চট্টগ্রামের
লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সরকারি বনভূমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে
ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে কাজী ফার্মস লিমিটেডের বিরুদ্ধে। বন বিভাগের
নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির দখলে থাকা প্রায় ০.১০ একর সংরক্ষিত বনভূমিতে একটি পাকা
স্থাপনা রয়েছে। স্থাপনাটি অপসারণে ২০২০ সালে তৃতীয় ও চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও
ছয় বছরেও তা উচ্ছেদ করা হয়নি।
বন
বিভাগের নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে, চুনতি মৌজার আরএস দাগ নং-বি-৫১৭ এবং বিএস দাগ
নং-৪৩২৩ ও ৪৩২৪, বিএস খতিয়ান নং-২-এর অন্তর্ভুক্ত প্রায় ০.১০ একর সরকারি সংরক্ষিত
বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে কাজী ফার্মস লিমিটেডের দখলে রয়েছে। ওই জমিতে একটি স্থায়ী পাকা
স্থাপনা নির্মাণের তথ্যও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন
বিভাগের দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
বিট কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন তালুকদার কাজী ফার্মস লিমিটেডের হাসানকাটা, চুনতি ঠিকানায়
একটি রেজিস্টার্ড নোটিশ পাঠান। পত্র নং-৮০—/চুবি-৪২-এর ওই নোটিশটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির
বিরুদ্ধে তৃতীয় বা চূড়ান্ত নোটিশ।
নোটিশে
সরকারি বনভূমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে সাত দিনের
মধ্যে নিজ দায়িত্বে স্থাপনাটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা
নেওয়ার কথাও জানানো হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয়নি।
বন
বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ সরেজমিন পরিদর্শনে সেখানে
একটি পাকা ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সরকারি জমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদ
প্রস্তাব পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে
নোটিশ ও উচ্ছেদ প্রস্তাবের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে স্থাপনাটি উচ্ছেদে
কার্যকর কোনো পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে, জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব
পাঠানোর পর বন বিভাগ কেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায়
অভিযান পরিচালনার জন্য কার্যকর তাগাদা দেয়নি।
এ
বিষয়ে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান শেখ জানান,
কাজী ফার্মস লিমিটেডের ওই এলাকায় কোনো জায়গা থাকার বিষয়টি তাঁর জান নেই। তবে প্রতিবেদকের
কাছে থাকা বন বিভাগের নথি এবং দাগ-খতিয়ানের তথ্য দেখানোর পর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে
অবগত হন।
তবে
দীর্ঘদিন ধরে নথিতে থাকা স্থাপনাটি কেন উচ্ছেদ করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট
ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
স্থানীয়
পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, নোটিশ জারির পর কাজী ফার্মসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের
একাংশের যোগসাজশ তৈরি হয়। অবৈধ দখল বহাল রাখতে অনৈতিক লেনদেন ও মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগও
রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
১৯৮৬
সালে ঘোষিত চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোর একটি।
এ অঞ্চলে বিপন্ন এশীয় হাতির বিচরণ ও চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ রয়েছে।
পরিবেশবিদদের
মতে, অভয়ারণ্যের ভেতরে বা সীমানায় অবৈধ স্থাপনা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়লে বন্যপ্রাণীর
স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। মানুষের চলাচল, যানবাহন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের
কারণে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোরে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয়
পরিবেশবাদীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে লোহাগাড়া ও আশপাশের এলাকায় হাতি লোকালয়ে চলে
আসা এবং মানব-হাতি সংঘাতের পেছনে বনভূমি দখল, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও চলাচলের করিডোর
বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
পরিবেশকর্মী
ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সরকারি বনভূমির সীমানা নির্ধারণ,
অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অন্যান্য এলাকায়ও অবৈধ দখল ও স্থাপনা রয়েছে কি না,
তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ
বিষয়ে কাজী ফার্মস লিমিটেড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য
পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামের
লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সরকারি বনভূমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে
ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে কাজী ফার্মস লিমিটেডের বিরুদ্ধে। বন বিভাগের
নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির দখলে থাকা প্রায় ০.১০ একর সংরক্ষিত বনভূমিতে একটি পাকা
স্থাপনা রয়েছে। স্থাপনাটি অপসারণে ২০২০ সালে তৃতীয় ও চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও
ছয় বছরেও তা উচ্ছেদ করা হয়নি।
বন
বিভাগের নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে, চুনতি মৌজার আরএস দাগ নং-বি-৫১৭ এবং বিএস দাগ
নং-৪৩২৩ ও ৪৩২৪, বিএস খতিয়ান নং-২-এর অন্তর্ভুক্ত প্রায় ০.১০ একর সরকারি সংরক্ষিত
বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে কাজী ফার্মস লিমিটেডের দখলে রয়েছে। ওই জমিতে একটি স্থায়ী পাকা
স্থাপনা নির্মাণের তথ্যও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন
বিভাগের দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
বিট কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন তালুকদার কাজী ফার্মস লিমিটেডের হাসানকাটা, চুনতি ঠিকানায়
একটি রেজিস্টার্ড নোটিশ পাঠান। পত্র নং-৮০—/চুবি-৪২-এর ওই নোটিশটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির
বিরুদ্ধে তৃতীয় বা চূড়ান্ত নোটিশ।
নোটিশে
সরকারি বনভূমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে সাত দিনের
মধ্যে নিজ দায়িত্বে স্থাপনাটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা
নেওয়ার কথাও জানানো হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয়নি।
বন
বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ সরেজমিন পরিদর্শনে সেখানে
একটি পাকা ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সরকারি জমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদ
প্রস্তাব পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে
নোটিশ ও উচ্ছেদ প্রস্তাবের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে স্থাপনাটি উচ্ছেদে
কার্যকর কোনো পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে, জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব
পাঠানোর পর বন বিভাগ কেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায়
অভিযান পরিচালনার জন্য কার্যকর তাগাদা দেয়নি।
এ
বিষয়ে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান শেখ জানান,
কাজী ফার্মস লিমিটেডের ওই এলাকায় কোনো জায়গা থাকার বিষয়টি তাঁর জান নেই। তবে প্রতিবেদকের
কাছে থাকা বন বিভাগের নথি এবং দাগ-খতিয়ানের তথ্য দেখানোর পর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে
অবগত হন।
তবে
দীর্ঘদিন ধরে নথিতে থাকা স্থাপনাটি কেন উচ্ছেদ করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট
ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
স্থানীয়
পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, নোটিশ জারির পর কাজী ফার্মসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের
একাংশের যোগসাজশ তৈরি হয়। অবৈধ দখল বহাল রাখতে অনৈতিক লেনদেন ও মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগও
রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
১৯৮৬
সালে ঘোষিত চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোর একটি।
এ অঞ্চলে বিপন্ন এশীয় হাতির বিচরণ ও চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ রয়েছে।
পরিবেশবিদদের
মতে, অভয়ারণ্যের ভেতরে বা সীমানায় অবৈধ স্থাপনা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়লে বন্যপ্রাণীর
স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। মানুষের চলাচল, যানবাহন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের
কারণে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোরে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয়
পরিবেশবাদীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে লোহাগাড়া ও আশপাশের এলাকায় হাতি লোকালয়ে চলে
আসা এবং মানব-হাতি সংঘাতের পেছনে বনভূমি দখল, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও চলাচলের করিডোর
বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
পরিবেশকর্মী
ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সরকারি বনভূমির সীমানা নির্ধারণ,
অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অন্যান্য এলাকায়ও অবৈধ দখল ও স্থাপনা রয়েছে কি না,
তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ
বিষয়ে কাজী ফার্মস লিমিটেড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য
পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন