জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা



লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে বর্তমানে মেরামতের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার গুরুতর রোগীদের দ্রুত চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজারে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স দুটি হলো 


বান্দরবান-ছ-৭১-০০০১ ও ঢাকা মেট্রো-ছ-৭১-১০৬১। এর মধ্যে একটি ১৯৯৭ সালে এবং অন্যটি ২০০৯ সালে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় একপর্যায়ে দুটিই অচল হয়ে পড়ে।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি একটি অ্যাম্বুলেন্স কয়েক দিন মেরামত করে কোনো রকমে চালানো হলেও বর্তমানে সেটিও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। এখন দুটি অ্যাম্বুলেন্সই হাসপাতালের গ্যারেজে পড়ে রয়েছে।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লামা ছাড়াও আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলার আংশিক এলাকার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ২৫০ থেকে ৩৫০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৯০ থেকে ১০০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। গুরুতর রোগীদের চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজারে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বাইরে থেকে ভাড়া করে গাড়ি আনতে হচ্ছে। এতে জরুরি রোগী স্থানান্তরে সময় ও অর্থের বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।


রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিব আহমেদ বলেন, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় জরুরি সময়ে দ্রুত গাড়ি পাওয়া কঠিন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক সময় রোগীকে সময়মতো চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে গুরুতর রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।


হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. লায়েজ আহম্মদ ভূঁইয়া বলেন, আমি যোগদানের সময়ই একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। অন্যটি বারবার মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে সেটিও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে।


এদিকে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম।


তিনি বলেন,পুরোনো দুটি অ্যাম্বুলেন্স বেশ কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। মেকানিকরা জানিয়েছেন, এগুলো এখন আর মেরামতযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন।


স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে বর্তমানে মেরামতের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার গুরুতর রোগীদের দ্রুত চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজারে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স দুটি হলো 


বান্দরবান-ছ-৭১-০০০১ ও ঢাকা মেট্রো-ছ-৭১-১০৬১। এর মধ্যে একটি ১৯৯৭ সালে এবং অন্যটি ২০০৯ সালে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় একপর্যায়ে দুটিই অচল হয়ে পড়ে।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি একটি অ্যাম্বুলেন্স কয়েক দিন মেরামত করে কোনো রকমে চালানো হলেও বর্তমানে সেটিও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। এখন দুটি অ্যাম্বুলেন্সই হাসপাতালের গ্যারেজে পড়ে রয়েছে।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লামা ছাড়াও আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলার আংশিক এলাকার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ২৫০ থেকে ৩৫০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৯০ থেকে ১০০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। গুরুতর রোগীদের চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজারে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বাইরে থেকে ভাড়া করে গাড়ি আনতে হচ্ছে। এতে জরুরি রোগী স্থানান্তরে সময় ও অর্থের বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।


রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিব আহমেদ বলেন, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় জরুরি সময়ে দ্রুত গাড়ি পাওয়া কঠিন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক সময় রোগীকে সময়মতো চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে গুরুতর রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।


হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. লায়েজ আহম্মদ ভূঁইয়া বলেন, আমি যোগদানের সময়ই একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। অন্যটি বারবার মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে সেটিও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে।


এদিকে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম।


তিনি বলেন,পুরোনো দুটি অ্যাম্বুলেন্স বেশ কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। মেকানিকরা জানিয়েছেন, এগুলো এখন আর মেরামতযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন।


স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত