জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর নেতার স্ট্যাটাস, ‘আলহামদুলিল্লাহ’



বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর নেতার স্ট্যাটাস, ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।


বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছে পাঠানো হয়েছে।


বহিষ্কারের পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মতিউর রহমান সাগর লেখেন, ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল আলহামদুলিল্লাহ।’


এর আগে গত কয়েক মাসে নড়িয়ায় মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।


এ ছাড়া সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ঘটনায় থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান সাগরের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর নেতার স্ট্যাটাস, ‘আলহামদুলিল্লাহ’

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।


বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছে পাঠানো হয়েছে।


বহিষ্কারের পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মতিউর রহমান সাগর লেখেন, ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল আলহামদুলিল্লাহ।’


এর আগে গত কয়েক মাসে নড়িয়ায় মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।


এ ছাড়া সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ঘটনায় থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান সাগরের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত