ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি বর্তমানে একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধ সিন্ডিকেট, নজিরবিহীন ঘুষ বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বেপরোয়া লুটপাটের এক ভয়ানক আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখানে আইনের শাসন বা প্রশাসনিক নিয়মনীতির কোনো বালাই নেই; বরং ক্ষমতার অপব্যবহারের একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করে বসে আছেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য এবং দুর্নীতির প্রাকার সুরক্ষিত রাখতে এবং একক আধিপত্য বজায় রাখতে সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি ঘটিয়ে চলেছেন একের পর এক অপকর্ম। সামান্য প্রতিবাদ করা বা সততার ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখার অপরাধে যোগদানের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আমিনবাজার থেকে অত্যন্ত রহস্যজনক, হঠকারী ও পরিকল্পিত উপায়ে বদলি করা হয়েছে আরেক কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেনকে।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি-সমর্থিত পরিবারের সন্তান বিল্লাল হোসেনকে হটাতে এবং নিজের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের পথ সম্পূর্ণ অবমুক্ত করতে বিপুল অঙ্কের কালো টাকা ও অবৈধ অর্থের থলি উপুড় করে এই বদলি নিশ্চিত করেছেন মনিরুজ্জামান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৭ জুন আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেন মো. বিল্লাল হোসেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তার সৎ ও আপসহীন মনোভাবই কাল হয়ে দাঁড়ায়। তার উপস্থিতি আমিনবাজার ভূমি অফিসের দীর্ঘদিনের শিকড় গেড়ে বসা মনিরুজ্জামানি সিন্ডিকেটের লুটপাটের মচ্ছবে বড় ধরনের ফাটল ধরায়। দালালনির্ভর রাজস্ব বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ হতে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়ে মনিরুজ্জামান। নিজের অপরাধের সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে তিনি নানামুখী কূটকৌশলের আশ্রয় নেন। এরই ফলশ্রুতিতে গত ২ নভেম্বর ঢাকার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শরীফ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক গোপন ও হঠকারী অফিস আদেশে মো. বিল্লাল হোসেনকে আমিনবাজার থেকে হটিয়ে ধামরাইয়ের যাদবপুর ভূমি অফিসে সংযুক্ত করা হয়। কাগজে-কলমে জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক কাজের সুবিধার চটকদার বুলি আওড়ানো হলেও, মাত্র পাঁচ মাসের মাথাধীন এমন আকস্মিক ও কলঙ্কজনক বদলি পুরো সাভার জুড়ে তীব্র ধিক্কার ও প্রশ্নবিদ্ধ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন নিজের সততার পুরস্কার হিসেবে এমন আকস্মিক হঠকারিতার কোনো সদুত্তর বা যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে না পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই পুরো কলঙ্কিত কেলেঙ্কারির একমাত্র মাস্টারমাইন্ড ও খলনায়ক হলেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, যিনি আমিনবাজার ভূমি অফিসকে নিজের পৈতৃক তালুক ও ব্যক্তিগত লুটেরা সাম্রাজ্য বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি কেবল একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীই নন, বরং ক্ষমতার অপব্যবহারের মোড়ক হিসেবে ব্যবহার করছেন 'বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক' এবং 'ঢাকা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক'-এর মতো পদ-পদবি। এই প্রভাবশালী পদগুলোর অপব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোটা প্রশাসনকে জিম্মি করে রেখেছেন। স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দুঃশাসনে তৎকালীন কুখ্যাত সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় ক্যাডার ও মাফিয়াচক্রের সঙ্গে গভীর সখ্য গড়ে তুলেছিলেন এই মনিরুজ্জামান। আওয়ামী লীগের দলীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, মহড়া এবং নির্বাচনী প্রচারণায় তার প্রত্যক্ষ, সক্রিয় ও নগ্ন অংশগ্রহণের অকাট্য তথ্য-প্রমাণ ও দস্তাবেজ থাকা সত্ত্বেও, ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাতারাতি খোলস পাল্টে ফেলেছেন। অতি চতুর এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এখন গায়ে বিএনপির লেবাস জড়িয়ে নিজেকে অতি-সমর্থক হিসেবে জাহির করার বিকারগ্রস্ত অভিনয়ে লিপ্ত হয়েছেন, যা স্থানীয় সচেতন মহলের কাছে চরম ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। তার এই বহুরূপী চরিত্র, রাজনৈতিক ভোলবদল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুবাদেই পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সংঘবদ্ধ দালালচক্র পরিচালনা, নামজারিতে নজিরবিহীন অনিয়ম, সরকারি সম্পদ তছরুপ এবং অবৈধ উপায়ে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে সম্প্রতি এলাকার চারজন সচেতন নাগরিক ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের সুনির্দিষ্ট বয়ান অনুযায়ী, আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের পুরো ভূমি অফিসটিতে একটি দুর্ভেদ্য দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে, যার মূল চাবিকাঠি রয়েছে মনিরুজ্জামানের হাতে। নামজারি, খতিয়ান সংশোধন এবং ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন দ্বারে দ্বারে ঘুরিয়ে জুতো ক্ষয় করতে বাধ্য করা হয় এবং আদায় করা হয় লাগামহীন অতিরিক্ত অর্থ। এই হরিলুটের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও লোমহর্ষক অধ্যায়টি হলো কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিরোধপূর্ণ জমির নামজারি প্রক্রিয়া। সরকারি অনুমোদন, বিধিবিধান ও আইনগত সমস্ত তোয়াক্কাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, কোর্ট অব ওয়ার্ডসের এসব স্পর্শকাতর জমির প্রতিটি নামজারির বিপরীতে সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা করে বেপরোয়া ও নির্মমভাবে উৎকোচ আদায় করছেন এই মনিরুজ্জামান। সরকারি ফাইল ক্যাশ কাউন্টারে পরিণত করে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার পরও কোন অদৃশ্য ও শক্তিশালী শক্তির ইশারায় তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য।
এই প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, "আমিনবাজার ভূমি অফিসের বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশটি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছে। তবে এর নেপথ্যে যদি কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অসৎ প্রভাব, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা আর্থিক লেনদেনের কোনো কালো ছায়া থেকে থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর রাজনৈতিক দলের ব্যানার ব্যবহার করে কিংবা সংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি করার ন্যূনতম সুযোগ নেই। অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা মিললে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা করবে না।"
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি বর্তমানে একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধ সিন্ডিকেট, নজিরবিহীন ঘুষ বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বেপরোয়া লুটপাটের এক ভয়ানক আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখানে আইনের শাসন বা প্রশাসনিক নিয়মনীতির কোনো বালাই নেই; বরং ক্ষমতার অপব্যবহারের একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করে বসে আছেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য এবং দুর্নীতির প্রাকার সুরক্ষিত রাখতে এবং একক আধিপত্য বজায় রাখতে সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি ঘটিয়ে চলেছেন একের পর এক অপকর্ম। সামান্য প্রতিবাদ করা বা সততার ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখার অপরাধে যোগদানের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আমিনবাজার থেকে অত্যন্ত রহস্যজনক, হঠকারী ও পরিকল্পিত উপায়ে বদলি করা হয়েছে আরেক কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেনকে।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি-সমর্থিত পরিবারের সন্তান বিল্লাল হোসেনকে হটাতে এবং নিজের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের পথ সম্পূর্ণ অবমুক্ত করতে বিপুল অঙ্কের কালো টাকা ও অবৈধ অর্থের থলি উপুড় করে এই বদলি নিশ্চিত করেছেন মনিরুজ্জামান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৭ জুন আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেন মো. বিল্লাল হোসেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তার সৎ ও আপসহীন মনোভাবই কাল হয়ে দাঁড়ায়। তার উপস্থিতি আমিনবাজার ভূমি অফিসের দীর্ঘদিনের শিকড় গেড়ে বসা মনিরুজ্জামানি সিন্ডিকেটের লুটপাটের মচ্ছবে বড় ধরনের ফাটল ধরায়। দালালনির্ভর রাজস্ব বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ হতে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়ে মনিরুজ্জামান। নিজের অপরাধের সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে তিনি নানামুখী কূটকৌশলের আশ্রয় নেন। এরই ফলশ্রুতিতে গত ২ নভেম্বর ঢাকার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শরীফ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক গোপন ও হঠকারী অফিস আদেশে মো. বিল্লাল হোসেনকে আমিনবাজার থেকে হটিয়ে ধামরাইয়ের যাদবপুর ভূমি অফিসে সংযুক্ত করা হয়। কাগজে-কলমে জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক কাজের সুবিধার চটকদার বুলি আওড়ানো হলেও, মাত্র পাঁচ মাসের মাথাধীন এমন আকস্মিক ও কলঙ্কজনক বদলি পুরো সাভার জুড়ে তীব্র ধিক্কার ও প্রশ্নবিদ্ধ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন নিজের সততার পুরস্কার হিসেবে এমন আকস্মিক হঠকারিতার কোনো সদুত্তর বা যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে না পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই পুরো কলঙ্কিত কেলেঙ্কারির একমাত্র মাস্টারমাইন্ড ও খলনায়ক হলেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, যিনি আমিনবাজার ভূমি অফিসকে নিজের পৈতৃক তালুক ও ব্যক্তিগত লুটেরা সাম্রাজ্য বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি কেবল একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীই নন, বরং ক্ষমতার অপব্যবহারের মোড়ক হিসেবে ব্যবহার করছেন 'বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক' এবং 'ঢাকা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক'-এর মতো পদ-পদবি। এই প্রভাবশালী পদগুলোর অপব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোটা প্রশাসনকে জিম্মি করে রেখেছেন। স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দুঃশাসনে তৎকালীন কুখ্যাত সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় ক্যাডার ও মাফিয়াচক্রের সঙ্গে গভীর সখ্য গড়ে তুলেছিলেন এই মনিরুজ্জামান। আওয়ামী লীগের দলীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, মহড়া এবং নির্বাচনী প্রচারণায় তার প্রত্যক্ষ, সক্রিয় ও নগ্ন অংশগ্রহণের অকাট্য তথ্য-প্রমাণ ও দস্তাবেজ থাকা সত্ত্বেও, ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাতারাতি খোলস পাল্টে ফেলেছেন। অতি চতুর এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এখন গায়ে বিএনপির লেবাস জড়িয়ে নিজেকে অতি-সমর্থক হিসেবে জাহির করার বিকারগ্রস্ত অভিনয়ে লিপ্ত হয়েছেন, যা স্থানীয় সচেতন মহলের কাছে চরম ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। তার এই বহুরূপী চরিত্র, রাজনৈতিক ভোলবদল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুবাদেই পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সংঘবদ্ধ দালালচক্র পরিচালনা, নামজারিতে নজিরবিহীন অনিয়ম, সরকারি সম্পদ তছরুপ এবং অবৈধ উপায়ে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে সম্প্রতি এলাকার চারজন সচেতন নাগরিক ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের সুনির্দিষ্ট বয়ান অনুযায়ী, আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের পুরো ভূমি অফিসটিতে একটি দুর্ভেদ্য দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে, যার মূল চাবিকাঠি রয়েছে মনিরুজ্জামানের হাতে। নামজারি, খতিয়ান সংশোধন এবং ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন দ্বারে দ্বারে ঘুরিয়ে জুতো ক্ষয় করতে বাধ্য করা হয় এবং আদায় করা হয় লাগামহীন অতিরিক্ত অর্থ। এই হরিলুটের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও লোমহর্ষক অধ্যায়টি হলো কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিরোধপূর্ণ জমির নামজারি প্রক্রিয়া। সরকারি অনুমোদন, বিধিবিধান ও আইনগত সমস্ত তোয়াক্কাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, কোর্ট অব ওয়ার্ডসের এসব স্পর্শকাতর জমির প্রতিটি নামজারির বিপরীতে সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা করে বেপরোয়া ও নির্মমভাবে উৎকোচ আদায় করছেন এই মনিরুজ্জামান। সরকারি ফাইল ক্যাশ কাউন্টারে পরিণত করে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার পরও কোন অদৃশ্য ও শক্তিশালী শক্তির ইশারায় তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য।
এই প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, "আমিনবাজার ভূমি অফিসের বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশটি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছে। তবে এর নেপথ্যে যদি কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অসৎ প্রভাব, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা আর্থিক লেনদেনের কোনো কালো ছায়া থেকে থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর রাজনৈতিক দলের ব্যানার ব্যবহার করে কিংবা সংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি করার ন্যূনতম সুযোগ নেই। অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা মিললে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা করবে না।"
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন