জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

ছয়-সাত বছরের চাকরিতে মাছের ঘের, পোল্ট্রি ফার্ম, ডুপ্লেক্স বাড়ি, ফ্ল্যাট ও গাড়ির মালিক হওয়ার অভিযোগ

রাজউকে ঘুষের জাল, সম্পদের পাহাড় নির্মল মালোর



রাজউকে ঘুষের জাল, সম্পদের পাহাড় নির্মল মালোর

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক নির্মল মালোর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সরকারি চাকরিতে যোগদানের ছয়-সাত বছরের মধ্যে তিনি গোপালগঞ্জ ও বরিশালে মাছের ঘের, পোল্ট্রি ফার্ম, ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, ডুপ্লেক্স বাড়ি ও দামি গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য এবং আয়ের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্মল মালোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক নির্মল মালোর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সরকারি চাকরিতে যোগদানের ছয়-সাত বছরের মধ্যে তিনি গোপালগঞ্জ ও বরিশালে মাছের ঘের, পোল্ট্রি ফার্ম, ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, ডুপ্লেক্স বাড়ি ও দামি গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য এবং আয়ের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্মল মালোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে।

জধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক নির্মল মালোর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সরকারি চাকরিতে যোগদানের ছয়-সাত বছরের মধ্যে তিনি গোপালগঞ্জ ও বরিশালে মাছের ঘের, পোল্ট্রি ফার্ম, ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, ডুপ্লেক্স বাড়ি ও দামি গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য এবং আয়ের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্মল মালোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজউকের মহাখালী ও দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে নির্মল মালোকে ঘিরে ঘুষ গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। নির্মাণাধীন ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ, ভবনের অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি, রাস্তার প্রস্থ এবং ভবনের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাংশের বিভিন্ন ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের নোটিশ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাঁদের ভাষ্য, পরে ভবনের বর্ধিতাংশ অপসারণ, নির্মাণকাজ বন্ধসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হতো। কয়েকজন ভবনমালিকের দাবি, এভাবে তাঁদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নির্মল মালোর পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, তাঁর বাবা নিত্যগোপাল মালো মাদারীপুরের রাজৈর থেকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি পোনা মাছের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর যোগাযোগ ও প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, নিত্যগোপাল মালো আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী লীগের কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তবে তাঁর পদে থাকার সময়কাল ও রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে দলীয় বা সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

নিত্যগোপাল মালোর বড় ছেলে নির্মল মালো ঢাকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তিনি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক পদে চাকরিতে যোগ দেন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পারিবারিক রাজনৈতিক যোগাযোগ ও আর্থিক প্রভাব তাঁর চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের পক্ষে কোনো নিয়োগসংক্রান্ত নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

চাকরিতে যোগদানের পর নির্মল মালো রাজউকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে তিনি মহাখালী ও দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি রাজউকের অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ নুর আলমের অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

নির্মল মালোর সম্পদ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে কয়েকটি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের আমবাড়ী এলাকায় প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে তাঁর মাছের ঘের রয়েছে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা-বাগধা এলাকায় রয়েছে প্রায় ৩৫ বিঘা জমির আরেকটি মাছের ঘের। কোটালীপাড়া পৌরসভার বাগান উত্তরপাড়া এলাকায় প্রায় ২০ বিঘা জমিতে একটি পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালিত হচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এ ছাড়া কোটালীপাড়া পৌর এলাকার কমলকুড়ী স্কুল সড়কে নিজের নামে প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, নির্মল মালোর পরিবারের আর্থিক অবস্থায় চাকরিতে যোগদানের আগে ও পরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। তাঁর বাবার আগের টিনের ঘরের পরিবর্তে পাকা ভবন নির্মাণ এবং পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টিও স্থানীয়দের আলোচনায় এসেছে।

তবে এসব জমি, ঘের, খামার ও বাড়ির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, মালিকানা এবং ক্রয়মূল্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সম্পদগুলো নির্মল মালোর নিজের, তাঁর পরিবারের সদস্যদের, নাকি অন্য কারও নামে রয়েছে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি ও নিবন্ধন দপ্তরের নথি পরীক্ষা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকার মগবাজার, আফতাবনগর, পুরান ঢাকার ওয়ারী এবং কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় নির্মল মালোর একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর একটি দামি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং নিজের ব্যবহারের জন্য অন্তত তিনটি দামি মোটরসাইকেল রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে ও বেনামে জমি কেনার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি চাকরির স্বল্প সময়ে এসব সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখা প্রয়োজন। তবে সম্পদের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, ক্রয়কাল, অর্থের উৎস এবং সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির নিবন্ধন নথি, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং ব্যাংক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

দক্ষিণখান ও মহাখালী এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় নির্মল মালোর বিরুদ্ধে একাধিক ভবনমালিক ও ডেভেলপারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের দাবি, রাজউকের অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ, ডেভিয়েশন, সরু রাস্তা এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাঁদের নোটিশ দেওয়া হতো। পরে রাজউকের কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করা বা ভবনের বর্ধিতাংশ অপসারণের আশঙ্কা দেখানো হতো বলে তাঁদের অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হতো এবং কেউ কেউ বাধ্য হয়ে টাকা দিতেন। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন ভবন ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নির্মল মালো অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে কোন ভবনমালিক কখন, কোথায় এবং কী পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নোটিশ, ভবন পরিদর্শন প্রতিবেদন, অনুমোদিত নকশা, অভিযোগপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

নির্মল মালোর বাড়িতে দীর্ঘদিন দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন বলে পরিচয় দেওয়া নিহার রঞ্জন এবং কোটালীপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা তাঁর সম্পদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সম্পদ ও আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাঁদের দেওয়া তথ্যের স্বাধীন যাচাই এবং সম্পত্তির দলিলপত্র পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্মল মালোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোনে কর্কশ ভাষায় কথা বলেন বলে প্রতিবেদকের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি কোটালীপাড়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন বলেও দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর বক্তব্য জানতে কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের ভাষ্য। কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে নির্মল মালো বর্তমানে অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ নুর আলমের অধীনে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নুর আলমের বিরুদ্ধেও রাজউকের নকশা অনুমোদন, ভবনের অনুমোদন, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ এবং ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও নকশাবহির্ভূত অংশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন অভিযোগকারীর দাবি, ফাইল আটকে রেখে অর্থ দাবি এবং ভবনমালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন।

এক আবাসন ব্যবসায়ীর কাছে নকশা অনুমোদনের বিনিময়ে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও নুর আলমের বিরুদ্ধে রয়েছে। তবে ওই অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বক্তব্য, লেনদেনের প্রমাণ কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। নুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের ভাষ্য।

নুর আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মল মালো সম্প্রতি তাঁর অধীনে যোগ দিয়েছেন। নির্মল আগে কোথায় কী করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তবে বিষয়টি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন। নুর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামের কাছে এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ডিজিটাল সেবা আরও গতিশীল করা হবে। অবৈধ নির্মাণ ও বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত মানদণ্ড নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে নির্মল মালো ও নুর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে নিম্নস্তরের কর্মকর্তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বারবার উঠেছে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, সম্পদ যাচাই এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে দুর্নীতির চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া নগর পরিকল্পনা সুরক্ষিত থাকে না।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, অপরিকল্পিত নির্মাণ ও বিধি লঙ্ঘন শুধু ভূমিকম্প ঝুঁকি বাড়ায় না, দুর্নীতির সুযোগও সৃষ্টি করে। কঠোর আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


রাজউকে ঘুষের জাল, সম্পদের পাহাড় নির্মল মালোর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক নির্মল মালোর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সরকারি চাকরিতে যোগদানের ছয়-সাত বছরের মধ্যে তিনি গোপালগঞ্জ ও বরিশালে মাছের ঘের, পোল্ট্রি ফার্ম, ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, ডুপ্লেক্স বাড়ি ও দামি গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য এবং আয়ের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্মল মালোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক নির্মল মালোর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সরকারি চাকরিতে যোগদানের ছয়-সাত বছরের মধ্যে তিনি গোপালগঞ্জ ও বরিশালে মাছের ঘের, পোল্ট্রি ফার্ম, ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, ডুপ্লেক্স বাড়ি ও দামি গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য এবং আয়ের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্মল মালোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে।

জধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক নির্মল মালোর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সরকারি চাকরিতে যোগদানের ছয়-সাত বছরের মধ্যে তিনি গোপালগঞ্জ ও বরিশালে মাছের ঘের, পোল্ট্রি ফার্ম, ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, ডুপ্লেক্স বাড়ি ও দামি গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য এবং আয়ের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্মল মালোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজউকের মহাখালী ও দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে নির্মল মালোকে ঘিরে ঘুষ গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। নির্মাণাধীন ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ, ভবনের অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি, রাস্তার প্রস্থ এবং ভবনের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাংশের বিভিন্ন ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের নোটিশ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাঁদের ভাষ্য, পরে ভবনের বর্ধিতাংশ অপসারণ, নির্মাণকাজ বন্ধসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হতো। কয়েকজন ভবনমালিকের দাবি, এভাবে তাঁদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নির্মল মালোর পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, তাঁর বাবা নিত্যগোপাল মালো মাদারীপুরের রাজৈর থেকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি পোনা মাছের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর যোগাযোগ ও প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, নিত্যগোপাল মালো আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী লীগের কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তবে তাঁর পদে থাকার সময়কাল ও রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে দলীয় বা সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

নিত্যগোপাল মালোর বড় ছেলে নির্মল মালো ঢাকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তিনি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক পদে চাকরিতে যোগ দেন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পারিবারিক রাজনৈতিক যোগাযোগ ও আর্থিক প্রভাব তাঁর চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের পক্ষে কোনো নিয়োগসংক্রান্ত নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

চাকরিতে যোগদানের পর নির্মল মালো রাজউকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে তিনি মহাখালী ও দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি রাজউকের অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ নুর আলমের অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

নির্মল মালোর সম্পদ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে কয়েকটি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের আমবাড়ী এলাকায় প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে তাঁর মাছের ঘের রয়েছে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা-বাগধা এলাকায় রয়েছে প্রায় ৩৫ বিঘা জমির আরেকটি মাছের ঘের। কোটালীপাড়া পৌরসভার বাগান উত্তরপাড়া এলাকায় প্রায় ২০ বিঘা জমিতে একটি পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালিত হচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এ ছাড়া কোটালীপাড়া পৌর এলাকার কমলকুড়ী স্কুল সড়কে নিজের নামে প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, নির্মল মালোর পরিবারের আর্থিক অবস্থায় চাকরিতে যোগদানের আগে ও পরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। তাঁর বাবার আগের টিনের ঘরের পরিবর্তে পাকা ভবন নির্মাণ এবং পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টিও স্থানীয়দের আলোচনায় এসেছে।

তবে এসব জমি, ঘের, খামার ও বাড়ির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, মালিকানা এবং ক্রয়মূল্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সম্পদগুলো নির্মল মালোর নিজের, তাঁর পরিবারের সদস্যদের, নাকি অন্য কারও নামে রয়েছে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি ও নিবন্ধন দপ্তরের নথি পরীক্ষা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকার মগবাজার, আফতাবনগর, পুরান ঢাকার ওয়ারী এবং কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় নির্মল মালোর একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর একটি দামি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং নিজের ব্যবহারের জন্য অন্তত তিনটি দামি মোটরসাইকেল রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে ও বেনামে জমি কেনার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি চাকরির স্বল্প সময়ে এসব সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখা প্রয়োজন। তবে সম্পদের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, ক্রয়কাল, অর্থের উৎস এবং সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির নিবন্ধন নথি, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং ব্যাংক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

দক্ষিণখান ও মহাখালী এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় নির্মল মালোর বিরুদ্ধে একাধিক ভবনমালিক ও ডেভেলপারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের দাবি, রাজউকের অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ, ডেভিয়েশন, সরু রাস্তা এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাঁদের নোটিশ দেওয়া হতো। পরে রাজউকের কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করা বা ভবনের বর্ধিতাংশ অপসারণের আশঙ্কা দেখানো হতো বলে তাঁদের অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভবনমালিক ও ডেভেলপারদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হতো এবং কেউ কেউ বাধ্য হয়ে টাকা দিতেন। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন ভবন ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নির্মল মালো অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে কোন ভবনমালিক কখন, কোথায় এবং কী পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নোটিশ, ভবন পরিদর্শন প্রতিবেদন, অনুমোদিত নকশা, অভিযোগপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

নির্মল মালোর বাড়িতে দীর্ঘদিন দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন বলে পরিচয় দেওয়া নিহার রঞ্জন এবং কোটালীপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা তাঁর সম্পদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সম্পদ ও আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাঁদের দেওয়া তথ্যের স্বাধীন যাচাই এবং সম্পত্তির দলিলপত্র পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্মল মালোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোনে কর্কশ ভাষায় কথা বলেন বলে প্রতিবেদকের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি কোটালীপাড়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন বলেও দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর বক্তব্য জানতে কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের ভাষ্য। কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে নির্মল মালো বর্তমানে অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ নুর আলমের অধীনে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নুর আলমের বিরুদ্ধেও রাজউকের নকশা অনুমোদন, ভবনের অনুমোদন, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ এবং ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও নকশাবহির্ভূত অংশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন অভিযোগকারীর দাবি, ফাইল আটকে রেখে অর্থ দাবি এবং ভবনমালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন।

এক আবাসন ব্যবসায়ীর কাছে নকশা অনুমোদনের বিনিময়ে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও নুর আলমের বিরুদ্ধে রয়েছে। তবে ওই অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বক্তব্য, লেনদেনের প্রমাণ কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। নুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের ভাষ্য।

নুর আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মল মালো সম্প্রতি তাঁর অধীনে যোগ দিয়েছেন। নির্মল আগে কোথায় কী করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তবে বিষয়টি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন। নুর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামের কাছে এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ডিজিটাল সেবা আরও গতিশীল করা হবে। অবৈধ নির্মাণ ও বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত মানদণ্ড নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে নির্মল মালো ও নুর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে নিম্নস্তরের কর্মকর্তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বারবার উঠেছে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, সম্পদ যাচাই এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে দুর্নীতির চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া নগর পরিকল্পনা সুরক্ষিত থাকে না।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, অপরিকল্পিত নির্মাণ ও বিধি লঙ্ঘন শুধু ভূমিকম্প ঝুঁকি বাড়ায় না, দুর্নীতির সুযোগও সৃষ্টি করে। কঠোর আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত