চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে রিদুয়ানুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আয়শা ছিদ্দিকা (১৮) গত ১৭ অক্টোবর লোহাগাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত রিদুয়ানুল হক উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কলাউজানের আদারচর লতিয়ার পাড়ার বাসিন্দা কামাল উদ্দিনের বড় ছেলে বলে জানা গেছে। বিবাহসংক্রান্ত একটি ফর্দনামা সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের সম্মতিতে ওই ফর্দনামা সম্পাদন করা হয় বলে প্রতিবেদকের কাছে থাকা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আয়শা ছিদ্দিকার অভিযোগ, অভিযুক্ত রিদুয়ানুল হক তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। একপর্যায়ে তিনি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিলে তাঁদের মধ্যে সাড়ে তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ওই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত তাঁকে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে নিয়ে যেতেন এবং একাধিকবার তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে দুই পরিবারের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অভিযুক্তের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় আয়শার। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি নিজের প্রয়োজনে নাফার টিলা বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় অভিযুক্ত তাঁর অটোরিকশা নিয়ে বাড়ির সামনের সড়কে অপেক্ষা করছিলেন। আয়শা ওই অটোরিকশায় উঠলে অভিযুক্ত তাঁকে বাজারে যাওয়ার সঠিক পথে না নিয়ে অন্য পথে যেতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতলী স্টেশনের উত্তরে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত তাঁকে একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
পরে অভিযুক্ত তাঁকে অটোরিকশায় করে বাড়িতে পৌঁছে দিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধরার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত তাঁকে ধাক্কা দিয়ে অটোরিকশা থেকে ফেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার কারণে মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রিদুয়ানুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির উদ্দিন জানান, আয়শা ছিদ্দিকা ও রিদুয়ানুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিকভাবে একটি ফর্দনামা সম্পাদন করা হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না। বর্তমানে রিদুয়ানুল হক বাড়িতে নেই বলেও জানান তিনি।
মনির উদ্দিন আরও জানান, ভুক্তভোগী আইনগত সহায়তা চেয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা একটি অটোরিকশা শনাক্ত করে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। এ সময় অটোরিকশাটি চালানোর অবস্থায় অভিযুক্তের ছোট ভাই মুক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে।
পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির উদ্দিনকে জানানো হয়। তিনি কলাউজান ইউনিয়নের আরেক ইউপি সদস্য সেলিমের সঙ্গে আলোচনা করে অটোরিকশাটি ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রাখার ব্যবস্থা করেন এবং মুক্তারকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
লোহাগাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে রিদুয়ানুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আয়শা ছিদ্দিকা (১৮) গত ১৭ অক্টোবর লোহাগাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত রিদুয়ানুল হক উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কলাউজানের আদারচর লতিয়ার পাড়ার বাসিন্দা কামাল উদ্দিনের বড় ছেলে বলে জানা গেছে। বিবাহসংক্রান্ত একটি ফর্দনামা সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের সম্মতিতে ওই ফর্দনামা সম্পাদন করা হয় বলে প্রতিবেদকের কাছে থাকা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আয়শা ছিদ্দিকার অভিযোগ, অভিযুক্ত রিদুয়ানুল হক তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। একপর্যায়ে তিনি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিলে তাঁদের মধ্যে সাড়ে তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ওই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত তাঁকে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে নিয়ে যেতেন এবং একাধিকবার তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে দুই পরিবারের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অভিযুক্তের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় আয়শার। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি নিজের প্রয়োজনে নাফার টিলা বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় অভিযুক্ত তাঁর অটোরিকশা নিয়ে বাড়ির সামনের সড়কে অপেক্ষা করছিলেন। আয়শা ওই অটোরিকশায় উঠলে অভিযুক্ত তাঁকে বাজারে যাওয়ার সঠিক পথে না নিয়ে অন্য পথে যেতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতলী স্টেশনের উত্তরে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত তাঁকে একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
পরে অভিযুক্ত তাঁকে অটোরিকশায় করে বাড়িতে পৌঁছে দিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধরার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত তাঁকে ধাক্কা দিয়ে অটোরিকশা থেকে ফেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার কারণে মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রিদুয়ানুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির উদ্দিন জানান, আয়শা ছিদ্দিকা ও রিদুয়ানুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিকভাবে একটি ফর্দনামা সম্পাদন করা হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না। বর্তমানে রিদুয়ানুল হক বাড়িতে নেই বলেও জানান তিনি।
মনির উদ্দিন আরও জানান, ভুক্তভোগী আইনগত সহায়তা চেয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা একটি অটোরিকশা শনাক্ত করে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। এ সময় অটোরিকশাটি চালানোর অবস্থায় অভিযুক্তের ছোট ভাই মুক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে।
পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির উদ্দিনকে জানানো হয়। তিনি কলাউজান ইউনিয়নের আরেক ইউপি সদস্য সেলিমের সঙ্গে আলোচনা করে অটোরিকশাটি ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রাখার ব্যবস্থা করেন এবং মুক্তারকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
লোহাগাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন