দীর্ঘদিন নতুন নেতৃত্ব না আসায় বিভিন্ন ইউনিটে সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দৃশ্যমান সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ায় ছাত্রদলের অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম আসায় সংগঠনটির নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলও বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে।
ঘটনার পর সোমবার রাবি শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসান ও বিশাল চক্রবর্তী। কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, শরিফুল ইসলাম, বুলবুল রহমান, ফারুক হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম ও ছাত্রদল কর্মী সাজু। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
তবে অভিযুক্ত আহসান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের রাকসু নির্বাচনে ‘কারচুপির’ অভিযোগে নির্বাচিত জিএস আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে সাংবাদিক পরিচয়ধারী একটি পক্ষ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। তার দাবি, ওই ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ‘প্রতিহত’ করেছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলার শিকার সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের প্রতি নিজ নিজ সংগঠনে সহিংসতা বন্ধ, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু তদন্ত কমিটি বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো নতুন কমিটি ঘোষণা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন, পদ-পদবি নিয়ে গ্রুপিং এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের অভিযোগে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রনেতার অভিযোগ, যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভূমিকার পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং বলয়ভিত্তিক সমীকরণকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ত্যাগী ও মেধাবী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
এক নেতা বলেন, ‘যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের পরিবর্তে যদি ব্যক্তিগত বলয় বা সুপারিশকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাহলে নতুন কমিটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হবে। দ্রুত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করা না গেলে সংকট আরও বাড়তে পারে।’
আরেক নেতা বলেন, কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতার কারণে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও পড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব সংকট ও সাংগঠনিক দুর্বলতা দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৫ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলসমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের বিপরীতে ছাত্রশিবিরসমর্থিত সাদিক কায়েম জয় পান। জিএস ও এজিএসসহ অধিকাংশ পদেও শিবিরসমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো একটি নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে একটি সংগঠনের সামগ্রিক সাংগঠনিক শক্তি নির্ধারণ করা যায় না। ক্যাম্পাসে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, তাদের সমস্যা নিয়ে কাজ করা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা জরুরি।
গত আগস্টেও দেশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই এসব ঘটনায় পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রনেতাদের মতে, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাব শুধু মিছিল-মিটিং বা সাংগঠনিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন, নিয়মিত যোগাযোগ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই দীর্ঘমেয়াদে একটি সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে।
তাদের মতে, ছাত্রদলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রুত কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে না পারলে ক্যাম্পাসে প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনগুলোর তৎপরতার বিপরীতে ছাত্রদলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
সাবেক ছাত্রনেতাদের মতে, নেতৃত্বের সংকট যত দীর্ঘ হবে, সাংগঠনিক শূন্যতাও তত বাড়বে। তাই নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘদিন নতুন নেতৃত্ব না আসায় বিভিন্ন ইউনিটে সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দৃশ্যমান সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ায় ছাত্রদলের অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম আসায় সংগঠনটির নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলও বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে।
ঘটনার পর সোমবার রাবি শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসান ও বিশাল চক্রবর্তী। কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, শরিফুল ইসলাম, বুলবুল রহমান, ফারুক হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম ও ছাত্রদল কর্মী সাজু। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
তবে অভিযুক্ত আহসান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের রাকসু নির্বাচনে ‘কারচুপির’ অভিযোগে নির্বাচিত জিএস আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে সাংবাদিক পরিচয়ধারী একটি পক্ষ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। তার দাবি, ওই ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ‘প্রতিহত’ করেছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলার শিকার সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের প্রতি নিজ নিজ সংগঠনে সহিংসতা বন্ধ, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু তদন্ত কমিটি বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো নতুন কমিটি ঘোষণা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন, পদ-পদবি নিয়ে গ্রুপিং এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের অভিযোগে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রনেতার অভিযোগ, যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভূমিকার পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং বলয়ভিত্তিক সমীকরণকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ত্যাগী ও মেধাবী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
এক নেতা বলেন, ‘যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের পরিবর্তে যদি ব্যক্তিগত বলয় বা সুপারিশকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাহলে নতুন কমিটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হবে। দ্রুত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করা না গেলে সংকট আরও বাড়তে পারে।’
আরেক নেতা বলেন, কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতার কারণে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও পড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব সংকট ও সাংগঠনিক দুর্বলতা দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৫ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলসমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের বিপরীতে ছাত্রশিবিরসমর্থিত সাদিক কায়েম জয় পান। জিএস ও এজিএসসহ অধিকাংশ পদেও শিবিরসমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো একটি নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে একটি সংগঠনের সামগ্রিক সাংগঠনিক শক্তি নির্ধারণ করা যায় না। ক্যাম্পাসে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, তাদের সমস্যা নিয়ে কাজ করা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা জরুরি।
গত আগস্টেও দেশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই এসব ঘটনায় পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রনেতাদের মতে, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাব শুধু মিছিল-মিটিং বা সাংগঠনিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন, নিয়মিত যোগাযোগ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই দীর্ঘমেয়াদে একটি সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে।
তাদের মতে, ছাত্রদলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রুত কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে না পারলে ক্যাম্পাসে প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনগুলোর তৎপরতার বিপরীতে ছাত্রদলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
সাবেক ছাত্রনেতাদের মতে, নেতৃত্বের সংকট যত দীর্ঘ হবে, সাংগঠনিক শূন্যতাও তত বাড়বে। তাই নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন