প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। দিনের বেলায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ করছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়ির বাইরে কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন। রাতে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর ঘুমাতে গেলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষ যখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় তীব্র গরমে কষ্ট পাচ্ছেন, তখন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা থাকা ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা এই দুর্ভোগ কতটা উপলব্ধি করছেন। আবার বিদ্যুৎ বিল বাড়লেও সেবার মান না বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
পড়াশোনায় ব্যাঘাত
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যার সময় পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুৎ ছাড়া ঘরের ভেতরে বসে পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ পড়ার সময় বাতাসের জন্য বাইরে গিয়ে বসছেন।
অভিভাবকদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ক্ষতির মুখে ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্প
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ছোট ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পেও। জেলার বড় শিল্পকারখানা তুলনামূলক কম হলেও বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। দোকান, ওয়ার্কশপ, ক্ষুদ্র কারখানা ও বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানে কাজের সময় কমে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকলে ব্যবসার পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়।
চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ
লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়ে বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দরিদ্র জেলা। বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে এখানকার মানুষকে জীবনযাপন করতে হয়। এর মধ্যে তীব্র গরমের সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
সুনির্দিষ্ট রুটিনের দাবি
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, অনিয়ম ও অপচয় বন্ধ এবং বিদ্যুৎ বিতরণে সমন্বিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে লোডশেডিং হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য সুনির্দিষ্ট ও পূর্বঘোষিত সময়সূচি প্রকাশের দাবি উঠেছে। এতে জরুরি কাজ, ব্যবসা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কিছুটা পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নেসকোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে , নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।
কুড়িগ্রামবাসীর দাবি, তীব্র গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তাদের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে না দেখে এর স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। দিনের বেলায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ করছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়ির বাইরে কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন। রাতে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর ঘুমাতে গেলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষ যখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় তীব্র গরমে কষ্ট পাচ্ছেন, তখন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা থাকা ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা এই দুর্ভোগ কতটা উপলব্ধি করছেন। আবার বিদ্যুৎ বিল বাড়লেও সেবার মান না বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
পড়াশোনায় ব্যাঘাত
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যার সময় পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুৎ ছাড়া ঘরের ভেতরে বসে পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ পড়ার সময় বাতাসের জন্য বাইরে গিয়ে বসছেন।
অভিভাবকদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ক্ষতির মুখে ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্প
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ছোট ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পেও। জেলার বড় শিল্পকারখানা তুলনামূলক কম হলেও বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। দোকান, ওয়ার্কশপ, ক্ষুদ্র কারখানা ও বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানে কাজের সময় কমে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকলে ব্যবসার পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়।
চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ
লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়ে বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দরিদ্র জেলা। বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে এখানকার মানুষকে জীবনযাপন করতে হয়। এর মধ্যে তীব্র গরমের সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
সুনির্দিষ্ট রুটিনের দাবি
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, অনিয়ম ও অপচয় বন্ধ এবং বিদ্যুৎ বিতরণে সমন্বিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে লোডশেডিং হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য সুনির্দিষ্ট ও পূর্বঘোষিত সময়সূচি প্রকাশের দাবি উঠেছে। এতে জরুরি কাজ, ব্যবসা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কিছুটা পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নেসকোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে , নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।
কুড়িগ্রামবাসীর দাবি, তীব্র গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তাদের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে না দেখে এর স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

আপনার মতামত লিখুন