয়ায় চলে যান বলে সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কর্মস্থলে দুই মাস দুই দিন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
এ বিষয়ে ইলিয়াস হোসেনের বক্তব্য, ছুটির আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় বিমানের টিকিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এ কারণে তাঁকে বিদেশে যেতে হয়েছিল। ওই ঘটনায় তদন্তের পর কর্তৃপক্ষ তাঁকে সতর্ক করেছে বলে জানান তিনি। ইলিয়াসের দাবি, এরপর থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পুরোনো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার কোনো অর্থ খুঁজে পান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজউকের এই কর্মকর্তা বর্তমানে জোন-৭/১-এর অথরাইজড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জোন-৫/২-এর অথরাইজড অফিসার এবং জোন-৬-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইলিয়াস হোসেন অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি কারও কাছ থেকে ঘুষ নেন না এবং দুর্নীতি কিংবা দুর্ব্যবহারও করেন না।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নকশা অনুমোদনসংক্রান্ত কাজে অর্থ না দিলে ফাইলের অগ্রগতি থমকে যায়। এমনকি বৈধ সেবা পেতে নিজের পেশাগত পরিচয় দিয়েও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সরকারের সাবেক এক অতিরিক্ত সচিব। অন্যদিকে, ছুটি মঞ্জুর হওয়ার আগেই বিদেশযাত্রা এবং কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় তদন্তের পর তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইলিয়াস নিজেই। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
রাজউকের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেবাপ্রার্থীদের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, ভবনের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত সেবা পেতে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। নির্ধারিত সেবা পেতে বিলম্ব, ফাইল আটকে রাখা এবং অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইলিয়াস হোসেন ঘুষ, দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের সাবেক এক অতিরিক্ত সচিব অভিযোগ করেন, রাজউকে একটি বৈধ কাজের সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, এতে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে হয়রানি আরও বেড়ে যায়। অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস হোসেন তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং সেবাসংক্রান্ত আলোচনার সময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন।
প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য, চাকরিজীবনে এমন বেপরোয়া আচরণের অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি। ইলিয়াসের চাকরির বয়স সাত-আট বছর হলেও তাঁর আচরণে কাউকে পরোয়া না করার মনোভাব প্রকাশ পায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই সাবেক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। তাঁর মতে, অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কিছুটা শাস্তি হতে পারে, কিন্তু সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি থেকে মুক্তি নিশ্চিত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে ভবনের নকশাসংক্রান্ত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিন কিস্তিতে মোট ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, টাকা দেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত কাজ পাননি তিনি। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে লোকজনের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইলিয়াস হোসেনের চাকরিজীবনে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনাও রয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্টে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করার জন্য তিন বছরের বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আবেদন করেন তিনি। কিন্তু ছুটি মঞ্জুর হওয়ার আগেই মালয়েশিয়ায় চলে যান বলে সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কর্মস্থলে দুই মাস দুই দিন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
এ বিষয়ে ইলিয়াস হোসেনের বক্তব্য, ছুটির আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় বিমানের টিকিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এ কারণে তাঁকে বিদেশে যেতে হয়েছিল। ওই ঘটনায় তদন্তের পর কর্তৃপক্ষ তাঁকে সতর্ক করেছে বলে জানান তিনি। ইলিয়াসের দাবি, এরপর থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পুরোনো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার কোনো অর্থ খুঁজে পান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজউকের এই কর্মকর্তা বর্তমানে জোন-৭/১-এর অথরাইজড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জোন-৫/২-এর অথরাইজড অফিসার এবং জোন-৬-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইলিয়াস হোসেন অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি কারও কাছ থেকে ঘুষ নেন না এবং দুর্নীতি কিংবা দুর্ব্যবহারও করেন না।

আপনার মতামত লিখুন