সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা নাজুক আর কখনো হয়নি। বিশেষ করে উখিয়া, টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। পর্যটন এলাকাতেও চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মন্নান বলেন, স্বাধীনতার পর কক্সবাজারে এত ভয়াবহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি তিনি আর দেখেননি। খুনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনদুপুরেই ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের অনেক এলাকায় সন্ধ্যা নামার আগেই অপরাধীদের ভয়ে এক ধরনের শুনশান পরিস্থিতি নেমে আসে।
তিনি বলেন, আদালত চত্বরে গোলাগুলি এবং বিচারকদের অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এসব ঘটনায় বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কক্সবাজার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী ও পর্যটন জেলা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে পদায়ন করা প্রয়োজন।
জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারক জানান, গত ৩০ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে এক বিচারককে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখান এক যুবক। পরে আরও দুই বিচারক তৎকালীন সদর থানার ওসি ছমিউদ্দীনকে ডেকে বিষয়টি জানান এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। বিষয়টি পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওই বিচারকের।
তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর জানুয়ারির শুরুতে জেলা জজ পদমর্যাদার একাধিক বিচারক পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বরাবর চিঠি দিয়ে নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের কাউকে গানম্যান দেওয়া হয়নি। এমনকি চিঠির কোনো জবাবও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এর মধ্যে গত ২৪ মে দিনদুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হন। এরপর বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সারাদেশে প্রতি মাসে ৩০০টির মতো মার্ডার হয়। কক্সবাজারে ১৫ থেকে ২০টা হয়। সেটা আগে হয়েছিল, এখনো হচ্ছে। বেশিরভাগ মার্ডারই পরকীয়া ও পারিবারিক কারণে হচ্ছে। খুনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’
অন্য অভিযোগ প্রসঙ্গে কিছুটা বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, ‘আমি তো অথর্ব এসপি। আপনাদের প্রিয় এসপি যখন ছিল, তখনো মার্ডার এমন হতো।’ এরপর তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা নাজুক আর কখনো হয়নি। বিশেষ করে উখিয়া, টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। পর্যটন এলাকাতেও চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মন্নান বলেন, স্বাধীনতার পর কক্সবাজারে এত ভয়াবহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি তিনি আর দেখেননি। খুনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনদুপুরেই ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের অনেক এলাকায় সন্ধ্যা নামার আগেই অপরাধীদের ভয়ে এক ধরনের শুনশান পরিস্থিতি নেমে আসে।
তিনি বলেন, আদালত চত্বরে গোলাগুলি এবং বিচারকদের অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এসব ঘটনায় বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কক্সবাজার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী ও পর্যটন জেলা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে পদায়ন করা প্রয়োজন।
জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারক জানান, গত ৩০ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে এক বিচারককে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখান এক যুবক। পরে আরও দুই বিচারক তৎকালীন সদর থানার ওসি ছমিউদ্দীনকে ডেকে বিষয়টি জানান এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। বিষয়টি পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওই বিচারকের।
তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর জানুয়ারির শুরুতে জেলা জজ পদমর্যাদার একাধিক বিচারক পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বরাবর চিঠি দিয়ে নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের কাউকে গানম্যান দেওয়া হয়নি। এমনকি চিঠির কোনো জবাবও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এর মধ্যে গত ২৪ মে দিনদুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হন। এরপর বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সারাদেশে প্রতি মাসে ৩০০টির মতো মার্ডার হয়। কক্সবাজারে ১৫ থেকে ২০টা হয়। সেটা আগে হয়েছিল, এখনো হচ্ছে। বেশিরভাগ মার্ডারই পরকীয়া ও পারিবারিক কারণে হচ্ছে। খুনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’
অন্য অভিযোগ প্রসঙ্গে কিছুটা বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, ‘আমি তো অথর্ব এসপি। আপনাদের প্রিয় এসপি যখন ছিল, তখনো মার্ডার এমন হতো।’ এরপর তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

আপনার মতামত লিখুন