বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে এক সময় সফটওয়্যার খাতের শেয়ার মানেই ছিল বিনিয়োগকারীদের জন্য ধারাবাহিক ও নিরাপদ আয়ের জায়গা। বিশেষ করে আইশেয়ার্স এক্সপ্যান্ডেড টেক-সফটওয়্যার সেক্টর ইটিএফ (আইজিভি)-এর মতো বড় ফান্ডে অর্থ বিনিয়োগ করে পুরো সফটওয়্যার খাতের প্রবৃদ্ধি থেকেই ভালো মুনাফা তোলা যেত। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। পুরো সফটওয়্যার শিল্প এখন স্পষ্ট দুটি ভিন্ন ধারায় ভাগ হয়ে পড়েছে—একদিকে এআই অবকাঠামো ও ক্লাউড সেবাদাতারা লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে অস্তিত্বের সংকটে পড়ছে প্রথাগত সফটওয়্যার সেবাদাতা কোম্পানিগুলোসামগ্রিক অর্থনীতির বিচারে এই বিভাজনটি বেশ গভীর। যারা এআই অবকাঠামো সচল রাখার জন্য মূল ডেটাবেস, মাল্টি-ক্লাউড অবকাঠামো এবং বিশেষায়িত ডেটা ব্যবস্থা তৈরি করছে, বাজার এখন তাদের দখলে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এআই সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট বাড়াচ্ছে, যা সরাসরি ঢুকছে এই ক্লাউড ও অবকাঠামো কোম্পানিগুলোর তহবিলে।
অন্যদিকে রয়েছে প্রথাগত ‘সফটওয়্যার-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ বা সাশ কোম্পানিগুলো। যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীর সংখ্যা অনুযায়ী লাইসেন্স বিক্রি করে আয় করত, তাদের ব্যবসায়িক মডেল এখন ঝুঁকির মুখে। কারণ স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট ব্যবহারের ফলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের চেয়ে কম কর্মী লাগছে। কর্মী সংখ্যা কমার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার লাইসেন্স বা অ্যাকাউন্টের চাহিদাও কমছে। ফলে এআই প্রযুক্তি কর্মীদের কাজ সহজ করলেও পরোক্ষভাবে সাশ কোম্পানিগুলোর আয়ের পথ ছোট করে দিচ্ছে।
আইজিভি ইটিএফ-এর শীর্ষ কোম্পানিগুলোর অবস্থা বিশ্লেষণ করলে এই চিত্র স্পষ্ট দেখা যায়:
ওরাকল: ডেটাবেস সেবাদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে নিজেদের রূপান্তর করেছে। নিজেদের অবকাঠামো পরিবর্তন করে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি মাল্টি-ক্লাউড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বসেরা টেক ক্লাউড কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং এআই কাজের উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করায় করপোরেট বাজেটের বড় অংশ এখন ওরাকল পাচ্ছে। এতে তাদের আয় ও নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য প্রায় ১৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য একটি সুবিধাজনক দাম হতে পারে।
সেলসফোর্স: সম্প্রতি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট চালুর ঘোষণার পর সেলসফোর্সের শেয়ারদর একদিনে ২২ শতাংশের বেশি বাড়ে। তবে এই সাময়িক উত্থানের পেছনে একটি ব্যবসায়িক সংকট রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রয় ও গ্রাহক সেবায় এআই এজেন্ট বসালে মানুষের জন্য তৈরি লাইসেন্সের প্রয়োজন কমে যাবে। এআই ফিচার বিক্রি করে যে আয় হবে, তা লাইসেন্স কমার ক্ষতি পুষিয়ে দেবে কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ২০২৬ সালে বিষয়টি পরিষ্কার না হলেও ২০২৭ সালের মধ্যে এটি পুঁজিবাজারের মূল আলোচনার বিষয় হতে পারে। তাই বড় উত্থানের পর এই শেয়ারে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সার্ভিস নাউ: টেকনিক্যাল চার্টের বিচারে সার্ভিস নাউ ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও ২০২৫ সালের শুরুর দিকে সর্বোচ্চ ছোঁয়ার পর শেয়ারটির দর প্রায় ২০০ শতাংশ ওঠানামা করেছে। এই অস্থিরতা নির্দেশ করে যে, যেকোনো সময় শেয়ারটিতে বিক্রেতাদের চাপ বাড়তে পারে।
ফর্টি নেট: সাইবার নিরাপত্তা খাতের প্রতিষ্ঠান ফর্টিনেটের শেয়ারদরে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবল ওঠানামা দেখা গেছে। সাপ্তাহিক প্রাইস চার্ট অনুযায়ী, শেয়ারমূল্য সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর সংকেত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দর সংশোধনের ইঙ্গিত দেয়।
এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে এখন আর আইজিভির মতো পুরো সফটওয়্যার ফান্ডে একবারে বিনিয়োগ করে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ফান্ড কিনে একই সঙ্গে সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠান এবং লোকসানে থাকা অ্যাপ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান—দুটোরই অংশীদার হয়ে যাচ্ছেন। ফলে সফটওয়্যার খাতে লাভজনক বিনিয়োগ করতে হলে ঢালাওভাবে পুরো খাতের ফান্ড না কিনে নির্দিষ্ট শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ার বাছাই করা বা ‘স্টক পিকিং’-এর পথ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে এক সময় সফটওয়্যার খাতের শেয়ার মানেই ছিল বিনিয়োগকারীদের জন্য ধারাবাহিক ও নিরাপদ আয়ের জায়গা। বিশেষ করে আইশেয়ার্স এক্সপ্যান্ডেড টেক-সফটওয়্যার সেক্টর ইটিএফ (আইজিভি)-এর মতো বড় ফান্ডে অর্থ বিনিয়োগ করে পুরো সফটওয়্যার খাতের প্রবৃদ্ধি থেকেই ভালো মুনাফা তোলা যেত। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। পুরো সফটওয়্যার শিল্প এখন স্পষ্ট দুটি ভিন্ন ধারায় ভাগ হয়ে পড়েছে—একদিকে এআই অবকাঠামো ও ক্লাউড সেবাদাতারা লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে অস্তিত্বের সংকটে পড়ছে প্রথাগত সফটওয়্যার সেবাদাতা কোম্পানিগুলোসামগ্রিক অর্থনীতির বিচারে এই বিভাজনটি বেশ গভীর। যারা এআই অবকাঠামো সচল রাখার জন্য মূল ডেটাবেস, মাল্টি-ক্লাউড অবকাঠামো এবং বিশেষায়িত ডেটা ব্যবস্থা তৈরি করছে, বাজার এখন তাদের দখলে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এআই সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট বাড়াচ্ছে, যা সরাসরি ঢুকছে এই ক্লাউড ও অবকাঠামো কোম্পানিগুলোর তহবিলে।
অন্যদিকে রয়েছে প্রথাগত ‘সফটওয়্যার-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ বা সাশ কোম্পানিগুলো। যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীর সংখ্যা অনুযায়ী লাইসেন্স বিক্রি করে আয় করত, তাদের ব্যবসায়িক মডেল এখন ঝুঁকির মুখে। কারণ স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট ব্যবহারের ফলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের চেয়ে কম কর্মী লাগছে। কর্মী সংখ্যা কমার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার লাইসেন্স বা অ্যাকাউন্টের চাহিদাও কমছে। ফলে এআই প্রযুক্তি কর্মীদের কাজ সহজ করলেও পরোক্ষভাবে সাশ কোম্পানিগুলোর আয়ের পথ ছোট করে দিচ্ছে।
আইজিভি ইটিএফ-এর শীর্ষ কোম্পানিগুলোর অবস্থা বিশ্লেষণ করলে এই চিত্র স্পষ্ট দেখা যায়:
ওরাকল: ডেটাবেস সেবাদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে নিজেদের রূপান্তর করেছে। নিজেদের অবকাঠামো পরিবর্তন করে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি মাল্টি-ক্লাউড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বসেরা টেক ক্লাউড কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং এআই কাজের উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করায় করপোরেট বাজেটের বড় অংশ এখন ওরাকল পাচ্ছে। এতে তাদের আয় ও নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য প্রায় ১৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য একটি সুবিধাজনক দাম হতে পারে।
সেলসফোর্স: সম্প্রতি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট চালুর ঘোষণার পর সেলসফোর্সের শেয়ারদর একদিনে ২২ শতাংশের বেশি বাড়ে। তবে এই সাময়িক উত্থানের পেছনে একটি ব্যবসায়িক সংকট রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রয় ও গ্রাহক সেবায় এআই এজেন্ট বসালে মানুষের জন্য তৈরি লাইসেন্সের প্রয়োজন কমে যাবে। এআই ফিচার বিক্রি করে যে আয় হবে, তা লাইসেন্স কমার ক্ষতি পুষিয়ে দেবে কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ২০২৬ সালে বিষয়টি পরিষ্কার না হলেও ২০২৭ সালের মধ্যে এটি পুঁজিবাজারের মূল আলোচনার বিষয় হতে পারে। তাই বড় উত্থানের পর এই শেয়ারে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সার্ভিস নাউ: টেকনিক্যাল চার্টের বিচারে সার্ভিস নাউ ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও ২০২৫ সালের শুরুর দিকে সর্বোচ্চ ছোঁয়ার পর শেয়ারটির দর প্রায় ২০০ শতাংশ ওঠানামা করেছে। এই অস্থিরতা নির্দেশ করে যে, যেকোনো সময় শেয়ারটিতে বিক্রেতাদের চাপ বাড়তে পারে।
ফর্টি নেট: সাইবার নিরাপত্তা খাতের প্রতিষ্ঠান ফর্টিনেটের শেয়ারদরে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবল ওঠানামা দেখা গেছে। সাপ্তাহিক প্রাইস চার্ট অনুযায়ী, শেয়ারমূল্য সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর সংকেত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দর সংশোধনের ইঙ্গিত দেয়।
এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে এখন আর আইজিভির মতো পুরো সফটওয়্যার ফান্ডে একবারে বিনিয়োগ করে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ফান্ড কিনে একই সঙ্গে সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠান এবং লোকসানে থাকা অ্যাপ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান—দুটোরই অংশীদার হয়ে যাচ্ছেন। ফলে সফটওয়্যার খাতে লাভজনক বিনিয়োগ করতে হলে ঢালাওভাবে পুরো খাতের ফান্ড না কিনে নির্দিষ্ট শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ার বাছাই করা বা ‘স্টক পিকিং’-এর পথ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আপনার মতামত লিখুন