বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হারুন গাজীর মোড়সংলগ্ন এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের ‘স্কেল এলএলএ’ প্রকল্পের ‘যাকাত’ ফান্ডের আওতায় এসব ট্যাংক বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, কয়রা সদর ইউনিয়নে ২২৯টি এবং মহারাজপুর ইউনিয়নে ১৭১টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার এবং শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির সংকট কিছুটা লাঘব করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
৬ নম্বর কয়রা গ্রামের কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, পানির ট্যাংক পাওয়া তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেক চেষ্টা করেও তারা ট্যাংক কিনতে পারেননি। পরিবারের পানির চাহিদা মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হতো। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দূর থেকে পানি কিনে এনে পান করতে হতো। এখন ট্যাংকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারবেন। এতে পানির কষ্টের পাশাপাশি বাড়তি খরচও কমবে।
মহারাজপুর ইউনিয়নের শ্যামখালী গ্রামের এক অসুস্থ নারী বলেন, “রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত খাবার পানি সংগ্রহ করতে যেতে হতো। একদিকে পরিবার সামলানো, অন্যদিকে পানির সংগ্রাম। ট্যাংক পেয়ে কিছুটা হলেও উপকার হবে। বৃষ্টির সময় পানি ধরে রেখে পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করতে পারব।
বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে ট্যাংক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী।
তিনি বলেন, উপকূলীয় কয়রায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা হলে নিরাপদ পানির চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। আমরা আশা করি, উপকারভোগীরা ট্যাংকগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবেন। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কয়রার সাতটি ইউনিয়নেই লবণাক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে এসব পরিবারের পানির কষ্ট অনেকটাই কমবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য এ ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এ সময় ইউথ সদস্য ফরহাদ হোসেন, রাসেল আহমেদ, ইউপি সদস্য জামাল ফারুক জাফরিন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. গাজীউর রহমান, সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হারুন গাজীর মোড়সংলগ্ন এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের ‘স্কেল এলএলএ’ প্রকল্পের ‘যাকাত’ ফান্ডের আওতায় এসব ট্যাংক বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, কয়রা সদর ইউনিয়নে ২২৯টি এবং মহারাজপুর ইউনিয়নে ১৭১টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার এবং শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির সংকট কিছুটা লাঘব করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
৬ নম্বর কয়রা গ্রামের কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, পানির ট্যাংক পাওয়া তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেক চেষ্টা করেও তারা ট্যাংক কিনতে পারেননি। পরিবারের পানির চাহিদা মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হতো। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দূর থেকে পানি কিনে এনে পান করতে হতো। এখন ট্যাংকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারবেন। এতে পানির কষ্টের পাশাপাশি বাড়তি খরচও কমবে।
মহারাজপুর ইউনিয়নের শ্যামখালী গ্রামের এক অসুস্থ নারী বলেন, “রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত খাবার পানি সংগ্রহ করতে যেতে হতো। একদিকে পরিবার সামলানো, অন্যদিকে পানির সংগ্রাম। ট্যাংক পেয়ে কিছুটা হলেও উপকার হবে। বৃষ্টির সময় পানি ধরে রেখে পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করতে পারব।
বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে ট্যাংক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী।
তিনি বলেন, উপকূলীয় কয়রায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা হলে নিরাপদ পানির চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। আমরা আশা করি, উপকারভোগীরা ট্যাংকগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবেন। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কয়রার সাতটি ইউনিয়নেই লবণাক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে এসব পরিবারের পানির কষ্ট অনেকটাই কমবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য এ ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এ সময় ইউথ সদস্য ফরহাদ হোসেন, রাসেল আহমেদ, ইউপি সদস্য জামাল ফারুক জাফরিন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. গাজীউর রহমান, সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন