দীর্ঘ প্রায় সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি ফিরেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি নয়াপাড়ার রায়হান। তাকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা ও নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও পরিবারের কাছে ফিরে আসার পর রায়হানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের ফাঁদে পড়ে নয়, বরং ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তিনি তার একটি পা হারিয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর সম্প্রতি রায়হান বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় তার শারীরিক অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। একটি পা না থাকায় তাকে দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ ওঠে, 'ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করতে' রাজধানীর একটি সিন্ডিকেট তার এক পা কেটে দেয়। তাকে দিয়ে ওঠানো টাকা প্লাস্টিকের ব্যাংকে রেখে দেয়। এমনকি তার মতো আরও অনেক শিশুকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য।
রায়হান ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিল। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে তার একটি পা কাটতে হয়েছিল। এমনকি তার চিকিৎসার সহায়তার জন্য এক আয়াকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে কেউ তার পা কাটেনি!
এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় রাজধানীর কমলাপুরের ঢাকা রেলওয়ে থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি পুরো ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন, যা খবরের কাগজের কাছে সংরক্ষিত আছে। তবে তিনি পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, 'শিশু রায়হান কমলাপুর রেলস্টেশনে আসার পর লভ্যাংশের বিনিময়ে আল
আমিন নামে এক যুবকের পানি বিক্রি করত। একই সঙ্গে সে ভিক্ষাবৃত্তি করত। চলতি বছরের ১১ জুন সে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গোসল করে কমলাপুরে ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা কর্ণফুলী এক্সপ্রেস চলন্ত অবস্থায় সে ছাদ থেকে পড়ে যায়। পরে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।'
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'এরপর চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযারী ৮ জুলাই রাজধানীর
পঙ্গু হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে তার একটি পা কেটে ফেলা হয়। অপারেশনের পর তাকে আইসিইউতেও রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার মাথার আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।'
অপারেশনের পর রায়হানকে প্রায় দেড় মাস হাসপাতালে রাখতে হয়েছিল জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'তখন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তার পরিচর্যার জন্য একজন আয়া দেওয়া হয়েছিল। ওই আয়ার নাম ছিল আরেছা। তিনি প্রায় দেড় মাস রায়হানের পরিচর্যা করেন। পরে সে হাসপাতাল থেকে ফিরে কমলাপুর রেলস্টেশনের জরিনা নামের এক নারীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। জরিনাকে সেখানকার সবাই মালির মা নামে চেনে। এরপর সে (রায়হান) রেলস্টেশনে ভিক্ষা করত এবং জরিনার কাছে থাকত। এরপর হঠাৎ করে সে তাদেরকে বলেছিল তার মা মারা গেছে, তাই সে বাড়িতে যাবে। এরপর রায়হানের বন্ধু জাকির তাকে যাত্রাবাড়ীতে এনে একটি বাসে তুলে দেয়।
তিনি বলেন, 'রিয়াজুল করিম নামে রেলওয়ে পুলিশের একজন কনস্টেবল রায়হানকে অনেক সহযোগিতা করেছিল। এ ছাড়াও রেলস্টেশনের মিনা নামের এক নারীও রায়হানের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। এরপরও অনেকে মিনাকে অপরাধী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপন করছেন। এটি সত্যিই দুঃখজনক।'
শিশু রায়হান ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে হাসপাতালের মেঝেতে বসে রায়হানকে বলতে শোনা যায়, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে সে আহত হয়েছে। এ ছাড়াও তার মা-বাবা নেই। ওই সময় তার মাথায় এবং পেটে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
শিশু রায়হান চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দীনের ছেলে। ১২ বছর বয়সী এই শিশু একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করত। প্রায় ৭ মাস আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। ৭ মাস পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর লোহাগাড়ার চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে পান। তখন তার ডান পা ছিল না এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের চিহ্ন দেখা যায়।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘ প্রায় সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি ফিরেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি নয়াপাড়ার রায়হান। তাকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা ও নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও পরিবারের কাছে ফিরে আসার পর রায়হানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের ফাঁদে পড়ে নয়, বরং ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তিনি তার একটি পা হারিয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর সম্প্রতি রায়হান বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় তার শারীরিক অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। একটি পা না থাকায় তাকে দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ ওঠে, 'ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করতে' রাজধানীর একটি সিন্ডিকেট তার এক পা কেটে দেয়। তাকে দিয়ে ওঠানো টাকা প্লাস্টিকের ব্যাংকে রেখে দেয়। এমনকি তার মতো আরও অনেক শিশুকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য।
রায়হান ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিল। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে তার একটি পা কাটতে হয়েছিল। এমনকি তার চিকিৎসার সহায়তার জন্য এক আয়াকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে কেউ তার পা কাটেনি!
এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় রাজধানীর কমলাপুরের ঢাকা রেলওয়ে থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি পুরো ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন, যা খবরের কাগজের কাছে সংরক্ষিত আছে। তবে তিনি পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, 'শিশু রায়হান কমলাপুর রেলস্টেশনে আসার পর লভ্যাংশের বিনিময়ে আল
আমিন নামে এক যুবকের পানি বিক্রি করত। একই সঙ্গে সে ভিক্ষাবৃত্তি করত। চলতি বছরের ১১ জুন সে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গোসল করে কমলাপুরে ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা কর্ণফুলী এক্সপ্রেস চলন্ত অবস্থায় সে ছাদ থেকে পড়ে যায়। পরে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।'
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'এরপর চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযারী ৮ জুলাই রাজধানীর
পঙ্গু হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে তার একটি পা কেটে ফেলা হয়। অপারেশনের পর তাকে আইসিইউতেও রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার মাথার আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।'
অপারেশনের পর রায়হানকে প্রায় দেড় মাস হাসপাতালে রাখতে হয়েছিল জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'তখন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তার পরিচর্যার জন্য একজন আয়া দেওয়া হয়েছিল। ওই আয়ার নাম ছিল আরেছা। তিনি প্রায় দেড় মাস রায়হানের পরিচর্যা করেন। পরে সে হাসপাতাল থেকে ফিরে কমলাপুর রেলস্টেশনের জরিনা নামের এক নারীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। জরিনাকে সেখানকার সবাই মালির মা নামে চেনে। এরপর সে (রায়হান) রেলস্টেশনে ভিক্ষা করত এবং জরিনার কাছে থাকত। এরপর হঠাৎ করে সে তাদেরকে বলেছিল তার মা মারা গেছে, তাই সে বাড়িতে যাবে। এরপর রায়হানের বন্ধু জাকির তাকে যাত্রাবাড়ীতে এনে একটি বাসে তুলে দেয়।
তিনি বলেন, 'রিয়াজুল করিম নামে রেলওয়ে পুলিশের একজন কনস্টেবল রায়হানকে অনেক সহযোগিতা করেছিল। এ ছাড়াও রেলস্টেশনের মিনা নামের এক নারীও রায়হানের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। এরপরও অনেকে মিনাকে অপরাধী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপন করছেন। এটি সত্যিই দুঃখজনক।'
শিশু রায়হান ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে হাসপাতালের মেঝেতে বসে রায়হানকে বলতে শোনা যায়, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে সে আহত হয়েছে। এ ছাড়াও তার মা-বাবা নেই। ওই সময় তার মাথায় এবং পেটে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
শিশু রায়হান চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দীনের ছেলে। ১২ বছর বয়সী এই শিশু একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করত। প্রায় ৭ মাস আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। ৭ মাস পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর লোহাগাড়ার চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে পান। তখন তার ডান পা ছিল না এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের চিহ্ন দেখা যায়।

আপনার মতামত লিখুন