খুলনার কয়রা উপজেলায় ব্র্যাকের চাকরি ছেড়ে অনলাইন জুয়ার ‘মাস্টার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার লেনদেন থেকে উপার্জিত অর্থে তিনি বিভিন্ন এলাকায় জমি কিনেছেন এবং পুরোনো টিনের ঘরের জায়গায় নির্মাণ করেছেন পাকা ভবন। সম্প্রতি জুয়ার অর্থ লেনদেন নিয়ে তাঁর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আব্দুস সামাদ কয়রা উপজেলার উত্তর মদিনাবাদ ফুলতলা গ্রামের মজিবার রহমান গাজীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি একসময় ব্র্যাকে চাকরি করতেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে অনলাইন জুয়ার একটি প্ল্যাটফর্মের ‘মাস্টার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সম্প্রতি অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন নিয়ে আব্দুস সামাদের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁকে একজন জুয়ার গ্রাহকের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
টিনের ঘর থেকে পাকা ভবন, কেনা হয়েছে জমি
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কয়েক বছর আগেও সামাদের পরিবারের বাড়িতে টিনের ঘর ছিল। বর্তমানে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় তিনি জমি কিনেছেন বলেও তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব সম্পদের একটি অংশ অনলাইন জুয়ার ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আব্দুস সামাদ তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৯৩৯৬০৭১৪৫ থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন ও যোগাযোগ করতেন। তবে বর্তমানে ওই নম্বরটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চায়ের দোকানে বসেই চলত লেনদেন
ফুলতলা বাজারের এক চায়ের দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি জুয়ার মাস্টার এজেন্ট ছিলেন। আমার দোকানে বসেও লেনদেন করতেন। তবে বর্তমানে তিনি ওই কাজ করছেন কি না, তা আমার জানা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সামাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বলেন, “আমি মাস্টার এজেন্ট ছিলাম, তবে এখন আর কাজ করি না। আমার যা আয় করার, তা করেছি। এখন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।”
জুয়ায় টাকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণেরা
এলাকার কয়েকজন তরুণ অভিযোগ করেন, আব্দুস সামাদের এজেন্টদের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁরা টাকা হারিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে কেউ কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি কয়েকজন তরুণ জুয়ায় অর্থ হারানোর পর মাদকের দিকে ঝুঁকেছেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে আব্দুস সামাদ কোনো নিয়মিত চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। তবে তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে এখনও সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
দুই দফা আটকের অভিযোগ
আব্দুস সামাদকে এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই দফায় আটক করেছিল বলেও স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নথি বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জুয়া-মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের নির্দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে থানার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, জুয়া ও মাদকের কোনো স্থান নেই। যারা জুয়া বা মাদকের সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমি এক মাস হলো কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি। আসার পর জুয়ার ঘটনায় চারটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে এবং এ অভিযান চলমান থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে শুধু ছোট এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; এর সঙ্গে যুক্ত ‘মাস্টার এজেন্ট’, অর্থের উৎস এবং লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্কও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে তরুণদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খুলনার কয়রা উপজেলায় ব্র্যাকের চাকরি ছেড়ে অনলাইন জুয়ার ‘মাস্টার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার লেনদেন থেকে উপার্জিত অর্থে তিনি বিভিন্ন এলাকায় জমি কিনেছেন এবং পুরোনো টিনের ঘরের জায়গায় নির্মাণ করেছেন পাকা ভবন। সম্প্রতি জুয়ার অর্থ লেনদেন নিয়ে তাঁর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আব্দুস সামাদ কয়রা উপজেলার উত্তর মদিনাবাদ ফুলতলা গ্রামের মজিবার রহমান গাজীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি একসময় ব্র্যাকে চাকরি করতেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে অনলাইন জুয়ার একটি প্ল্যাটফর্মের ‘মাস্টার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সম্প্রতি অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন নিয়ে আব্দুস সামাদের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁকে একজন জুয়ার গ্রাহকের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
টিনের ঘর থেকে পাকা ভবন, কেনা হয়েছে জমি
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কয়েক বছর আগেও সামাদের পরিবারের বাড়িতে টিনের ঘর ছিল। বর্তমানে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় তিনি জমি কিনেছেন বলেও তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব সম্পদের একটি অংশ অনলাইন জুয়ার ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আব্দুস সামাদ তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৯৩৯৬০৭১৪৫ থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন ও যোগাযোগ করতেন। তবে বর্তমানে ওই নম্বরটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চায়ের দোকানে বসেই চলত লেনদেন
ফুলতলা বাজারের এক চায়ের দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি জুয়ার মাস্টার এজেন্ট ছিলেন। আমার দোকানে বসেও লেনদেন করতেন। তবে বর্তমানে তিনি ওই কাজ করছেন কি না, তা আমার জানা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সামাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বলেন, “আমি মাস্টার এজেন্ট ছিলাম, তবে এখন আর কাজ করি না। আমার যা আয় করার, তা করেছি। এখন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।”
জুয়ায় টাকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণেরা
এলাকার কয়েকজন তরুণ অভিযোগ করেন, আব্দুস সামাদের এজেন্টদের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁরা টাকা হারিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে কেউ কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি কয়েকজন তরুণ জুয়ায় অর্থ হারানোর পর মাদকের দিকে ঝুঁকেছেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে আব্দুস সামাদ কোনো নিয়মিত চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। তবে তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে এখনও সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
দুই দফা আটকের অভিযোগ
আব্দুস সামাদকে এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই দফায় আটক করেছিল বলেও স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নথি বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জুয়া-মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের নির্দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে থানার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, জুয়া ও মাদকের কোনো স্থান নেই। যারা জুয়া বা মাদকের সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমি এক মাস হলো কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি। আসার পর জুয়ার ঘটনায় চারটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে এবং এ অভিযান চলমান থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে শুধু ছোট এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; এর সঙ্গে যুক্ত ‘মাস্টার এজেন্ট’, অর্থের উৎস এবং লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্কও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে তরুণদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন