জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে খুরুশকুল বিএনপি নেতা ও সমাজ কমিটির সভাপতি সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা



ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে খুরুশকুল বিএনপি নেতা ও সমাজ কমিটির সভাপতি সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা

পারিবারিক বিরোধ সামাজিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে খুরুশকুলের বিএনপি নেতা ও সমাজ কমিটির সভাপতি সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার দরখাস্ত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক ও সামাজিক একটি বিরোধের সমাধানের জন্য ওই নারী সমাজ কমিটির সভাপতি সিকান্দার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার দিন সিকান্দার আলী মোবাইল ফোনে তাকে কল করে বিরোধের বিষয়ে বৈঠকের কথা বলে কক্সবাজার শহরে আসতে বলেন। একা আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায় ওই নারী আরও দুই নারীকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় আসেন। সেখানে সিকান্দার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি তাদের টমটমযোগে বাস টার্মিনাল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিয়ে যান এবং খাবার খাওয়ান।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, রেস্তোরাঁয় বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয় জানিয়ে সিকান্দার আলী ওই নারীর সঙ্গে থাকা দুই নারীকে হোটেলের নিচে বসিয়ে রেখে তাকে একা একটি আবাসিক হোটেলের ৪০৩ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান।

বাদীর দাবি, হোটেল কক্ষে নেওয়ার পর সামাজিক বিরোধের বিষয়ে আলোচনা না করে সিকান্দার আলী তার প্রতি যৌন উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই নারী বাধা দিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন এবং কক্ষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ সময় ওই নারী ফিরে না আসায় তার সঙ্গে থাকা দুই নারী সন্দেহ করেন। পরে তারা হোটেলে অবস্থানরত দুই ব্যক্তিকে বিষয়টি জানান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি ৪০৩ নম্বর কক্ষে গিয়ে ওই নারীকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাকে সেখান থেকে বের করে আনেন।

ঘটনার পর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় বলেও মামলার দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই নারী তার স্বামীর সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

অভিযোগটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে খুরুশকুল বিএনপি নেতা ও সমাজ কমিটির সভাপতি সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পারিবারিক বিরোধ সামাজিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে খুরুশকুলের বিএনপি নেতা ও সমাজ কমিটির সভাপতি সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার দরখাস্ত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক ও সামাজিক একটি বিরোধের সমাধানের জন্য ওই নারী সমাজ কমিটির সভাপতি সিকান্দার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার দিন সিকান্দার আলী মোবাইল ফোনে তাকে কল করে বিরোধের বিষয়ে বৈঠকের কথা বলে কক্সবাজার শহরে আসতে বলেন। একা আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায় ওই নারী আরও দুই নারীকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় আসেন। সেখানে সিকান্দার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি তাদের টমটমযোগে বাস টার্মিনাল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিয়ে যান এবং খাবার খাওয়ান।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, রেস্তোরাঁয় বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয় জানিয়ে সিকান্দার আলী ওই নারীর সঙ্গে থাকা দুই নারীকে হোটেলের নিচে বসিয়ে রেখে তাকে একা একটি আবাসিক হোটেলের ৪০৩ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান।

বাদীর দাবি, হোটেল কক্ষে নেওয়ার পর সামাজিক বিরোধের বিষয়ে আলোচনা না করে সিকান্দার আলী তার প্রতি যৌন উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই নারী বাধা দিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন এবং কক্ষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ সময় ওই নারী ফিরে না আসায় তার সঙ্গে থাকা দুই নারী সন্দেহ করেন। পরে তারা হোটেলে অবস্থানরত দুই ব্যক্তিকে বিষয়টি জানান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি ৪০৩ নম্বর কক্ষে গিয়ে ওই নারীকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাকে সেখান থেকে বের করে আনেন।

ঘটনার পর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় বলেও মামলার দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই নারী তার স্বামীর সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

অভিযোগটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশক- মুহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত