জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের প্রত্যয়, পৌর যুবদলের সভাপতি পদে আরিফের প্রস্তুতি



কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের প্রত্যয়, পৌর যুবদলের সভাপতি পদে আরিফের প্রস্তুতি

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ। কর্মীবান্ধব সংগঠন গড়ে তোলা, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেতৃত্বে আসতে চান তিনি।

আরিফুল ইসলাম আরিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে তিনি কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতাকে তিনি নেতৃত্বের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচনী মাঠেও সক্রিয়

২০২০ সালে কুড়িগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরিফুল ইসলাম আরিফ। ওই নির্বাচনে তিনি ৫৫৫ ভোট পান।

নির্বাচনী রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে পৌর যুবদলের নেতৃত্বের প্রশ্নে তার নাম আলোচনায় এসেছে বলে দাবি করেছেন তার সমর্থকরা।

চিকিৎসাসেবায় সামাজিক উদ্যোগ

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন আরিফ। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চার বছর মেয়াদি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন বলে জানান।

চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য সেখানে চিকিৎসাসেবায় সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যাতে কেউ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্রীড়াঙ্গনেও সম্পৃক্ততা

তরুণদের ক্রীড়ামুখী করতে স্থানীয়ভাবে কাজ করছেন আরিফুল ইসলাম আরিফ। তিনি আলো স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার মতে, যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

বেকারত্ব মোকাবিলায় গুরুত্ব

কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের সভাপতি পদে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ হলে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, তৃণমূলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেকারত্ব মোকাবিলাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দিতে চান আরিফুল ইসলাম আরিফ।

তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।

আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমি কর্মীবান্ধব নেতৃত্বে বিশ্বাস করি। দায়িত্ব পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেব।”

তিনি আরও বলেন, “কুড়িগ্রামের যুবসমাজের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ। তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। যুবদলের নেতৃত্বে আসতে পারলে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই।”

তৃণমূলে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয়

কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম আরিফের নামও আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালন, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে তিনি এবার পৌর যুবদলের নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী।

তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব। আরিফুল ইসলাম আরিফের প্রত্যাশা, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে তাকে নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের প্রত্যয়, পৌর যুবদলের সভাপতি পদে আরিফের প্রস্তুতি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ। কর্মীবান্ধব সংগঠন গড়ে তোলা, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেতৃত্বে আসতে চান তিনি।

আরিফুল ইসলাম আরিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে তিনি কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতাকে তিনি নেতৃত্বের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচনী মাঠেও সক্রিয়

২০২০ সালে কুড়িগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরিফুল ইসলাম আরিফ। ওই নির্বাচনে তিনি ৫৫৫ ভোট পান।

নির্বাচনী রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে পৌর যুবদলের নেতৃত্বের প্রশ্নে তার নাম আলোচনায় এসেছে বলে দাবি করেছেন তার সমর্থকরা।

চিকিৎসাসেবায় সামাজিক উদ্যোগ

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন আরিফ। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চার বছর মেয়াদি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন বলে জানান।

চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য সেখানে চিকিৎসাসেবায় সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যাতে কেউ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্রীড়াঙ্গনেও সম্পৃক্ততা

তরুণদের ক্রীড়ামুখী করতে স্থানীয়ভাবে কাজ করছেন আরিফুল ইসলাম আরিফ। তিনি আলো স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার মতে, যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

বেকারত্ব মোকাবিলায় গুরুত্ব

কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের সভাপতি পদে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ হলে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, তৃণমূলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেকারত্ব মোকাবিলাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দিতে চান আরিফুল ইসলাম আরিফ।

তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।

আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমি কর্মীবান্ধব নেতৃত্বে বিশ্বাস করি। দায়িত্ব পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেব।”

তিনি আরও বলেন, “কুড়িগ্রামের যুবসমাজের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ। তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। যুবদলের নেতৃত্বে আসতে পারলে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই।”

তৃণমূলে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয়

কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম আরিফের নামও আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালন, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে তিনি এবার পৌর যুবদলের নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী।

তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে কুড়িগ্রাম পৌর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব। আরিফুল ইসলাম আরিফের প্রত্যাশা, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে তাকে নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া হবে।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত