কক্সবাজার শহরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রামুর খামার ব্যবসায়ী মুবিনকে আসামি করা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনাস্থল, বাদী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং মুবিনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট কক্সবাজার শহরে ছুরিকাঘাতে আহত হন ওসমান নামের এক স্থানীয় যুবক। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে কক্সবাজার শহরের হোটেল শামসপ্লাজার পেছনের একটি গলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওই এলাকায় ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তাদের হোটেলের পেছনে এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নন। আশপাশের কয়েকটি দোকানের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এজাহারে উল্লেখ করা স্থানেই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ওসমান ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার ঘটনা সত্য। তবে কোথায় এবং কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে, এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন বলে স্পষ্ট জানান।
অন্যদিকে, হামলাকারীকে শনাক্ত না করার পরও মামলায় ব্যবসায়ী মুবিনের নাম কীভাবে এলো,এমন প্রশ্নের জবাবে বাদীপক্ষের দাবি, কয়েকজন রিকশাচালক তাদেরকে মুবিনের নাম জানিয়েছেন।
তবে ওই রিকশাচালক কারা, তারা কীভাবে মুবিনকে শনাক্ত করলেন কিংবা আহত ওসমানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্তও করা হয়নি।
ভুক্তভোগী ও বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তারাও মুবিনকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তাদের সাথে পুর্বেও কোন লেনদেন বা কোন বিরোধ ছিল না।
মামলায় আসামি হওয়া ব্যবসায়ী মুবিনের দাবি, ঘটনার দিন ১৩ আগস্ট তিনি কক্সবাজারেই ছিলেন না। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি ঢাকা ও হবিগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। তারপরও তাকে রহস্যজনক ভাবে আসামী করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, মুবিন বর্তমানে মামলার আসামি হিসেবে রয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাকে চূড়ান্তভাবে প্রকৃত আসামি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সে বাদ যাবে।
জানা গেছে, মামলায় আসামি হওয়া মুবিন রামু উপজেলার গোয়ালিয়া এলাকার একজন খামার ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
একজন যুবক ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার ঘটনা সত্য হলেও হামলাকারী শনাক্তকরণ, ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শী এবং ব্যবসায়ী মুবিনকে মামলায় আসামি করার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে সাধারণ মানুষের।
অনেকেই বলছেন, প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ন্যায়বিচার পাবেন কি না, নাকি নির্দোষ কেউ মামলায় আসামি হয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেভাবেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজার শহরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রামুর খামার ব্যবসায়ী মুবিনকে আসামি করা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনাস্থল, বাদী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং মুবিনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট কক্সবাজার শহরে ছুরিকাঘাতে আহত হন ওসমান নামের এক স্থানীয় যুবক। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে কক্সবাজার শহরের হোটেল শামসপ্লাজার পেছনের একটি গলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওই এলাকায় ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তাদের হোটেলের পেছনে এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নন। আশপাশের কয়েকটি দোকানের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এজাহারে উল্লেখ করা স্থানেই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ওসমান ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার ঘটনা সত্য। তবে কোথায় এবং কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে, এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন বলে স্পষ্ট জানান।
অন্যদিকে, হামলাকারীকে শনাক্ত না করার পরও মামলায় ব্যবসায়ী মুবিনের নাম কীভাবে এলো,এমন প্রশ্নের জবাবে বাদীপক্ষের দাবি, কয়েকজন রিকশাচালক তাদেরকে মুবিনের নাম জানিয়েছেন।
তবে ওই রিকশাচালক কারা, তারা কীভাবে মুবিনকে শনাক্ত করলেন কিংবা আহত ওসমানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্তও করা হয়নি।
ভুক্তভোগী ও বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তারাও মুবিনকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তাদের সাথে পুর্বেও কোন লেনদেন বা কোন বিরোধ ছিল না।
মামলায় আসামি হওয়া ব্যবসায়ী মুবিনের দাবি, ঘটনার দিন ১৩ আগস্ট তিনি কক্সবাজারেই ছিলেন না। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি ঢাকা ও হবিগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। তারপরও তাকে রহস্যজনক ভাবে আসামী করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, মুবিন বর্তমানে মামলার আসামি হিসেবে রয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাকে চূড়ান্তভাবে প্রকৃত আসামি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সে বাদ যাবে।
জানা গেছে, মামলায় আসামি হওয়া মুবিন রামু উপজেলার গোয়ালিয়া এলাকার একজন খামার ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
একজন যুবক ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার ঘটনা সত্য হলেও হামলাকারী শনাক্তকরণ, ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শী এবং ব্যবসায়ী মুবিনকে মামলায় আসামি করার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে সাধারণ মানুষের।
অনেকেই বলছেন, প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ন্যায়বিচার পাবেন কি না, নাকি নির্দোষ কেউ মামলায় আসামি হয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেভাবেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

আপনার মতামত লিখুন