জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন নিশ্চিতের দাবি

লবণের ন্যূনতম মূল্য প্রতিমণ ৪২৫ টাকা নির্ধারণ



লবণের ন্যূনতম মূল্য প্রতিমণ ৪২৫ টাকা নির্ধারণ

দেশে উৎপাদিত লবণের ন্যূনতম মূল্য প্রতিমণ ৪২৫ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লবণের উৎপাদন ব্যয়, বাজার পরিস্থিতি ও চাষিদের স্বার্থ বিবেচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘লবণের চাহিদা নিরূপণ, লবণনীতি বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি’র সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


শিল্পমন্ত্রী বলেন, লবণের উৎপাদন ব্যয়, বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি ও চাষিদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রতিমণ লবণের ন্যূনতম মূল্য ৪২৫ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মূল্য কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে লবণচাষিরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাবেন। পাশাপাশি বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং লবণ উৎপাদনে চাষিদের উৎসাহিত করতেও এ সিদ্ধান্ত ভূমিকা রাখবে।


সভায় লবণের উৎপাদন বৃদ্ধি, চাহিদা নিরূপণ, মাঠপর্যায়ে ক্রুড লবণের মান নির্ধারণ, মূল্য নির্ধারণ ও বাজার ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), কৃষি, ভূমি, খাদ্য, বাণিজ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া লবণচাষি কল্যাণ সমিতি ও লবণ মিল মালিক সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় মতামত দেন।


ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন লবণচাষিদের প্রতিনিধিরা। তবে ঘোষিত মূল্য বাস্তবে কার্যকর করা এবং চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।


কক্সবাজার লবণ চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন বলেন, চাষিদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে ঘোষিত মূল্য যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যে লবণ কেনাবেচা নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা এর প্রকৃত সুফল পাবেন।


সমিতির সাধারণ সম্পাদক এজেএম গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর লবণ উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। এ অবস্থায় চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাজার মনিটরিং জোরদার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অযাচিত প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।


পেকুয়া উপজেলা লবণ, মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসাইন বলেন, প্রতিমণ লবণের ন্যূনতম মূল্য ৪২৫ টাকা নির্ধারণ চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদ্যোগ। তবে উৎপাদন ব্যয়, জমির বর্গা খাজনা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে নিয়মিত বাজার তদারকি এবং চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ন্যায্যমূল্যে লবণ কেনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।


লবণচাষিদের মতে, শুধু মূল্য নির্ধারণ করলেই বাজারে এর কার্যকর প্রভাব পড়বে না। নির্ধারিত মূল্যে চাষিদের কাছ থেকে লবণ কেনা নিশ্চিত করা, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে লবণচাষের জমির বর্গা খাজনা সহনীয় পর্যায়ে রাখতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।


সভায় বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. নূরুজ্জামান, লবণ সেলের প্রধান সরওয়ার আলম এবং লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। কক্সবাজার লবণ চাষী কল্যাণ সমিতি ও পেকুয়া উপজেলা লবণ, মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে লবণের উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা ও চাষিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


লবণের ন্যূনতম মূল্য প্রতিমণ ৪২৫ টাকা নির্ধারণ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশে উৎপাদিত লবণের ন্যূনতম মূল্য প্রতিমণ ৪২৫ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লবণের উৎপাদন ব্যয়, বাজার পরিস্থিতি ও চাষিদের স্বার্থ বিবেচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘লবণের চাহিদা নিরূপণ, লবণনীতি বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি’র সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


শিল্পমন্ত্রী বলেন, লবণের উৎপাদন ব্যয়, বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি ও চাষিদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রতিমণ লবণের ন্যূনতম মূল্য ৪২৫ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মূল্য কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে লবণচাষিরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাবেন। পাশাপাশি বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং লবণ উৎপাদনে চাষিদের উৎসাহিত করতেও এ সিদ্ধান্ত ভূমিকা রাখবে।


সভায় লবণের উৎপাদন বৃদ্ধি, চাহিদা নিরূপণ, মাঠপর্যায়ে ক্রুড লবণের মান নির্ধারণ, মূল্য নির্ধারণ ও বাজার ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), কৃষি, ভূমি, খাদ্য, বাণিজ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া লবণচাষি কল্যাণ সমিতি ও লবণ মিল মালিক সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় মতামত দেন।


ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন লবণচাষিদের প্রতিনিধিরা। তবে ঘোষিত মূল্য বাস্তবে কার্যকর করা এবং চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।


কক্সবাজার লবণ চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন বলেন, চাষিদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে ঘোষিত মূল্য যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যে লবণ কেনাবেচা নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা এর প্রকৃত সুফল পাবেন।


সমিতির সাধারণ সম্পাদক এজেএম গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর লবণ উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। এ অবস্থায় চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাজার মনিটরিং জোরদার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অযাচিত প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।


পেকুয়া উপজেলা লবণ, মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসাইন বলেন, প্রতিমণ লবণের ন্যূনতম মূল্য ৪২৫ টাকা নির্ধারণ চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদ্যোগ। তবে উৎপাদন ব্যয়, জমির বর্গা খাজনা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে নিয়মিত বাজার তদারকি এবং চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ন্যায্যমূল্যে লবণ কেনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।


লবণচাষিদের মতে, শুধু মূল্য নির্ধারণ করলেই বাজারে এর কার্যকর প্রভাব পড়বে না। নির্ধারিত মূল্যে চাষিদের কাছ থেকে লবণ কেনা নিশ্চিত করা, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে লবণচাষের জমির বর্গা খাজনা সহনীয় পর্যায়ে রাখতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।


সভায় বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. নূরুজ্জামান, লবণ সেলের প্রধান সরওয়ার আলম এবং লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। কক্সবাজার লবণ চাষী কল্যাণ সমিতি ও পেকুয়া উপজেলা লবণ, মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে লবণের উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা ও চাষিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত