জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

লামায় সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ থেকে পরপর দুই বছর বাদ ৫ বৌদ্ধ বিহার



লামায় সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ থেকে পরপর দুই বছর বাদ ৫ বৌদ্ধ বিহার

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ফরম বিতরণ করা হয়েছে। তবে সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার খাদ্যশস্য বরাদ্দের তালিকায় ২৮৪ নম্বর ইয়াংছা মৌজার পাঁচটি বৌদ্ধ বিহারের নাম না থাকায় স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরপর দুই বছর বরাদ্দ থেকে বাদ পড়ায় বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।


সম্প্রতি উপজেলার ছাগলখাইয়া বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব ফরম বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের লামা উপজেলা শাখার সভাপতি জয়বংশ মহাথেরো। প্রধান অতিথি ছিলেন লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইনোঅং চৌধুরী। এ সময় পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের লামা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উঃ পইয়াদ্যাজা মহাথেরোসহ বিভিন্ন এলাকার হেডম্যান ও কারবারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার ৬৮টি বৌদ্ধ বিহারের জন্য ফরম বিতরণ করা হয়।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ৮৩টি বৌদ্ধ বিহারের জন্য প্রতিটি বিহারের অনুকূলে ৬০০ কেজি করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ইয়াংছা মৌজার পাঁচটি বৌদ্ধ বিহার এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিহারগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষেও প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য ৫০০ কেজি করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ও ইয়াংছা মৌজার পাঁচটি বিহার বরাদ্দ পায়নি। এবারও একই ঘটনা ঘটায় বরাদ্দের তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন ও বিহারকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ একই মৌজার পাঁচটি বিহার পরপর দুই বছর বরাদ্দের বাইরে থাকায় তাঁরা হতাশ। কী কারণে বিহারগুলো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


তাঁদের দাবি, বাদ পড়া বিহারগুলোর বরাদ্দের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বরাদ্দ বিতরণে বৈষম্য এড়াতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

বরাদ্দের তালিকা থেকে বাদ পড়া পাঁচটি বৌদ্ধ বিহার হলো ইয়াংছা বড় পাড়া বৌদ্ধ বিহার, ইয়াংছা হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহার, ইয়াংছা নামাপাড়া বৌদ্ধ বিহার, কৃপাশরণ ও নন্দমালা বৌদ্ধ বিহার এবং জীনামেজু অনাথ আশ্রম বৌদ্ধ বিহার।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


লামায় সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ থেকে পরপর দুই বছর বাদ ৫ বৌদ্ধ বিহার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ফরম বিতরণ করা হয়েছে। তবে সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার খাদ্যশস্য বরাদ্দের তালিকায় ২৮৪ নম্বর ইয়াংছা মৌজার পাঁচটি বৌদ্ধ বিহারের নাম না থাকায় স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরপর দুই বছর বরাদ্দ থেকে বাদ পড়ায় বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।


সম্প্রতি উপজেলার ছাগলখাইয়া বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব ফরম বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের লামা উপজেলা শাখার সভাপতি জয়বংশ মহাথেরো। প্রধান অতিথি ছিলেন লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইনোঅং চৌধুরী। এ সময় পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের লামা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উঃ পইয়াদ্যাজা মহাথেরোসহ বিভিন্ন এলাকার হেডম্যান ও কারবারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার ৬৮টি বৌদ্ধ বিহারের জন্য ফরম বিতরণ করা হয়।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ৮৩টি বৌদ্ধ বিহারের জন্য প্রতিটি বিহারের অনুকূলে ৬০০ কেজি করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ইয়াংছা মৌজার পাঁচটি বৌদ্ধ বিহার এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিহারগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষেও প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য ৫০০ কেজি করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ও ইয়াংছা মৌজার পাঁচটি বিহার বরাদ্দ পায়নি। এবারও একই ঘটনা ঘটায় বরাদ্দের তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন ও বিহারকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ একই মৌজার পাঁচটি বিহার পরপর দুই বছর বরাদ্দের বাইরে থাকায় তাঁরা হতাশ। কী কারণে বিহারগুলো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


তাঁদের দাবি, বাদ পড়া বিহারগুলোর বরাদ্দের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বরাদ্দ বিতরণে বৈষম্য এড়াতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

বরাদ্দের তালিকা থেকে বাদ পড়া পাঁচটি বৌদ্ধ বিহার হলো ইয়াংছা বড় পাড়া বৌদ্ধ বিহার, ইয়াংছা হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহার, ইয়াংছা নামাপাড়া বৌদ্ধ বিহার, কৃপাশরণ ও নন্দমালা বৌদ্ধ বিহার এবং জীনামেজু অনাথ আশ্রম বৌদ্ধ বিহার।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত