- বিআরটিএ ও আরটিসির অনুমোদন ছাড়াই চলছে ২১ ধরনের যানবাহন
- তিন শতাধিক মিনিবাস ও হিউম্যান হলার থেকে মাসে ১৪ লাখ টাকা আদায়
- ট্রাফিক ইন্সপেক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
- সংবাদ প্রকাশ না করতে প্রতিবেদককে ১ লাখ টাকা ঘুষের প্রস্তাব
চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার শাহ আমানত সেতুর গোলচত্বর এলাকায় অনুমোদনহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং যানজটকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি) অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিবহন সিন্ডিকেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতুর গোলচত্বর থেকে সেতুর প্রবেশমুখ পর্যন্ত বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা ও অন্যান্য যানবাহনের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। মূল সড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে গোলচত্বর অতিক্রম করতে কোনো কোনো যানবাহনের ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পটিয়া, শান্তিরহাট, দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে হিউম্যান হলার, লেগুনা ও মিনিবাস রয়েছে। 'ঈগল' নাম ব্যবহার করে একাধিক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ২২০টি বাস।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আন্তঃজেলা বিলাসী কোস্টার ও চেয়ার কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, ২০১১ সালে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে যান চলাচলের সমস্যা দেখা দিলে শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে সীমিতসংখ্যক যানবাহন চলাচলের সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই ব্যবস্থার পরিধি বেড়ে যায় বলে তাঁর দাবি।
জানা যায়, তিন শতাধিক মিনিবাস ও হিউম্যান হলার থেকে মাসিক নির্ধারিত ফি, টার্মিনাল ও পৌরসভা ফি এবং বিভিন্ন খরচের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এসব যানবাহন থেকে মাসে অন্তত ১৪ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, নতুন ব্রিজ এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) তুহিন আহমেদ প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা অনৈতিক সুবিধা নেন।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি-মেট্রো) সদস্য অলি আহমেদ বলেন, শাহ আমানত সেতু থেকে পটিয়া রুটটি আরটিসির অনুমোদিত তালিকায় নেই। বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের মোটরযান পরিদর্শক মো. মোমিন খাঁন জানান, নগরে হিউম্যান হলারের জন্য অনুমোদিত ১৮টি রুটের তালিকায় এই রুটের নাম নেই।
অভিযোগের বিষয়ে টিআই তুহিন আহমেদ বলেন, শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে রুট পারমিটবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। তবে তাঁর দাবি, জনবলসংকটের কারণে তাঁরা মূলত যানজট নিরসনে কাজ করেন; অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তাঁর বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ না করতে পরিবহন খাতের কয়েকজন দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে এই প্রতিবেদককে এক লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ), চট্টগ্রাম জেলার সদস্যসচিব হৃদয় মুহুরী এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. সিকান্দার খান অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। শিক্ষা শ্রম বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটির চেয়ারম্যান রিয়াজুদ্দিন রানা অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম জজকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ হোসাইনীও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, মিনি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন দাবি করেন, হিউম্যান হলার তাঁদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে নেই; শুধু মিনিবাস তাঁদের নিয়ন্ত্রণে চলে। লাইন তদারককারী এনামুল হক বলেন, কিছু গাড়ির কক্সবাজার পর্যন্ত রুট পারমিট রয়েছে এবং যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেগুলো পটিয়া পর্যন্ত চালানো হয়। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ অবগত বলেও তিনি দাবি করেন।
শাহ আমানত সেতু এলাকায় অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য, বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও সড়কে তীব্র শৃঙ্খলাহীনতা প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান চরম বিরক্তি প্রকাশ করে দায়িত্ব এড়ানোর সুর প্রকাশ করেন। সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের চরম ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর মন্তব্যে।
ডিসি লিয়াকত আলী খান বলেন, "আপনি অফিসে আসেন, আমাকে নিয়ে যান এবং প্রমাণ দিন, আমি তাকে কালই সরিয়ে দেব। তুহিন সাহেব নামের এই লোকটা এখানে কাজই করতে চাচ্ছে না। হাতে-পায়ে ধরছে আর বলছে, স্যার, আমাকে এখান থেকে সরিয়ে দেন। এই লোকটা এখানে কাঁচা দাড়ি নিয়ে এসেছিল, এখন তা পেকে গেছে।"
টিআই তুহিনের ১০ লাখ টাকার মাসোহারা গ্রহণ ও প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টিকে উপহাস করে বলেন, "মজা পেলাম আপনার কথা শুনে! এখানে এত টাকার ছড়াছড়ি তা আমার জানা নেই। পারলে আমার জন্যও কিছু ব্যবস্থা করে দিন!"
তবে সড়কের এই নৈরাজ্যের সত্যতা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে তিনি বলেন, "আপনি যেসব সমস্যার কথা বললেন, তার অনেক কিছুই আমরা জানি। যাহা রটে, তার কিছুটা হলেও বটে। তবে এভাবে কথা বলা সম্ভব না; আমি একদিনের ছুটিতে ঢাকায় আছি। আপনি অফিসে আসেন, সামনাসামনি কথা বলব। কেন ট্রাফিক পুলিশ কাজ করতে পারছে না, শুধু ট্রাফিক পুলিশ নয়, বাংলাদেশের কোনো পুলিশই কেন কাজ করতে পারছে না, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেব। একটা সমাজে যখন চতুর্দিকে সমস্যা তৈরি হয়, তখন শুধু পুলিশ দিয়ে সব সামলানো সম্ভব নয়।"
সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে ও নিজের ও পুলিশের অক্ষমতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "রিপোর্ট এখন করবেন না। আমি ছুটি থেকে আসি, আগে আমার সাথে দেখা করুন। ২ লাখ ১৪ হাজার পুলিশ দিয়ে আপনি ২১ কোটি মানুষকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? আল্লাহ ফেরেশতা নামিয়ে দিলেও তা সম্ভব হবে না! কোন কোন জায়গায় কেন আমরা কাজ করতে পারছি না আর কারা কারা সমস্যা তৈরি করছে, সব বলে দেব, আপনি একটু অফিসে আসবেন।"
এদিকে শাহ আমানত সেতু এলাকার যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে অনুমোদনহীন যানবাহন ও অবৈধ স্ট্যান্ডের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- বিআরটিএ ও আরটিসির অনুমোদন ছাড়াই চলছে ২১ ধরনের যানবাহন
- তিন শতাধিক মিনিবাস ও হিউম্যান হলার থেকে মাসে ১৪ লাখ টাকা আদায়
- ট্রাফিক ইন্সপেক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
- সংবাদ প্রকাশ না করতে প্রতিবেদককে ১ লাখ টাকা ঘুষের প্রস্তাব
চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার শাহ আমানত সেতুর গোলচত্বর এলাকায় অনুমোদনহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং যানজটকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি) অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিবহন সিন্ডিকেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতুর গোলচত্বর থেকে সেতুর প্রবেশমুখ পর্যন্ত বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা ও অন্যান্য যানবাহনের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। মূল সড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে গোলচত্বর অতিক্রম করতে কোনো কোনো যানবাহনের ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পটিয়া, শান্তিরহাট, দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে হিউম্যান হলার, লেগুনা ও মিনিবাস রয়েছে। 'ঈগল' নাম ব্যবহার করে একাধিক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ২২০টি বাস।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আন্তঃজেলা বিলাসী কোস্টার ও চেয়ার কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, ২০১১ সালে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে যান চলাচলের সমস্যা দেখা দিলে শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে সীমিতসংখ্যক যানবাহন চলাচলের সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই ব্যবস্থার পরিধি বেড়ে যায় বলে তাঁর দাবি।
জানা যায়, তিন শতাধিক মিনিবাস ও হিউম্যান হলার থেকে মাসিক নির্ধারিত ফি, টার্মিনাল ও পৌরসভা ফি এবং বিভিন্ন খরচের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এসব যানবাহন থেকে মাসে অন্তত ১৪ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, নতুন ব্রিজ এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) তুহিন আহমেদ প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা অনৈতিক সুবিধা নেন।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি-মেট্রো) সদস্য অলি আহমেদ বলেন, শাহ আমানত সেতু থেকে পটিয়া রুটটি আরটিসির অনুমোদিত তালিকায় নেই। বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের মোটরযান পরিদর্শক মো. মোমিন খাঁন জানান, নগরে হিউম্যান হলারের জন্য অনুমোদিত ১৮টি রুটের তালিকায় এই রুটের নাম নেই।
অভিযোগের বিষয়ে টিআই তুহিন আহমেদ বলেন, শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে রুট পারমিটবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। তবে তাঁর দাবি, জনবলসংকটের কারণে তাঁরা মূলত যানজট নিরসনে কাজ করেন; অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তাঁর বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ না করতে পরিবহন খাতের কয়েকজন দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে এই প্রতিবেদককে এক লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ), চট্টগ্রাম জেলার সদস্যসচিব হৃদয় মুহুরী এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. সিকান্দার খান অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। শিক্ষা শ্রম বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটির চেয়ারম্যান রিয়াজুদ্দিন রানা অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম জজকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ হোসাইনীও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, মিনি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন দাবি করেন, হিউম্যান হলার তাঁদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে নেই; শুধু মিনিবাস তাঁদের নিয়ন্ত্রণে চলে। লাইন তদারককারী এনামুল হক বলেন, কিছু গাড়ির কক্সবাজার পর্যন্ত রুট পারমিট রয়েছে এবং যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেগুলো পটিয়া পর্যন্ত চালানো হয়। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ অবগত বলেও তিনি দাবি করেন।
শাহ আমানত সেতু এলাকায় অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য, বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও সড়কে তীব্র শৃঙ্খলাহীনতা প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান চরম বিরক্তি প্রকাশ করে দায়িত্ব এড়ানোর সুর প্রকাশ করেন। সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের চরম ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর মন্তব্যে।
ডিসি লিয়াকত আলী খান বলেন, "আপনি অফিসে আসেন, আমাকে নিয়ে যান এবং প্রমাণ দিন, আমি তাকে কালই সরিয়ে দেব। তুহিন সাহেব নামের এই লোকটা এখানে কাজই করতে চাচ্ছে না। হাতে-পায়ে ধরছে আর বলছে, স্যার, আমাকে এখান থেকে সরিয়ে দেন। এই লোকটা এখানে কাঁচা দাড়ি নিয়ে এসেছিল, এখন তা পেকে গেছে।"
টিআই তুহিনের ১০ লাখ টাকার মাসোহারা গ্রহণ ও প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টিকে উপহাস করে বলেন, "মজা পেলাম আপনার কথা শুনে! এখানে এত টাকার ছড়াছড়ি তা আমার জানা নেই। পারলে আমার জন্যও কিছু ব্যবস্থা করে দিন!"
তবে সড়কের এই নৈরাজ্যের সত্যতা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে তিনি বলেন, "আপনি যেসব সমস্যার কথা বললেন, তার অনেক কিছুই আমরা জানি। যাহা রটে, তার কিছুটা হলেও বটে। তবে এভাবে কথা বলা সম্ভব না; আমি একদিনের ছুটিতে ঢাকায় আছি। আপনি অফিসে আসেন, সামনাসামনি কথা বলব। কেন ট্রাফিক পুলিশ কাজ করতে পারছে না, শুধু ট্রাফিক পুলিশ নয়, বাংলাদেশের কোনো পুলিশই কেন কাজ করতে পারছে না, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেব। একটা সমাজে যখন চতুর্দিকে সমস্যা তৈরি হয়, তখন শুধু পুলিশ দিয়ে সব সামলানো সম্ভব নয়।"
সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে ও নিজের ও পুলিশের অক্ষমতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "রিপোর্ট এখন করবেন না। আমি ছুটি থেকে আসি, আগে আমার সাথে দেখা করুন। ২ লাখ ১৪ হাজার পুলিশ দিয়ে আপনি ২১ কোটি মানুষকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? আল্লাহ ফেরেশতা নামিয়ে দিলেও তা সম্ভব হবে না! কোন কোন জায়গায় কেন আমরা কাজ করতে পারছি না আর কারা কারা সমস্যা তৈরি করছে, সব বলে দেব, আপনি একটু অফিসে আসবেন।"
এদিকে শাহ আমানত সেতু এলাকার যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে অনুমোদনহীন যানবাহন ও অবৈধ স্ট্যান্ডের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আপনার মতামত লিখুন