জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

বাংলাদেশের আদলে ভারতেও সরকার পতনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে: রাজনাথ সিং



বাংলাদেশের আদলে ভারতেও সরকার পতনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে: রাজনাথ সিং

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার আদলে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লখনৌয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রকাশ্যে বলেন, তারা সরকার পরিবর্তন চান। তার এ বক্তব্যের পর বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।


বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা ও ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অভিজিৎ দীপকের পাশে বসে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “হ্যাঁ, আমরা সরকার পরিবর্তন চাই।” তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি করা অপরাধ নয় এবং আন্দোলন এখন মূলত সরকার পরিবর্তনের লড়াই।


প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পর শুক্রবার লখনৌয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন রাজনাথ সিং। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা দেশের তরুণদের বিশৃঙ্খলার রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।


রাজনাথ সিং বলেন, “তারা বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তন করতে চায়। তাদের একজন প্রকাশ্যেই বলেছেন, সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আরেকজন প্রকাশ্যে সরকার পতনের কথা বলেছেন। এসব বক্তব্যেই তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে।”


তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা সরাসরি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তরুণদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ড ও দেশ গঠনের কাজে যুক্ত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।


বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করারও অভিযোগ করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, তাদের আন্দোলন নির্বাচনী সংস্কার, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নয়। বরং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল করাই তাদের উদ্দেশ্য।


বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকেও সতর্ক করে রাজনাথ সিং বলেন, “রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীদের বুঝতে হবে, গণতন্ত্র বিশৃঙ্খলা ছড়ানো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা কিংবা ভারতের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করার কোনো ছাড়পত্র নয়।”


এদিকে প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পর বিরোধীদের বিরুদ্ধে আরও সরব হয়েছে বিজেপি। দলটির অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীরা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। বিজেপির দাবি, এসআইআর ইস্যুটি তাদের বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


সূত্র: এনডিটিভি, মানিকন্ট্রোল, ডেইজি ওয়ার্ল্ড

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশের আদলে ভারতেও সরকার পতনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে: রাজনাথ সিং

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার আদলে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লখনৌয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রকাশ্যে বলেন, তারা সরকার পরিবর্তন চান। তার এ বক্তব্যের পর বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।


বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা ও ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অভিজিৎ দীপকের পাশে বসে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “হ্যাঁ, আমরা সরকার পরিবর্তন চাই।” তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি করা অপরাধ নয় এবং আন্দোলন এখন মূলত সরকার পরিবর্তনের লড়াই।


প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পর শুক্রবার লখনৌয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন রাজনাথ সিং। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা দেশের তরুণদের বিশৃঙ্খলার রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।


রাজনাথ সিং বলেন, “তারা বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তন করতে চায়। তাদের একজন প্রকাশ্যেই বলেছেন, সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আরেকজন প্রকাশ্যে সরকার পতনের কথা বলেছেন। এসব বক্তব্যেই তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে।”


তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা সরাসরি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তরুণদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ড ও দেশ গঠনের কাজে যুক্ত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।


বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করারও অভিযোগ করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, তাদের আন্দোলন নির্বাচনী সংস্কার, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নয়। বরং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল করাই তাদের উদ্দেশ্য।


বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকেও সতর্ক করে রাজনাথ সিং বলেন, “রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীদের বুঝতে হবে, গণতন্ত্র বিশৃঙ্খলা ছড়ানো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা কিংবা ভারতের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করার কোনো ছাড়পত্র নয়।”


এদিকে প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পর বিরোধীদের বিরুদ্ধে আরও সরব হয়েছে বিজেপি। দলটির অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীরা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। বিজেপির দাবি, এসআইআর ইস্যুটি তাদের বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


সূত্র: এনডিটিভি, মানিকন্ট্রোল, ডেইজি ওয়ার্ল্ড


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত