চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গ্রামীণ মাটির রাস্তা টেকসইকরণের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজ নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সড়কের একাংশে কাজ না হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সরকারি নথি ও প্রকল্প-সংক্রান্ত ব্যাখ্যা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্যগত ভুল ছিল এবং প্রকল্পটিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি।
মূল অভিযোগ ও প্রকৃত তথ্য
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় লোহাগাড়া উপজেলার জন্য প্যাকেজ নং W66DDM HBB-01-এ মোট ১০০০ মিটার রাস্তার জন্য ৭৭ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মূল অনুমোদিত পরিকল্পনায় আমিরাবাদ ইউনিয়নের শাইরের পাড়া গিয়াস উদ্দিনের ব্রিকফিল্ডের বিপরীত পাশ হতে হাছির পাড়া জামাল হোসেনের পুকুর পর্যন্ত এবং একটি শাখা হিসেবে জামালের জমির নিকট হতে জিয়াবুলের বাড়ি পর্যন্ত মোট ৮০০ মিটার এবং পদুয়া ইউনিয়নের দারগামুড়া ইয়াকুব সওদাগরের বাড়ি হতে মুসলিমদিঘী ব্রিজ পর্যন্ত ২০০ মিটার রাস্তা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লোহাগাড়ার পত্র (স্মারক নং-৫১.০১.১৫৪৭.০০০.৪১.০১০.২৫-১০৯, তারিখ ২০/০৩/২০২৫) অনুযায়ী জানা যায়, সরেজমিনে বাস্তবায়নের সময় দেখা যায় জামালের জমির নিকট হতে জিয়াবুলের বাড়ি পর্যন্ত শাখা অংশের প্রায় ৫০-৬০ মিটারে কোনো প্রকৃত রাস্তা ছিল না, ছিল কেবল পায়ে হাঁটার পথ। প্রকল্পের পূর্বশর্ত অনুযায়ী কমপক্ষে ১২ ফুট প্রশস্ত পুরাতন মাটির রাস্তা থাকা আবশ্যক ছিল, যা এই অংশে ছিল না। এছাড়া ওই অংশে বেশ কিছু বড় গাছ থাকায় ইট বসাতে গেলে গাছের শিকড় কাটতে হতো, যা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হয়। পাশাপাশি এই শাখা রাস্তাটি কিছু মানুষের ঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানান।
স্থানীয় পরামর্শে প্রকল্পের বৈধ সংশোধন
এসব বাস্তব সমস্যার কারণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শক্রমে বিতর্কিত শাখা রাস্তাটি বাদ দিয়ে মূল রাস্তাটি সম্প্রসারিত করে প্রকল্পের নাম ও দৈর্ঘ্য সংশোধনের জন্য উপজেলা কর্তৃপক্ষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠায়। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে ২২ মে ২০২৫ তারিখে জারি করা স্মারক নং ৫১.০১.০০০০.০২৪.১৪.০৬৬.২৪-১০৮৩ মূলে প্রকল্পের আংশিক সংশোধন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। সংশোধিত পরিকল্পনায় (ক) আমিরাবাদ ইউনিয়নের শাইরের পাড়া গিয়াস উদ্দিনের ব্রিকফিল্ডের বিপরীত পাশ হতে হাছির পাড়া মোহাম্মদ সওদাগরের বাড়ি পর্যন্ত ৭২৮ মিটার এবং (খ) পদুয়া ইউনিয়নের দারগামুড়া ইয়াকুব সওদাগরের বাড়ি হতে মুসলিমদিঘী ব্রিজ পর্যন্ত ২৭২ মিটার এই দুই অংশ মিলিয়ে মোট ১০০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করণের সিদ্ধান্ত হয়, বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।
শতভাগ কাজ সম্পন্ন, বাস্তবায়নের প্রমাণ
সরকারি নথি অনুযায়ী, সংশোধিত প্রকল্পের সম্পূর্ণ ১০০০ মিটার রাস্তাই অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী শতভাগ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে বাস্তবায়িত এই সড়কটি এখনও সুস্থ অবস্থায় রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত যানবাহন নিয়ে চলাচল করছেন বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংবাদমাধ্যমে যে অংশে কাজের ছোঁয়া লাগেনি বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে সেই নির্দিষ্ট অংশটি বৈধ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই অংশ প্রকল্পেরই অংশ নয়, এবং সেখানে কাজ না হওয়াকে অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
সিদ্ধান্ত
সরকারি নথি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ব্যাখ্যা পর্যালোচনায় দেখা যায়, লোহাগাড়ার আলোচিত এইচবিবি করণ প্রকল্পে অনুমোদিত পরিবর্তন যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ ১০০০ মিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেই হিসেবে প্রকল্পটিতে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গ্রামীণ মাটির রাস্তা টেকসইকরণের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজ নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সড়কের একাংশে কাজ না হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সরকারি নথি ও প্রকল্প-সংক্রান্ত ব্যাখ্যা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্যগত ভুল ছিল এবং প্রকল্পটিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি।
মূল অভিযোগ ও প্রকৃত তথ্য
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় লোহাগাড়া উপজেলার জন্য প্যাকেজ নং W66DDM HBB-01-এ মোট ১০০০ মিটার রাস্তার জন্য ৭৭ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মূল অনুমোদিত পরিকল্পনায় আমিরাবাদ ইউনিয়নের শাইরের পাড়া গিয়াস উদ্দিনের ব্রিকফিল্ডের বিপরীত পাশ হতে হাছির পাড়া জামাল হোসেনের পুকুর পর্যন্ত এবং একটি শাখা হিসেবে জামালের জমির নিকট হতে জিয়াবুলের বাড়ি পর্যন্ত মোট ৮০০ মিটার এবং পদুয়া ইউনিয়নের দারগামুড়া ইয়াকুব সওদাগরের বাড়ি হতে মুসলিমদিঘী ব্রিজ পর্যন্ত ২০০ মিটার রাস্তা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লোহাগাড়ার পত্র (স্মারক নং-৫১.০১.১৫৪৭.০০০.৪১.০১০.২৫-১০৯, তারিখ ২০/০৩/২০২৫) অনুযায়ী জানা যায়, সরেজমিনে বাস্তবায়নের সময় দেখা যায় জামালের জমির নিকট হতে জিয়াবুলের বাড়ি পর্যন্ত শাখা অংশের প্রায় ৫০-৬০ মিটারে কোনো প্রকৃত রাস্তা ছিল না, ছিল কেবল পায়ে হাঁটার পথ। প্রকল্পের পূর্বশর্ত অনুযায়ী কমপক্ষে ১২ ফুট প্রশস্ত পুরাতন মাটির রাস্তা থাকা আবশ্যক ছিল, যা এই অংশে ছিল না। এছাড়া ওই অংশে বেশ কিছু বড় গাছ থাকায় ইট বসাতে গেলে গাছের শিকড় কাটতে হতো, যা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হয়। পাশাপাশি এই শাখা রাস্তাটি কিছু মানুষের ঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানান।
স্থানীয় পরামর্শে প্রকল্পের বৈধ সংশোধন
এসব বাস্তব সমস্যার কারণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শক্রমে বিতর্কিত শাখা রাস্তাটি বাদ দিয়ে মূল রাস্তাটি সম্প্রসারিত করে প্রকল্পের নাম ও দৈর্ঘ্য সংশোধনের জন্য উপজেলা কর্তৃপক্ষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠায়। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে ২২ মে ২০২৫ তারিখে জারি করা স্মারক নং ৫১.০১.০০০০.০২৪.১৪.০৬৬.২৪-১০৮৩ মূলে প্রকল্পের আংশিক সংশোধন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। সংশোধিত পরিকল্পনায় (ক) আমিরাবাদ ইউনিয়নের শাইরের পাড়া গিয়াস উদ্দিনের ব্রিকফিল্ডের বিপরীত পাশ হতে হাছির পাড়া মোহাম্মদ সওদাগরের বাড়ি পর্যন্ত ৭২৮ মিটার এবং (খ) পদুয়া ইউনিয়নের দারগামুড়া ইয়াকুব সওদাগরের বাড়ি হতে মুসলিমদিঘী ব্রিজ পর্যন্ত ২৭২ মিটার এই দুই অংশ মিলিয়ে মোট ১০০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করণের সিদ্ধান্ত হয়, বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।
শতভাগ কাজ সম্পন্ন, বাস্তবায়নের প্রমাণ
সরকারি নথি অনুযায়ী, সংশোধিত প্রকল্পের সম্পূর্ণ ১০০০ মিটার রাস্তাই অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী শতভাগ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে বাস্তবায়িত এই সড়কটি এখনও সুস্থ অবস্থায় রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত যানবাহন নিয়ে চলাচল করছেন বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংবাদমাধ্যমে যে অংশে কাজের ছোঁয়া লাগেনি বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে সেই নির্দিষ্ট অংশটি বৈধ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই অংশ প্রকল্পেরই অংশ নয়, এবং সেখানে কাজ না হওয়াকে অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
সিদ্ধান্ত
সরকারি নথি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ব্যাখ্যা পর্যালোচনায় দেখা যায়, লোহাগাড়ার আলোচিত এইচবিবি করণ প্রকল্পে অনুমোদিত পরিবর্তন যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ ১০০০ মিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেই হিসেবে প্রকল্পটিতে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন