চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়া এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করার দাবিতে আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এতে সঞ্চলনা করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা ইভান তাহসীব। বক্তব্য রাখেন গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফি রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, ডাক্তার হারুন অর রশিদ, শ্রমিকনেতা মানস নন্দী, আখতারুজ্জামান খান। এতে সভাপ্রধান হিসেব উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
সমাবেশের শুরুতে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ক্ষতিকর নানান দিক তুলে ধরেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করলে আমাদের এখন অন্যান্য দেশের মতোই কেবল ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক দিতে হবে। যেটা আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় কোন বাড়তি প্রভাব ফেলবে না। এর বিপরীতে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকলে আমাদের বাণিজ্যিক স্বার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তার উপর প্রবল হুমকি তৈরি হবে। একই সাথে বাড়তে পারে জিনিসপত্রের দাম এবং বেকারত্ব। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দর ইজারার পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলী ও চুক্তি মানুষের কাছে প্রকাশ করা হয় নাই। সরকার ঠিক আগের মতোই অসচ্ছতার পথে হাঁটছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন যে যখন দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাই পূরণ হচ্ছে না তখন সরকার একের পর এক অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করার চুক্তি করে যাচ্ছে যা দেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফি রতন বলেন, সরকার খালি বিদেশীদের তুষ্ট করার লাইনে আছে। তাই নানান কেনাকাটার বহর দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশের নিজস্ব যে প্রয়োজন সেটা মেটাতে সরকারের তেমন কোন মাথাব্যাথা দেখা যাচ্ছে না।
ডাক্তার হারুন অর রশিদ বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমরা যদি না দাঁড়াই তাহলে সামনের দিনে ভয়ংকর পরিণতি আসতে যাচ্ছে। অতীতে যেমন এই বাহাদুর শাহ পার্কে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছিল তেমনি আমাদের এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তিনি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়া নিয়ে তিনি বলেন বিদেশী মানেই যে ভাল এই মানসিকতা থেকে আমাদের বের হতে হবে।
ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক ও পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব আখতারুজ্জামান খান বলেন, বন্দরের ইজারা দেয়ার সাথে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বর প্রশ্ন জড়িত। এই বন্দর ইজারার হাত ধরে এখানে যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ঘাঁটি গাড়বে না তার কোন নিশ্চয়তা নাই।
বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মানস নন্দী বলেন, মার্কিন চুক্তির ফলে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা আসতে যাচ্ছে সেটা হল আমাদের কর্মসংস্থান। আমাদের গরীব মানুষের কর্মসংস্থানের উপর বিপুল পরিমাণে আঘাত আসতে যাচ্ছে যদি মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হয়।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “বিট্রিশরা নিজেদের শোষণ বজায় রাখতে নানা ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভাজন ছড়াত। বর্তমানেও দেশের স্বার্থবিরোধী নানান তৎপরতা থেকে মানুষের নজর ঘুরাতে নানারকম কৃত্রিম বিভাজন তৈরির চেষ্টা অব্যহত আছে। মার্কিন চুক্তি আসলে চুক্তি না। এটা ট্রাম্পের আদেশনামা। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট দেয়া বোঝায় না। গণতন্ত্র মানে সরকার যা করছে তার উপর জনগণের কর্তৃত্ব কতটা সেটা দেখা। সেই কর্তৃত্ব মানুষ এখনো পায় নাই। বাংলাদেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জনগণ সরকারকে ভোট দিয়ে আনে নাই। তাদেরকে ট্রাম্প ভোট দিয়ে এনেছে সরকারে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অর্জিত, নানান লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে অর্জিত একটা দেশে কীভাবে জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়া হচ্ছে সেটা আপনারা খেয়াল করবেন। কেবল নীরব, নিষ্ক্রিয় মৌন মানুষ হিসেবে থাকবেন না। সরকারকে বাধ্য করবেন এই ধরনের চুক্তি থেকে সরে আসতে। সকলের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাই।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সমন্বয়ক জামশেদ আনোয়ার তপন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাহেরা বেগম জলি, গবেষক সুজিত চৌধুরী, সমাজচিন্তা ফোরামের সদস্যসচিব রঞ্জন দাশ শিবুসহ গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সদস্যরা।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়া এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করার দাবিতে আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এতে সঞ্চলনা করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা ইভান তাহসীব। বক্তব্য রাখেন গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফি রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, ডাক্তার হারুন অর রশিদ, শ্রমিকনেতা মানস নন্দী, আখতারুজ্জামান খান। এতে সভাপ্রধান হিসেব উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
সমাবেশের শুরুতে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ক্ষতিকর নানান দিক তুলে ধরেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করলে আমাদের এখন অন্যান্য দেশের মতোই কেবল ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক দিতে হবে। যেটা আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় কোন বাড়তি প্রভাব ফেলবে না। এর বিপরীতে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকলে আমাদের বাণিজ্যিক স্বার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তার উপর প্রবল হুমকি তৈরি হবে। একই সাথে বাড়তে পারে জিনিসপত্রের দাম এবং বেকারত্ব। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দর ইজারার পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলী ও চুক্তি মানুষের কাছে প্রকাশ করা হয় নাই। সরকার ঠিক আগের মতোই অসচ্ছতার পথে হাঁটছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন যে যখন দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাই পূরণ হচ্ছে না তখন সরকার একের পর এক অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করার চুক্তি করে যাচ্ছে যা দেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফি রতন বলেন, সরকার খালি বিদেশীদের তুষ্ট করার লাইনে আছে। তাই নানান কেনাকাটার বহর দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশের নিজস্ব যে প্রয়োজন সেটা মেটাতে সরকারের তেমন কোন মাথাব্যাথা দেখা যাচ্ছে না।
ডাক্তার হারুন অর রশিদ বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমরা যদি না দাঁড়াই তাহলে সামনের দিনে ভয়ংকর পরিণতি আসতে যাচ্ছে। অতীতে যেমন এই বাহাদুর শাহ পার্কে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছিল তেমনি আমাদের এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তিনি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়া নিয়ে তিনি বলেন বিদেশী মানেই যে ভাল এই মানসিকতা থেকে আমাদের বের হতে হবে।
ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক ও পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব আখতারুজ্জামান খান বলেন, বন্দরের ইজারা দেয়ার সাথে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বর প্রশ্ন জড়িত। এই বন্দর ইজারার হাত ধরে এখানে যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ঘাঁটি গাড়বে না তার কোন নিশ্চয়তা নাই।
বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মানস নন্দী বলেন, মার্কিন চুক্তির ফলে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা আসতে যাচ্ছে সেটা হল আমাদের কর্মসংস্থান। আমাদের গরীব মানুষের কর্মসংস্থানের উপর বিপুল পরিমাণে আঘাত আসতে যাচ্ছে যদি মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হয়।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “বিট্রিশরা নিজেদের শোষণ বজায় রাখতে নানা ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভাজন ছড়াত। বর্তমানেও দেশের স্বার্থবিরোধী নানান তৎপরতা থেকে মানুষের নজর ঘুরাতে নানারকম কৃত্রিম বিভাজন তৈরির চেষ্টা অব্যহত আছে। মার্কিন চুক্তি আসলে চুক্তি না। এটা ট্রাম্পের আদেশনামা। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট দেয়া বোঝায় না। গণতন্ত্র মানে সরকার যা করছে তার উপর জনগণের কর্তৃত্ব কতটা সেটা দেখা। সেই কর্তৃত্ব মানুষ এখনো পায় নাই। বাংলাদেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জনগণ সরকারকে ভোট দিয়ে আনে নাই। তাদেরকে ট্রাম্প ভোট দিয়ে এনেছে সরকারে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অর্জিত, নানান লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে অর্জিত একটা দেশে কীভাবে জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়া হচ্ছে সেটা আপনারা খেয়াল করবেন। কেবল নীরব, নিষ্ক্রিয় মৌন মানুষ হিসেবে থাকবেন না। সরকারকে বাধ্য করবেন এই ধরনের চুক্তি থেকে সরে আসতে। সকলের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাই।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সমন্বয়ক জামশেদ আনোয়ার তপন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাহেরা বেগম জলি, গবেষক সুজিত চৌধুরী, সমাজচিন্তা ফোরামের সদস্যসচিব রঞ্জন দাশ শিবুসহ গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সদস্যরা।

আপনার মতামত লিখুন